বন বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, ফাঁদের কারণে বাঘটির সামনের বাম পায়ে গভীর ক্ষত তৈরি হয়েছে। ফাঁদটি ধারালো ও মজবুত হওয়ায় পায়ের নিচের অংশে রক্ত চলাচল দীর্ঘক্ষণ বন্ধ ছিল। সেখানে ঘায়ের মতো রঙ তৈরি হয়েছে। উদ্ধারের পর চিকিৎসকরা জীবাণুনাশক স্প্রে দিয়েছেন। বাঘটি এখনও সম্পূর্ণ আশঙ্কামুক্ত নয় বলে জানানো হয়েছে। আপাতত খাঁচাটি ঢেকে রাখা হয়েছে এবং সেখানে কাউকে প্রবেশ করতে দেওয়া হচ্ছে না।
রোববার (৪ জানুয়ারি) দুপুরে সুন্দরবনের ভিতর থেকে হরিণ শিকারের ফাঁদে আটকা পড়া বাঘটি উদ্ধার করে বন বিভাগ। পূর্ণবয়স্ক স্ত্রী প্রজাতির বাঘটির ওজন প্রায় ১০০ কেজি। প্রায় ৪–৫ দিন ধরে বাঘটি ফাঁদে আটকা ছিল বলে ধারণা করা হচ্ছে। রোববার সন্ধ্যায় ট্রানকুইলাইজার গান ব্যবহার করে অচেতন অবস্থায় বাঘটি খুলনা বন্যপ্রাণী উদ্ধার ও পুনর্বাসন কেন্দ্রে আনা হয়।
বন্যপ্রাণী ব্যবস্থাপনা ও প্রকৃতি সংরক্ষণ বিভাগের বিভাগীয় বন কর্মকর্তা নির্মল কুমার পাল ঢাকা পোস্টকে জানান, বাঘটিকে আনার পর প্রথমে খাবার খাওয়াতে সমস্যা হচ্ছিল। তবে সোমবার সন্ধ্যায় কিছুটা খাবার মুখে নিয়েছে। স্যালাইন মিশ্রিত পানি পান করছে।
কয়েকদিন ধরে বন্দি থাকার কারণে বাঘটি এক ধরনের ট্রমার মধ্যে রয়েছে। রোববার সারারাত খাঁচা থেকে বের হয়নি। সোমবার দুপুর পর্যন্ত মাত্র দুইবার বের হয়েছে। মানুষ দেখলে বাঘটির মধ্যে আতঙ্ক তৈরি হতে পারে, এজন্য খাঁচার চারপাশে ঢেকে রাখা হয়েছে। প্রথমে মুরগি দেওয়া হলেও না খাওয়ায় পরে মুরগি কেটে টুকরো করে দেওয়া হয়েছে। তারপরও কিছুক্ষণ মুখে নেয়নি। গরুর কলিজা দিয়ে খাবারের চেষ্টা চলছে। দীর্ঘক্ষণ না খাওয়ায় বাঘটি দুর্বল হয়ে পড়েছিল। অবশেষে সন্ধ্যায় খাবার খাওয়া নিশ্চিত হয়েছে।