স্থানীয় সময় রোববার (৪ জানুয়ারি) সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেন, “যদি রাশিয়ার তেল ইস্যুতে ভারত আমাদের সহায়তা না করে, তাহলে আমরা ভারতীয় পণ্যের ওপর শুল্ক আরও বাড়াতে পারি।” তার এই বক্তব্যের পর আন্তর্জাতিক বাজার ও কূটনৈতিক মহলে বিষয়টি নিয়ে আলোচনা শুরু হয়।
ট্রাম্প দাবি করেন, ভারত তাকে খুশি করার চেষ্টা করছে। এ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, “তারা আমাকে খুশি করতে চায়। মূলত প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি একজন ভালো মানুষ। তিনি ভালো লোক। তিনি জানতেন যে রাশিয়ার তেল কেনার বিষয়টি নিয়ে আমি খুশি ছিলাম না। আমাকে খুশি করা তাদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ ছিল।”
ট্রাম্প আরও বলেন, ভারত রাশিয়ার সঙ্গে বাণিজ্য করছে এবং তেল কিনছে। এর ফলে যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষে দ্রুত সময়ের মধ্যে ভারতীয় পণ্যের ওপর শুল্ক বৃদ্ধি করা সম্ভব। তার ভাষায়, “তারা বাণিজ্য করে, এবং আমরা খুব দ্রুত তাদের পণ্যে শুল্ক বাড়াতে পারি।”
উল্লেখ্য, দুই সপ্তাহ আগে ডোনাল্ড ট্রাম্প ও ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির মধ্যে টেলিফোনে কথা হয়। শুল্ক ও বাণিজ্য নিয়ে উত্তেজনা থাকা সত্ত্বেও ওই আলোচনায় দুই দেশের মধ্যে ভালো সম্পর্ক বজায় রাখার বিষয়ে তারা একমত হন। তবে সেই আলোচনার পরও ট্রাম্পের কাছ থেকে এমন কঠোর হুমকি আসায় কূটনৈতিক মহলে বিস্ময় তৈরি হয়েছে।
রাশিয়া থেকে তেল কেনার বিষয়ে ভারত আগেই নিজের অবস্থান পরিষ্কার করেছে। নয়াদিল্লির বক্তব্য, দেশের জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্য রুশ তেল তাদের জন্য প্রয়োজনীয়। আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞা ও চাপের মধ্যেও ভারত জ্বালানি সরবরাহ নিশ্চিত করতে এই নীতি অনুসরণ করছে বলে জানিয়েছে তারা।
গত বছর যুক্তরাষ্ট্র ভারতীয় পণ্যের ওপর ৫০ শতাংশ শুল্ক আরোপ করে। সেই শুল্ক এখনো বহাল রয়েছে। এর মধ্যেই নতুন করে শুল্ক বাড়ানোর হুমকি দেওয়ায় ভারতীয় রপ্তানিকারক ও ব্যবসায়ীদের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।
বিশ্লেষকদের মতে, রাশিয়া–ইউক্রেন যুদ্ধের প্রেক্ষাপটে জ্বালানি রাজনীতি এখন বৈশ্বিক কূটনীতির বড় ইস্যু হয়ে উঠেছে। যুক্তরাষ্ট্র চাইছে, তার মিত্র দেশগুলো রাশিয়ার সঙ্গে জ্বালানি বাণিজ্য কমিয়ে দিক। কিন্তু ভারতের মতো বড় অর্থনীতির দেশ নিজের জ্বালানি নিরাপত্তাকে অগ্রাধিকার দিচ্ছে, যা ওয়াশিংটনের সঙ্গে দিল্লির সম্পর্ককে আরও জটিল করে তুলছে।
এই পরিস্থিতিতে যুক্তরাষ্ট্র ও ভারতের মধ্যে বাণিজ্য আলোচনা কোন দিকে যায়, তা এখন আন্তর্জাতিক মহলের নজরে রয়েছে।
সূত্র: এনডিটিভি