জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় শিক্ষার্থী সংসদ (জকসু) নির্বাচনের ভোট গণনা টেকনিক্যাল কারণে সাময়িক সময়ের জন্য স্থগিত করা হয়েছে। মঙ্গলবার (৬ জানুয়ারি) রাত ৯টা ২০ মিনিটে নির্বাচন কমিশনার ড. আনিসুর রহমান ভোট গণনা স্থগিতের ঘোষণা দেন।
তিনি বলেন, ভোট গণনার জন্য আমরা দুটো কোম্পানি থেকে মোট ৬টি মেশিন ব্যবহার করি। তবে কিছুক্ষণ ধরে টেকনিক্যাল সমস্যার কারণে ভোট গণনা বন্ধ রাখতে হয়েছে। তিনি আরও জানান, এখন কেন্দ্রীয় সংসদের সব ভিপি ও জিএস প্রার্থীদের সঙ্গে আলোচনা করা হবে এবং তারপরে পরবর্তী সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হবে।
এর আগে বিকেল ৩টায় ভোটগ্রহণ শেষ হলেও ৩৯টি কেন্দ্র থেকে ব্যালট বাক্স কেন্দ্রীয় নিয়ন্ত্রণ কক্ষে বিশ্ববিদ্যালয়ের সেন্ট্রাল অডিটোরিয়ামে পৌঁছায় বিকেল ৫টায়। মাগরিবের নামাজের পর ভোট গণনা শুরু হলে দুইটি মেশিনে আলাদা ফলাফল দেখা দেয়। যা তিন ঘণ্টারও বেশি সময় ধরে সমাধান করা সম্ভব হয়নি। পরিস্থিতি বিবেচনায় নির্বাচন কমিশন বাধ্য হয়ে ভোট গণনা স্থগিতের সিদ্ধান্ত গ্রহণ করে।
প্রসঙ্গত, গত ৪ জানুয়ারি নির্বাচন কমিশনের উদ্যোগে সব প্যানেলের ভিপি ও জিএস প্রার্থীদের নিয়ে মক ভোটের আয়োজন করা হয়। ভোট শেষে মেশিনে ভোট গণনার পক্ষে সব প্রার্থী লিখিত মতামত প্রদান করেন। সেখানে ছাত্রদল সমর্থিত প্যানেলের জিএস খাদিজাতুল কোবরা ও এজিএস আতিকুর রহমান তানজিল উপস্থিত থেকে সম্মিলিত সিদ্ধান্ত গ্রহণ এবং স্বাক্ষর প্রদান করেন।
কিন্তু ৫ জানুয়ারি ছাত্রদল সমর্থিত প্যানেল হঠাৎ ম্যানুয়ালি ভোট গণনার দাবি জানায়। এই দ্বিধাদ্বন্দ্ব ও প্রযুক্তিগত ত্রুটির কারণে ভোট গণনা স্থগিত রাখতে বাধ্য হয় নির্বাচন কমিশন। বর্তমানে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনার জন্য সব পক্ষের সঙ্গে আলোচনা চলছে এবং পরিস্থিতি অনুকূলে এলে ভোট গণনার কার্যক্রম পুনরায় শুরু করা হবে।
নির্বাচন কমিশনার ড. আনিসুর রহমান জানিয়েছেন, ভোট গণনা পুনরায় শুরু হলে সঠিক ও নির্ভুল ফলাফল নিশ্চিত করতে সব ধরনের ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তিনি ভোটারদেরও ধৈর্য ধরার জন্য অনুরোধ করেন। এছাড়া বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন ও ভোট সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের সঙ্গে সমন্বয় করে দ্রুত সমস্যা সমাধানের চেষ্টা চলছে।
উল্লেখ্য, জকসু নির্বাচনে ভোটার উপস্থিতি প্রায় ৬৫ শতাংশ ছিল। ভোট গণনার দেরি ও স্থগিতের কারণে অংশগ্রহণকারীদের মধ্যে কিছুটা উৎকণ্ঠা দেখা দিয়েছে। তবে নির্বাচন কমিশন আশ্বাস দিয়েছেন যে কোনো ধরনের অনিয়ম ছাড়া সুষ্ঠু ফলাফল ঘোষণা করা হবে।
জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে কেন্দ্রীয় শিক্ষার্থী সংসদ নির্বাচনের এই পরিস্থিতি শিক্ষার্থী সমাজে আলোচনার বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। ভোট গণনা পুনরায় শুরু হলে শিক্ষার্থী সমাজ, প্রার্থী ও সংশ্লিষ্ট সকলকে সচেতনভাবে অংশগ্রহণ করতে বলা হয়েছে।