ঢাকা, বাংলাদেশ ।
  রবিবার, ০১ নভেম্বর ২০২৬,  ১৭ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
তৈরি পোশাকশ্রমিকদের নতুন মজুরি বোর্ড গঠন করল সরকার টিয়ারশেল ও সাউন্ড গ্রেনেডে রণক্ষেত্র মিরপুর, চরম উত্তেজনা ধানখেতে মিললো অজ্ঞাতনামা নারী-পুরুষের অর্ধগলিত মরদেহ জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধির প্রতিবাদে জার্মানিতে জেন জি’র তীব্র বিক্ষোভ কালিয়াকৈরে মহাসড়ক অবরোধ করে শ্রমিক বিক্ষোভ দ্বিতীয় দিনের মতো মিরপুরে সড়ক অবরোধ, বন্ধ যান চলাচল সাইবার হামলার শিকার ডিএমপি নিউজ, ওয়েবসাইটে আপত্তিকর বার্তা খুলনায় রাতের আঁধারে যুবককে কুপিয়ে হত্যা: এলাকায় আতঙ্ক রাষ্ট্রবিরোধী ষড়যন্ত্রের অভিযোগে সাবেক সেনা কর্মকর্তা হাফিজ গ্রেপ্তার দেশের উন্নয়ন অগ্রযাত্রায় যুবসংগঠকদের ভূমিকা অনস্বীকার্য: প্রধানমন্ত্রী

লিভারের সুস্থতায় শীতকালীন ‘সুপারহিরো’ মুলা


  • আপলোড সময় : রবিবার ১১ জানুয়ারী, ২০২৬ সময় : ৩:৩৫ পিএম

ফ্যাটি লিভার বা লিভারের অন্যান্য সমস্যা এখন বিরল নয়। ব্যস্ত জীবনযাপন, প্রক্রিয়াজাত খাবার, মানসিক চাপ ও শারীরিক পরিশ্রমের অভাবে লিভার অতিরিক্ত চাপের মুখে পড়ে। অনেক ক্ষেত্রেই মানুষ বুঝতে পারেন না যে তাদের লিভারের সমস্যা শুরু হয়ে গেছে। সাধারণত রুটিন পরীক্ষার সময় এই সমস্যা ধরা পড়ে। চিকিৎসা অবশ্যই জরুরি, তবে দৈনন্দিন খাবারে সামান্য পরিবর্তনও লিভারের সুস্থতায় বড় ভূমিকা রাখতে পারে। বিশেষ করে শীতকালীন পরিচিত সবজি মুলা লিভারের যত্নে কার্যকর।

ভারতীয় পুষ্টিবিদ নামামি আগারওয়াল মুলাকে লিভারের ‘সুপারহিরো’ আখ্যা দিয়েছেন। তিনি বলেন, কোনো দামি সাপ্লিমেন্ট বা ডিটক্স ড্রিংক নয়, ঘরের এই সাধারণ সবজিটিই লিভারের যত্নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। বিশেষ করে যাদের ফ্যাটি লিভারের ঝুঁকি রয়েছে, তাদের জন্য মুলা অত্যন্ত উপকারী।

মুলার একটি প্রধান গুণ হলো এটি লিভার থেকে ক্ষতিকর টক্সিন বের করতে সাহায্য করে। পুষ্টিবিদের ভাষায়, মুলা প্রাকৃতিকভাবে লিভারকে ডিটক্স করে, ফলে লিভার আরও কার্যকরভাবে কাজ করতে পারে। দীর্ঘদিন ধরে লিভার অতিরিক্ত চাপের মধ্যে থাকা ব্যক্তিদের জন্য এটি বিশেষভাবে উপকারী।

মুলায় প্রচুর ভিটামিন সি ও অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট রয়েছে। এগুলো শরীরের ফ্রি র‍্যাডিকেলের ক্ষতিকর প্রভাব কমাতে সাহায্য করে, যা লিভারের প্রদাহ বাড়িয়ে দিতে পারে। এছাড়া মুলা লিভারের গুরুত্বপূর্ণ কাজ পিত্তরস (bile) তৈরি ও নিঃসরণের প্রক্রিয়া উন্নত করতে সাহায্য করে। পিত্তরসের প্রবাহ সঠিকভাবে থাকলে চর্বি হজম হয়, ফলে ফ্যাটি লিভারের ঝুঁকি কমে।

মুলায় থাকা গ্লুকোসিনোলেটস নামের যৌগ প্রদাহ কমাতে সহায়তা করে। এই উপাদানগুলো এমন সব প্রক্রিয়ার বিরুদ্ধে কাজ করে যা ফ্যাটি লিভারের সমস্যা বাড়াতে পারে। নিয়মিত মুলা খাওয়ায় লিভারের প্রদাহ নিয়ন্ত্রণে রাখা সম্ভব।

খাদ্যতালিকায় মুলা অন্তর্ভুক্ত করাও বেশ সহজ। সকালে খালি পেটে মুলার রস পান করা যেতে পারে, অথবা ভেজানো মুলার পানি খাওয়া যায়। এছাড়া কাঁচা মুলা সালাদে যোগ করা বা দৈনন্দিন রান্নায় মুলা ব্যবহার করা সম্ভব।

তবে পুষ্টিবিদরা মনে করান, মুলা কোনো ম্যাজিক সমাধান নয়। এটি লিভারের ডিটক্স, প্রদাহ নিয়ন্ত্রণ ও চর্বি বিপাকে সহায়তা করলেও সর্বোচ্চ উপকার পেতে হলে প্রয়োজন সুষম খাদ্যাভ্যাস, নিয়মিত ব্যায়াম ও স্বাস্থ্যকর জীবনযাপন। সুস্থ থাকার জন্য সবসময় জটিল কিছু দরকার হয় না; পরিচিত খাবারও স্বাস্থ্যকে শক্তিশালী করতে পারে।

দৈনন্দিন জীবনে মুলার ব্যবহার শুধু লিভারের সুস্থতায় নয়, সামগ্রিক স্বাস্থ্য রক্ষায়ও উপকারী। এটি হজম প্রক্রিয়া উন্নত করে, অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট সরবরাহ করে এবং লিভারের অতিরিক্ত চাপ কমায়। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, স্বাস্থ্যকর জীবনযাপনের অংশ হিসেবে মুলা নিয়মিত খাওয়ায় দীর্ঘমেয়াদে লিভারের কার্যকারিতা বৃদ্ধি পায় এবং ফ্যাটি লিভারের ঝুঁকি উল্লেখযোগ্যভাবে কমে। সুত্র: এনডিটিভি



এ সম্পর্কিত আরো খবর