ম্যানচেস্টারের বোল্টনে একটি সড়ক দুর্ঘটনায় এক ব্রিটিশ-বাংলাদেশিসহ চারজন নিহত হয়েছেন। স্থানীয় সময় রবিবার (১১ জানুয়ারি) রাত ১২টা ৫০ মিনিটে বোল্টনের উইগান রোডে এই ভয়াবহ সংঘর্ষ ঘটে।
স্থানীয় পুলিশ ও সূত্রগুলো জানিয়েছে, একটি লাল রঙের সিট লিওন এবং সিট্রয়েন সি-৪ মডেলের একটি ট্যাক্সির মধ্যে সংঘর্ষ ঘটে। দুর্ঘটনার তীব্রতা এতটাই ছিল যে উভয় যানবাহনই দুমড়েমুচড়ে যায়। এই সংঘর্ষে ঘটনাস্থলেই চারজন নিহত হয়েছেন এবং আরও পাঁচজন গুরুতর আহত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন।
বোল্টন কাউন্সিল অব মস্ক (বিসিওএম) নিহতদের পরিচয় নিশ্চিত করেছে। নিহতদের মধ্যে রয়েছে মোহাম্মদ জিবরায়েল মুখতার, ফারহান প্যাটেল এবং মুহাম্মদ দানিয়াল আসগর আলী। এরা সবাই ১৮ থেকে ১৯ বছরের মধ্যে। অপর নিহত ব্যক্তি হলেন ৫০-এর কোঠার ট্যাক্সিচালক মোসরাব আলী।
গ্রেটার ম্যানচেস্টার পুলিশ (জিএমপি)-এর সিরিয়াস কলিশন ইনভেস্টিগেশন ইউনিট দুর্ঘটনার পূর্ণাঙ্গ তদন্ত শুরু করেছে। পুলিশ জানিয়েছে, উইগান রোডের সিসিটিভি ফুটেজে সংঘর্ষের দৃশ্য ধরা পড়েছে। পুলিশ প্রত্যক্ষদর্শী বা যাদের কাছে ড্যাশক্যাম ফুটেজ রয়েছে, তাদেরকে তা সরবরাহ করার অনুরোধ করেছে।
বোল্টন কাউন্সিলর আইয়ুব প্যাটেল এই দুর্ঘটনাকে পুরো কমিউনিটির জন্য এক বিশাল ক্ষতি হিসেবে বর্ণনা করেছেন। তিনি নিহতদের পরিবার ও পরিবারের সদস্যদের প্রতি গভীর সমবেদনা জানিয়েছেন।
স্থানীয় সংবাদমাধ্যমগুলোর তথ্য অনুযায়ী, দুর্ঘটনার কারণ নির্ণয়ের জন্য পুলিশ সব দিক থেকে তদন্ত চালাচ্ছে। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, গাড়িগুলোর গতিবেগ বেশি এবং নিয়ন্ত্রণ হারানোই প্রধান কারণ হতে পারে। তবে চূড়ান্ত তদন্ত রিপোর্ট পাওয়ার পরই বিস্তারিত জানা যাবে।
স্থানীয় নাগরিক ও কমিউনিটি লিডাররা নিহতদের পরিবারের পাশে থাকার জন্য বিভিন্ন উদ্যোগ নিচ্ছেন। তারা দুর্ঘটনার পর আহতদের চিকিৎসা, পরিবারের সহায়তা এবং কমিউনিটির সচেতনতার জন্য কাজ করছেন।
বোল্টনের এই দুর্ঘটনা শহরের জন্য বড় একটি শোকের ঘটনা হিসেবে দেখা হচ্ছে। স্থানীয়রা নিরাপদ সড়ক ব্যবস্থার উন্নতি এবং যুবসমাজের সড়ক নিরাপত্তা সচেতনতার উপর গুরুত্বারোপ করছেন।