ঢাকা, বাংলাদেশ ।
  বুধবার, ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬,  ১ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
মক্কায় হুতিদের ড্রোন হামলা ব্যর্থ করল সৌদি আজ বিশ্ব ওজোন দিবস: লক্ষ্য বায়ুমণ্ডল ও পরিবেশ সুরক্ষা সরকারি অফিসে জবাবদিহি নিশ্চিতে ডিজিটাল হাজিরার নির্দেশ ৯০ দিন বাড়ল ডাকসুর সময়সীমা, তফসিল ঘোষণাতেই বাতিল হবে কমিটি হামের উপসর্গ নিয়ে আরও ৬ জনের মৃত্যু, নতুন আক্রান্ত ১৩১৬ ডেঙ্গুতে একদিনে আরও ৮ জনের মৃত্যু, আক্রান্ত ১৫৯৩ ইরান-যুক্তরাষ্ট্র উত্তেজনার মধ্যেই চীন সফরে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আরাগচি কিম জং উনের ছেলে সন্তান ঘিরে রহস্য, উত্তরসূরি নিয়ে আন্তর্জাতিক মহলে তর্ক বাংলাদেশের স্বাস্থ্যখাতে চীনের ব্যাপক বিনিয়োগের আহ্বান স্বাস্থ্যমন্ত্রীর ডিএসসিসি কার্যালয়ে প্রশাসকের ঝটিকা পরিদর্শন

প্রথম ঘণ্টায় ২৪ আপিল নিষ্পত্তি, ৭ জনের বাতিল


  • আপলোড সময় : সোমবার ১২ জানুয়ারী, ২০২৬ সময় : ২:৪৪ পিএম

আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে মনোনয়নপত্র বাছাই সংক্রান্ত আপিলের তৃতীয় দিনে প্রথম ঘণ্টায় ২৪টি আপিলের শুনানি সম্পন্ন হয়েছে। এর মধ্যে ১৫টি আপিল মঞ্জুর করা হয়েছে, ৭টি আপিল বাতিল করা হয়েছে এবং দুটি আপিলকে অপেক্ষমান রাখা হয়েছে।

সোমবার (১২ জানুয়ারি) সকাল ১০টা ১০ মিনিটে রাজধানীর আগারগাঁওয়ে নির্বাচন ভবনের অডিটোরিয়ামে (বেজমেন্ট-২) আপিল শুনানি শুরু হয়। শুনানিতে দেখা গেছে যে বিভিন্ন আসনের প্রার্থীদের মনোনয়ন বাতিলের পেছনে বিভিন্ন কারণ রয়েছে।

২৯৮ খাগড়াছড়ি আসনের গণঅধিকার পরিষদের প্রার্থী দীনময় রোয়াজার মনোনয়ন বাতিল করা হয়েছে কারণ তার নামে থাকা একটি ক্রেডিট কার্ডে ২২ হাজার ৭০০ টাকার বিল বকেয়া রয়েছে। চট্টগ্রাম-১১ আসনের গণধিকার পরিষদের প্রার্থী মুহাম্মদ নেজাম উদ্দিনের ৯৭ হাজার ৯৯১ টাকা ঋণ খেলাপি থাকার কারণে তার মনোনয়ন বাতিল করা হয়েছে। চট্টগ্রাম-৯ আসনের বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামের প্রার্থী ডা. এ কে এম ফজলুল হকের দ্বৈত নাগরিকত্ব থাকায় মনোনয়ন বাতিল করা হয়েছে।

ফেনী-২ আসনের স্বতন্ত্র প্রার্থী মো. ইসমাইলের মনোনয়ন বাতিল করা হয়েছে কারণ তার সমর্থনকারীর সংখ্যা প্রয়োজনীয় এক শতাংশের কম। নাটোর-২ আসনের এনপিপি প্রার্থী জি এ এ মুবিন সরকারি চাকরিজীবী ছিলেন এবং তার চাকরি থেকে অব্যাহতির সময় তিন বছর পূর্ণ না হওয়ায় মনোনয়ন বাতিল করা হয়েছে। এছাড়া চট্টগ্রাম-৫ আসনের স্বতন্ত্র প্রার্থী শাকিলা ফারজানাকে ‘নট প্রেসড’ সিদ্ধান্ত দেওয়া হয়েছে।

মানিকগঞ্জ-২ আসনের জাতীয় পার্টির প্রার্থী এস এম আব্দুল মান্নানের মনোনয়ন ঋণ খেলাপি সংক্রান্ত জটিলতার কারণে আপাতত অপেক্ষমান রাখা হয়েছে। একইভাবে, পাবনা-২ আসনের গণফোরাম প্রার্থী শেখ নাসির উদ্দিনের মনোনয়নপত্রও শুনানি স্থগিত থাকায় অপেক্ষমান রাখা হয়েছে।

উপযুক্ত দল ও প্রার্থীদের মনোনয়ন যাচাইয়ে নির্বাচন কমিশন নিয়মিত আপিল গ্রহণ করছে। প্রতিটি আপিলের ক্ষেত্রে প্রার্থীর আর্থিক স্থিতি, নাগরিকত্ব এবং সমর্থক তালিকার যথার্থতা যাচাই করা হয়। আপিল শুনানিতে প্রার্থী বা তাদের আইনজীবীরা উপস্থিত থেকে যুক্তি উপস্থাপন করেন এবং কমিশনের কর্মকর্তারা প্রয়োজনীয় নথি যাচাই করেন।

প্রার্থী ও দলের পক্ষ থেকে করা আপিলগুলো নিয়ে কমিশন সিদ্ধান্ত নেয়ার সময় আইনগত বিধি-বিধান এবং নির্বাচনী নিয়মাবলি অনুসরণ করে। এ প্রক্রিয়ায় প্রার্থীরা ন্যায্যভাবে অভিযোগ জানাতে পারে এবং কমিশন সেই অনুযায়ী সিদ্ধান্ত গ্রহণ করে।

এই শুনানি নির্বাচন কমিশনের স্বচ্ছতা ও প্রক্রিয়ার মানদণ্ড নিশ্চিত করার অংশ। আপিলের মাধ্যমে প্রার্থীরা অনাকাঙ্ক্ষিতভাবে বাতিল হওয়া মনোনয়ন পুনর্বিবেচনার সুযোগ পাচ্ছেন। প্রতিটি শুনানি নির্বাচন কমিশনের রেকর্ডে সংরক্ষিত হচ্ছে এবং আদালতেও প্রমাণ হিসেবে ব্যবহারযোগ্য।

আগামী দিনে বাকি আপিলের শুনানি সম্পন্ন হওয়ার পর প্রতিটি আসনের চূড়ান্ত মনোনয়ন তালিকা প্রকাশ করা হবে। এটি ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের প্রস্তুতির একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ, যা নির্বাচন প্রক্রিয়াকে ন্যায্য ও স্বচ্ছ রাখে।


এ সম্পর্কিত আরো খবর