ঢাকা, বাংলাদেশ ।
  বুধবার, ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬,  ১ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
৯০ দিন বাড়ল ডাকসুর সময়সীমা, তফসিল ঘোষণাতেই বাতিল হবে কমিটি হামের উপসর্গ নিয়ে আরও ৬ জনের মৃত্যু, নতুন আক্রান্ত ১৩১৬ ডেঙ্গুতে একদিনে আরও ৮ জনের মৃত্যু, আক্রান্ত ১৫৯৩ ইরান-যুক্তরাষ্ট্র উত্তেজনার মধ্যেই চীন সফরে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আরাগচি কিম জং উনের ছেলে সন্তান ঘিরে রহস্য, উত্তরসূরি নিয়ে আন্তর্জাতিক মহলে তর্ক বাংলাদেশের স্বাস্থ্যখাতে চীনের ব্যাপক বিনিয়োগের আহ্বান স্বাস্থ্যমন্ত্রীর ডিএসসিসি কার্যালয়ে প্রশাসকের ঝটিকা পরিদর্শন জ্বালানি হামলা বন্ধের প্রস্তাবে ডোনাল্ড ট্রাম্পকে কী বলল মস্কো? পবিত্র মক্কা, জেদ্দা ও তাইফে জরুরি সতর্কতা জারি করল সৌদি আরব ৭ জনের ফাঁসির রায়ে ককটেল বিস্ফোরণ বড় বিষয় নয়: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

নির্বাচনের আগে রেমিট্যান্সে চাঙাভাব


  • আপলোড সময় : শুক্রবার ১৬ জানুয়ারী, ২০২৬ সময় : ১:১৬ পিএম

আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও পবিত্র রমজান মাস সামনে রেখে প্রবাসীদের পাঠানো রেমিট্যান্সে ইতিবাচক প্রবণতা দেখা যাচ্ছে। সময় যত ঘনিয়ে আসছে, দেশের বৈদেশিক মুদ্রা আয়ের অন্যতম প্রধান উৎস প্রবাসী আয়ও তত বাড়ছে। চলতি জানুয়ারি মাসের প্রথম ১৪ দিনেই দেশে এসেছে প্রায় ১ দশমিক ৭ বিলিয়ন ডলারের রেমিট্যান্স। এই ধারা অব্যাহত থাকলে আগামী মাসগুলোতে দেশের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভে ইতিবাচক প্রভাব পড়বে বলে আশা করছেন সংশ্লিষ্টরা।

বিশেষজ্ঞদের মতে, নির্বাচন ও রমজানকে কেন্দ্র করে প্রবাসীদের পরিবারের ব্যয় বাড়ে। এ কারণে তারা স্বাভাবিক সময়ের তুলনায় বেশি অর্থ দেশে পাঠান। পাশাপাশি ধর্মীয় উপলক্ষকে সামনে রেখে দান ও সহযোগিতার প্রবণতাও বৃদ্ধি পায়। এসব কারণেই সাম্প্রতিক সময়ে রেমিট্যান্স প্রবাহে চাঙাভাব লক্ষ্য করা যাচ্ছে।

পরিসংখ্যান অনুযায়ী, সদ্য শেষ হওয়া ডিসেম্বর মাসে দেশে প্রবাসী আয় এসেছে ৩২২ কোটি ডলার, যা একক মাস হিসেবে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ। দেশের ইতিহাসে সর্বোচ্চ প্রবাসী আয় ছিল ৩২৯ কোটি ডলার, যা এসেছিল গত বছরের মার্চ মাসে। তখন ঈদুল ফিতরের আগে প্রবাসীরা বিপুল পরিমাণ অর্থ দেশে পাঠিয়েছিলেন।

বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য বলছে, সদ্য শেষ হওয়া ২০২৫ সালে দেশে মোট প্রবাসী আয় দাঁড়িয়েছে ৩ হাজার ২৮২ কোটি ডলার, যা প্রায় দেশের বৈদেশিক মুদ্রার মোট মজুতের সমপরিমাণ। অর্থনীতিবিদরা মনে করছেন, এ ধারা অব্যাহত থাকলে বৈদেশিক লেনদেনে চাপ অনেকটাই কমবে।

চলতি অর্থবছরের মাসভিত্তিক হিসাব অনুযায়ী, জুলাই মাসে এসেছে ২৪৭ কোটি ৭৮ লাখ ডলার, আগস্টে ২৪২ কোটি ১৯ লাখ ডলার, সেপ্টেম্বরে ২৬৮ কোটি ৫৮ লাখ ডলার, অক্টোবরে ২৫৬ কোটি ৩৫ লাখ ডলার, নভেম্বরে ২৮৮ কোটি ৯৫ লাখ ডলার এবং ডিসেম্বরে ৩২২ কোটি ৬৬ লাখ ডলার রেমিট্যান্স। প্রতিটি মাসেই আগের বছরের তুলনায় ইতিবাচক প্রবৃদ্ধি দেখা গেছে।

ব্যাংক খাতের সংশ্লিষ্টরা জানান, ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর থেকে প্রবাসী আয়ের প্রবৃদ্ধি আরও গতি পেয়েছে। অর্থ পাচার কমে যাওয়ায় অবৈধ হুন্ডি ব্যবসাও অনেকটাই নিয়ন্ত্রণে এসেছে। একই সঙ্গে ব্যাংকিং চ্যানেলে ডলারের বিনিময় হার কয়েক মাস ধরে স্থিতিশীল থাকায় প্রবাসীরা বৈধ পথে অর্থ পাঠাতে উৎসাহিত হচ্ছেন।

কেন্দ্রীয় ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, সম্প্রতি এশিয়ান ক্লিয়ারিং ইউনিয়নের বিল পরিশোধের পর গত ৮ জানুয়ারি দেশের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ দাঁড়িয়েছে ৩২ দশমিক ৪৩ বিলিয়ন ডলার। চলতি মাসে আকুর বিল বাবদ বাংলাদেশ ব্যাংক ১৫৩ কোটি ডলার পরিশোধ করেছে। আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের বিপিএম-৬ পদ্ধতি অনুযায়ী বর্তমানে রিজার্ভের পরিমাণ ২৭ দশমিক ৮৪ বিলিয়ন ডলার।

বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, নির্বাচন ও রমজান ঘিরে এই রেমিট্যান্স প্রবাহ অব্যাহত থাকলে অর্থনীতিতে স্থিতিশীলতা বাড়বে এবং ডলার সংকট মোকাবিলায় তা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।


এ সম্পর্কিত আরো খবর