কুমিল্লার নাঙ্গলকোট উপজেলায় আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের মধ্যে ভয়াবহ সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এতে গুলিবিদ্ধ হয়ে দুইজনের মৃত্যু হয়েছে। সংঘর্ষে আরও অন্তত ১২ থেকে ১৫ জন গুরুতর আহত হয়েছেন। শুক্রবার (১৬ জানুয়ারি) দুপুরে উপজেলার আলিয়ারা গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্র জানায়, আলিয়ারা এলাকার আবুল খায়ের মেম্বার গ্রুপ ও সালেহ আহম্মদ মেম্বার গ্রুপের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে আধিপত্য ও প্রভাব বিস্তার নিয়ে বিরোধ চলে আসছিল। এর জের ধরে শুক্রবার দুপুরে দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষের সূত্রপাত হয়। সংঘর্ষের একপর্যায়ে আগ্নেয়াস্ত্র ব্যবহার করা হলে ঘটনাস্থলেই গুলিবিদ্ধ হন কয়েকজন।
এ ঘটনায় নিহতরা হলেন আলিয়ারা এলাকার দেলোয়ার হোসেন নয়ন এবং একই এলাকার আব্দুর রাজ্জাক। গুরুতর আহত অবস্থায় তাদের উদ্ধার করে হাসপাতালে নেওয়া হলেও চিকিৎসকরা তাদের মৃত ঘোষণা করেন। সংঘর্ষে আহত অন্যান্যদের মধ্যে কয়েকজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক বলে জানা গেছে।
নাঙ্গলকোট থানা-পুলিশ জানায়, সংঘর্ষে আহত ১২ থেকে ১৫ জনকে উদ্ধার করে কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। আহতদের মধ্যে কেউ কেউ গুলিবিদ্ধ, আবার কেউ লাঠি ও দেশীয় অস্ত্রের আঘাতে আহত হয়েছেন। হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, আহতদের চিকিৎসা চলছে এবং কয়েকজনের অবস্থা গুরুতর।
পুলিশ জানায়, একই এলাকার এই দুই গ্রুপের মধ্যে বিরোধের কারণে এর আগেও একাধিকবার সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। গত বছর একই বিরোধের জেরে নিহত হন ইউপি সদস্য মো. আলাউদ্দিন (৫৫)। তিনি উপজেলার বক্সগঞ্জ ইউনিয়নের দক্ষিণ আলিয়ারা গ্রামের বাসিন্দা ছিলেন। সেই ঘটনার পরও এলাকায় উত্তেজনা পুরোপুরি প্রশমিত হয়নি।
নাঙ্গলকোট থানা-পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আরিফুর রহমান জানান, দুই পক্ষের মধ্যে বিরোধ দীর্ঘদিনের। সংঘর্ষের আশঙ্কায় ঘটনার পরপরই এলাকায় পুলিশ ও সেনাবাহিনী মোতায়েন করা হয়েছে। বর্তমানে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রয়েছে এবং এলাকায় অতিরিক্ত নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে।
তিনি আরও জানান, আহতদের দ্রুত হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে এবং নিহতদের মরদেহ ময়নাতদন্তের প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে। এ ঘটনায় জড়িতদের শনাক্ত করে গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে। ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
স্থানীয়রা জানান, সংঘর্ষের সময় এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। গোলাগুলির শব্দে অনেকেই ঘর ছেড়ে নিরাপদ স্থানে আশ্রয় নেন। ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ হয়ে যায় এবং যান চলাচলও সাময়িকভাবে ব্যাহত হয়।
আইনশৃঙ্খলা বাহিনী জানায়, পরিস্থিতি স্থিতিশীল রাখতে এলাকায় টহল জোরদার করা হয়েছে। পাশাপাশি সংঘর্ষের মূল কারণ ও এর পেছনের ঘটনা খতিয়ে দেখতে তদন্ত শুরু করা হয়েছে।
আকাশজমিন /
আরআর