বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) পরিচালক এম নাজমুল ইসলামের একের পর এক বিতর্কিত ও বিস্ফোরক মন্তব্য দেশের ক্রিকেটাঙ্গনে তীব্র আলোড়ন সৃষ্টি করেছে। তার বক্তব্য ঘিরে তৈরি হওয়া পরিস্থিতিতে ক্ষুব্ধ ক্রিকেটাররা সব ধরনের খেলা বর্জনের ঘোষণাও দেন, যা সরাসরি প্রভাব ফেলে বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগের (বিপিএল) ঢাকা পর্বে। পরিস্থিতির চাপে প্রথম দিনের দুটি ম্যাচ মাঠেই গড়ায়নি।
এই অচলাবস্থা নিরসনে বৃহস্পতিবার দিনভর বিসিবির ভেতরে চলে নানা নাটকীয় আলোচনা ও বৈঠক। শেষ পর্যন্ত এম নাজমুল ইসলামকে বিসিবির অর্থ কমিটির চেয়ারম্যানের পদ থেকে সরিয়ে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেয় বোর্ড। বিসিবির পরিচালকদের সঙ্গে বৈঠকের পর এই সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানান ক্রিকেটাররা এবং শুক্রবার থেকেই মাঠে ফেরার ঘোষণা দেন।
তবে যাকে ঘিরে এত আলোচনা ও সমালোচনা, সেই এম নাজমুল ইসলামের সঙ্গে সারাদিন যোগাযোগের চেষ্টা করেও ব্যর্থ হয় বিসিবি। বৃহস্পতিবার রাতে রাজধানীর গুলশানে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে বিষয়টি নিশ্চিত করেন বিসিবির পরিচালক ও বিপিএল গভর্নিং কাউন্সিলের সদস্য সচিব ইফতেখার রহমান মিঠু।
তিনি জানান, এম নাজমুল ইসলামকে কারণ দর্শানোর নোটিশ বা শোকজ দেওয়া হয়েছে। তবে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে তার পক্ষ থেকে কোনো জবাব পাওয়া যায়নি। বিসিবির গঠনতন্ত্র অনুযায়ী শোকজের জবাব দেওয়ার জন্য সংশ্লিষ্ট পরিচালককে ৪৮ ঘণ্টা সময় দেওয়া হয়। সেই সময়সীমা শেষ হবে ১৭ জানুয়ারি দুপুরে।
ইফতেখার রহমান মিঠু বলেন, “আমরা গঠনতন্ত্রের অধীনেই চলি। প্রক্রিয়া অনুযায়ী তাকে শোকজ করা হয়েছে এবং ৪৮ ঘণ্টা সময় দেওয়া হয়েছে। এই সময়ের মধ্যে জবাব না এলে বিষয়টি বিসিবির ডিসিপ্লিনারি কমিটিতে পাঠানো হবে।”
শোকজের জবাব পাওয়ার পর পরবর্তী করণীয় সম্পর্কেও পরিষ্কার ধারণা দেন তিনি। তার ভাষায়, বিসিবির ডিসিপ্লিনারি কমিটি গঠনতন্ত্র অনুযায়ী তাদের নিজস্ব প্রক্রিয়ায় পুরো বিষয়টি পর্যালোচনা করবে। তিনি আরও জানান, সারাদিন এম নাজমুল ইসলামের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হয়েছে, এমনকি তাকে সংবাদ সম্মেলনে আনার উদ্যোগও ছিল, কিন্তু কোনোভাবেই যোগাযোগ সম্ভব হয়নি।
নির্ধারিত সময়ের মধ্যেও যদি এম নাজমুল ইসলাম শোকজের জবাব না দেন, তাহলে তার বিরুদ্ধে আরও কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হতে পারে বলে ইঙ্গিত দেন ইফতেখার রহমান মিঠু। তিনি বলেন, জবাব না দিলে এর পরিণতি কী হতে পারে, তা বোঝাই যায়। আদালতে হাজিরা না দিলে যেমন পরিণতি হয়, এখানেও তেমনটাই হতে পারে।
এমন পরিস্থিতিতে এম নাজমুল ইসলাম বিসিবির পরিচালক পদ থেকেও অপসারিত হতে পারেন বলে ধারণা করা হচ্ছে। ইতোমধ্যে পুরো বিষয়টি বিসিবির ডিসিপ্লিনারি কমিটিকেও জানানো হয়েছে। এ প্রসঙ্গে ইফতেখার রহমান মিঠু জানান, ডিসিপ্লিনারি কমিটির চেয়ারম্যান ফায়াজুর রহমান মিতুর সঙ্গেও আলোচনা হয়েছে এবং বিসিবির গঠনতন্ত্র অনুযায়ী বিষয়টির নিষ্পত্তি করা হবে।
আকাশজমিন /
আরআর