আন্তর্জাতিক ডেস্ক
ইরান একটি সম্পূর্ণ ভিন্নরকম শাসনব্যবস্থায় পরিচালিত দেশ। দেশটির শাসন কাঠামোতে রাষ্ট্রের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ পদ হল প্রেসিডেন্ট, আর সর্বাধিক ক্ষমতার অধিকারী সুপ্রিম লিডার। এছাড়া পার্লামেন্ট, গার্ডিয়ান কাউন্সিল, বিশেষজ্ঞ পরিষদ এবং এক্সপেডিয়েন্সি কাউন্সিলও দেশের শাসনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।
প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হন জনগণের ভোটে। তবে দেশটির সর্বোচ্চ নেতা নির্বাচন করেন ৮৮ সদস্যের বিশেষজ্ঞ পরিষদ। এভাবে, ইরানের শাসন ক্ষমতা মূলত সর্বোচ্চ নেতার হাতে কেন্দ্রীভূত। তিনি দেশের সামরিক বাহিনীর শীর্ষ কমান্ডার এবং সব নিরাপত্তা বাহিনী তাঁর নিয়ন্ত্রণে। একই সঙ্গে বিচার বিভাগের প্রধানও নিয়োগ দেন সর্বোচ্চ নেতা। ১৯৭৯ সালের ইসলামি বিপ্লবের পর থেকে মাত্র দু’জন ব্যক্তি এই পদে অধিষ্ঠিত হয়েছেন। আয়াতুল্লাহ রুহুল্লাহ খোমেনির মৃত্যুর পর ১৯৮৯ সাল থেকে এই পদে রয়েছেন আয়াতুল্লাহ আলি খামেনি।
ভোটে নির্বাচিত প্রেসিডেন্ট দেশের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ পদধারী। তিনি সংবিধান বাস্তবায়নের দায়িত্ব পালন করেন, অভ্যন্তরীণ নীতি নির্ধারণ, অর্থনৈতিক নীতি প্রণয়ন ও মন্ত্রিসভার সদস্যদের নিয়োগের ক্ষমতা রাখেন। ইরানের সংবিধান অনুসারে একজন ব্যক্তি একবারের বেশি প্রেসিডেন্ট হতে পারেন না। প্রেসিডেন্টকে অভিশংসনের মুখোমুখি করতে পারে পার্লামেন্ট।
ইরানের পার্লামেন্টের নাম মজলিস। এতে ২৯০ জন সদস্য রয়েছেন, যারা চার বছরের জন্য নির্বাচিত হন। পার্লামেন্ট আইন তৈরি, জাতীয় বাজেট অনুমোদন বা প্রত্যাখ্যানের ক্ষমতা রাখে। তবে পার্লামেন্টে পাস হওয়া আইন কার্যকর করতে গার্ডিয়ান কাউন্সিলের অনুমোদন বাধ্যতামূলক।
গার্ডিয়ান কাউন্সিল ইরানের সবচেয়ে প্রভাবশালী প্রতিষ্ঠান। পার্লামেন্টে পাস হওয়া যেকোনো বিলে ভেটো দেওয়ার ক্ষমতা রয়েছে ১২ সদস্যের এই কাউন্সিলের। এছাড়া তারা প্রেসিডেন্ট ও পার্লামেন্ট নির্বাচনের প্রার্থী নির্ধারণের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেয়। গার্ডিয়ান কাউন্সিলের ছয় সদস্যকে নিয়োগ দেন সর্বোচ্চ নেতা, বাকিদের নাম প্রস্তাব করে আইন বিভাগ এবং চূড়ান্ত অনুমোদন দেয় পার্লামেন্ট।
বিশেষজ্ঞ পরিষদ ৮৮ সদস্যের এবং এই পরিষদই সর্বোচ্চ নেতা নির্বাচন করে। শীর্ষ নেতার কাজের ওপর নজরদারি করার ক্ষমতাও তাদের রয়েছে। অযোগ্য মনে হলে তাঁকে পদচ্যুত করার ক্ষমতাও আছে। প্রতি আট বছর অন্তর বিশেষজ্ঞ পরিষদের ভোটাভুটি অনুষ্ঠিত হয়। সুপ্রিম লিডারকে পরামর্শ দেয়ার জন্য রয়েছে ৪৫ সদস্যের এক্সপেডিয়েন্সি কাউন্সিল, যাদের সবাইকে নিয়োগ দেন সর্বোচ্চ নেতা নিজে।
দেশের প্রধান বিচারপতি নিয়োগও দেন সর্বোচ্চ নেতা। প্রধান বিচারপতি দেশের বিচার বিভাগের প্রধান হিসেবে ইসলামি আইনের প্রয়োগ নিশ্চিত করেন।
এই শাসন কাঠামো ইরানকে বিশ্বের অন্যতম ব্যতিক্রমী রাজনৈতিক ব্যবস্থা হিসেবে তুলে ধরে, যেখানে নির্বাচিত কর্মকর্তারা কার্যকর প্রশাসন চালায়, কিন্তু চূড়ান্ত ক্ষমতা সর্বোচ্চ নেতার হাতে কেন্দ্রীভূত।
আকাশজমিন /
আরআর