ঢাকা, বাংলাদেশ ।
  বুধবার, ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬,  ১ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
সিরাজগঞ্জে বেপরোয়া গরু চোরচক্র, আতঙ্কে কৃষক-খামারিরা আজ কমতে পারে তাপমাত্রা, স্বস্তির বৃষ্টির পূর্বাভাস দুপুর ১২টায় প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে আজ বিশেষ সংবাদ সম্মেলন রাশিয়ার হুমকিতে ফ্রান্সের পারমাণবিক ছাতায় ফিনল্যান্ড জাপানে শতবর্ষী প্রবীণের সংখ্যা ১ লাখ ৭ হাজার, ৮৮ শতাংশই নারী মোহাম্মদপুরে মধ্যরাতে পার্কিং করা বাসে আগুন নন্দিগ্রাম-রেজিনগরের উপনির্বাচন মুসলিমদের জন্য পরীক্ষা: শুভেন্দু অধিকারী মিয়ানমার জান্তাকে তথ্য সরবরাহের অভিযোগে তদন্তের মুখে টেলিনর ইস্ট-ওয়েস্ট পাইপলাইনে ড্রোন হামলা: স্তব্ধ সৌদির বিশ্বব্যাপী তেল রপ্তানি থানচির বলিপাড়ায় আগুনে ১৩ দোকান ভস্মীভূত

ইরাকের আইন আল-আসাদ ঘাঁটি ছাড়লো যুক্তরাষ্ট্রের সেনারা


  • আপলোড সময় : রবিবার ১৮ জানুয়ারী, ২০২৬ সময় : ৪:৪৩ পিএম

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

ইরাকের আইন আল-আসাদ বিমানঘাঁটি থেকে যুক্তরাষ্ট্রের সেনারা পুরোপুরি সরে গেছে। ঘাঁটিতে মার্কিন সেনাদের পাশাপাশি তাদের নেতৃত্বাধীন অন্যান্য দেশের সেনারাও অবস্থান করতেন। যুক্তরাষ্ট্রের সেনারা চলে যাওয়ার পর ঘাঁটির পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ এখন ইরাকের সেনাবাহিনীর হাতে।

ইরাকের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় গতকাল শনিবার (১৭ জানুয়ারি) এ তথ্য জানিয়েছে। এক কর্নেলের বরাতে জানা গেছে, অল্প কয়েকজন সেনা এখনও কিছু লজিস্টিক কাজের জন্য ঘাঁটিতে উপস্থিত রয়েছেন। কাজ শেষ হলে তারাও চলে যাবেন। নিরাপত্তাজনিত কারণে তার বেশি তথ্য প্রকাশ করা হয়নি।

আইন আল-আসাদ বিমানঘাঁটি ইতিহাসে বিশেষ পরিচিত। ২০২০ সালে ইরাকের রাজধানী বাগদাদে ইরানের ইসলামিক বিপ্লবী গার্ডের কুদস ফোর্সের প্রধান কাসেম সোলাইমানিকে হত্যা করার পর যুক্তরাষ্ট্র এই ঘাঁটিতে সেনা স্থাপন করেছিল। এর পরপরই ইরান আইনের এ ঘাঁটিতে বিপুল সংখ্যক মিসাইল ছুঁড়ে হামলা চালায়। হামলার তীব্রতা এত বেশি ছিল যে সেই সময়ে সেখানে অবস্থানরত মার্কিন সেনাদের অনেকের মানসিক সমস্যা দেখা দিয়েছিল। ঘাঁটিতে অনেক স্থাপনা ক্ষতিগ্রস্ত হয়।

২০২৪ সালে ইরাক ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে সেনা প্রত্যাহার সংক্রান্ত একটি চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়। চুক্তি অনুযায়ী ধাপে ধাপে যুক্তরাষ্ট্রের সেনারা ইরাক থেকে সরে যেতে থাকবে। এর অংশ হিসেবে আইনের এ ঘাঁটি থেকে সেনারা সরেছে। জানা যায়, যুক্তরাষ্ট্র ২০২৫ সালের সেপ্টেম্বর মাসে শত শত সেনা প্রত্যাহার শুরু করেছিল এবং ২০২৬ সালের মধ্যে পুরো ঘাঁটি খালি করার পরিকল্পনা রয়েছে।

ইরাকি সেনাবাহিনীর কর্নেল জানিয়েছেন, ঘাঁটিতে কয়েকজন সেনা এখনও অবস্থান করছেন, তবে তারা শুধুমাত্র লজিস্টিক ও পরিচালন সংক্রান্ত কাজে সীমিত আছেন। তাদের কাজ শেষ হলে ঘাঁটিটি সম্পূর্ণরূপে ইরাকি সেনাবাহিনীর নিয়ন্ত্রণে চলে যাবে।

ঘাঁটির নিয়ন্ত্রণ হস্তান্তর ইরাকের নিরাপত্তা ব্যবস্থার জন্য গুরুত্বপূর্ণ। আইনের এ ঘাঁটি শুধু সামরিক প্রয়োজনে নয়, ইরাকের আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক নিরাপত্তার জন্যও কৌশলগত গুরুত্ব বহন করে। মার্কিন সেনাদের সরে যাওয়ার ফলে স্থানীয় নিরাপত্তা ও ব্যবস্থাপনায় ইরাকি বাহিনী আরও দায়িত্বশীল হয়ে উঠবে।

রয়টার্স সূত্র জানায়, আইন আল-আসাদ ঘাঁটির উপর মার্কিন সেনাদের উপস্থিতি মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক উপস্থিতির গুরুত্বপূর্ণ অংশ ছিল। এখানে ড্রোন, বিমান ও অন্যান্য দূরপাল্লার সামরিক কার্যক্রম পরিচালনা করা হতো। এখন এই কার্যক্রমের দায়িত্ব ইরাকের সেনাবাহিনী গ্রহণ করবে।

এ পরিস্থিতি মধ্যপ্রাচ্য রাজনীতিতে নতুন মাত্রা যোগ করছে। যুক্তরাষ্ট্রের সেনাদের প্রত্যাহার ইরাকি সেনাবাহিনীকে আরও স্বনির্ভর করার সুযোগ দেবে। এর ফলে ঘাঁটিতে সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার মাধ্যমে দেশটি নিরাপত্তা ও কৌশলগত দিক থেকে আরও শক্তিশালী অবস্থান নিশ্চিত করতে পারবে।

আইন আল-আসাদ ঘাঁটির পুনরায় পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ গ্রহণ ইরাকের প্রতিরক্ষা কাঠামোর জন্য একটি বড় পদক্ষেপ। এটি প্রমাণ করে যে দেশটির সেনাবাহিনী তাদের নিজস্ব সামরিক ও নিরাপত্তা ক্ষমতা বাড়াতে সক্ষম। এছাড়া, মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক উপস্থিতি ও কার্যক্রম সীমিত হওয়ার পরিপ্রেক্ষিতে আঞ্চলিক রাজনৈতিক ও নিরাপত্তাজনিত ভারসাম্যেও পরিবর্তন আসার সম্ভাবনা রয়েছে।

আকাশজমিন / আরআর 


এ সম্পর্কিত আরো খবর