ঢাকা, বাংলাদেশ ।
  রবিবার, ১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬,  ২৯ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
রাজনৈতিক দুর্বৃত্তায়ন ও চাঁদাবাজি কঠোর হাতে দমন করা হবে: আইনমন্ত্রী ভারতের সঙ্গে সম্পর্কের নতুন অধ্যায় চায় বাংলাদেশ: পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী ডেঙ্গুতে আরও ৬ প্রাণহানি, এক দিনে হাসপাতালে ১৫৬১ জন ভর্তি গণতন্ত্রকে শক্তিশালী করতে স্থানীয় সরকার ব্যবস্থা জোরদার করতে হবে: রাষ্ট্রপতি আসিফ মাহমুদের বিরুদ্ধে ১১ হাজার কোটি টাকা পাচারের অভিযোগ: দুদক ‘বারবার মিথ্যা মামলা না দিয়ে আমাকে একবারে গুলি করে মেরে ফেলেন’ ২১ সেপ্টেম্বর যুক্তরাষ্ট্র সফরে যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বাংলাদেশে নতুন গ্যাসক্ষেত্র অনুসন্ধানে বিনিয়োগে আগ্রহী মার্কিন কোম্পানি শেভরন পাবনায় ডিবির ওসির প্রত্যাহারে সাংবাদিকদের ২৪ ঘণ্টার আলটিমেটাম গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠায় শক্তিশালী স্থানীয় সরকারের বিকল্প নেই: ড. আবদুল মঈন খান

সিরাজগঞ্জে লুণ্ঠিত অস্ত্র অর্ধেকই উদ্ধার হয়নি


  • আপলোড সময় : রবিবার ১৮ জানুয়ারী, ২০২৬ সময় : ৪:৪৫ পিএম

সিরাজগঞ্জ প্রতিনিধি 

২০২৪ সালের ৪ আগস্ট সিরাজগঞ্জের এনায়েতপুর ও হাটিকুমরুল হাইওয়ে থানায় ভয়াবহ হামলার ঘটনা ঘটে। ওই সময় দুই থানার থেকে ১০টি চাইনিজ রাইফেল, ১২টি পিস্তল, ৬টি শর্টগান এবং পাঁচ শতাধিক রাউন্ড গুলি লুট হয়। হামলায় ১৫ জন পুলিশ সদস্য নিহত হন। ঘটনার ১৭ মাস পার হওয়ার পরও লুণ্ঠিত অস্ত্রের অর্ধেক উদ্ধার করা সম্ভব হয়নি। স্থানীয় ভোটার ও প্রার্থীরা উদ্বিগ্ন, কারণ নির্বাচনের আগে এসব অস্ত্র উদ্ধার না হলে তা আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নিরাপত্তা ঝুঁকি তৈরি করতে পারে। বিশেষ করে চরাঞ্চল ও দুর্গম এলাকায় ভোটারদের নিরাপত্তা নিয়ে জনমনে আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।

লুণ্ঠিত মোট ২৮টি অস্ত্রের মধ্যে ১৪টি এখনো উদ্ধার করা সম্ভব হয়নি। নিরাপত্তা বিষয়ক সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, অস্ত্র উদ্ধারের জন্য পুলিশ ও সেনাবাহিনী অভিযান চালাচ্ছে। তবে এ ধরনের অস্ত্র ছড়িয়ে থাকার কারণে জনমনে ভয়ের পরিবেশ তৈরি হচ্ছে। সম্প্রতি দেশের বিভিন্ন স্থানে রাজনৈতিক সহিংসতা এবং সিরাজগঞ্জে এক কলেজ ছাত্রকে কুপিয়ে হত্যা করার ঘটনা এই উদ্বেগ আরও বাড়িয়েছে।

সিরাজগঞ্জ-২ আসনের বিএনপি মনোনীত প্রার্থী ইকবাল হাসান মাহমুদ বলেন, "আমরা বারবার নির্বাচনের আগে কেয়ারটেকার সরকারের কাছে দাবি জানিয়েছিলাম যে তারা অবৈধ অস্ত্র উদ্ধারের ব্যবস্থা করবে। বর্তমান সরকার কার্যকর পদক্ষেপ না নেওয়ায় নির্বাচনের মাঠে ভয়ের পরিবেশ তৈরি হয়েছে।" একই আসনের জামায়াত মনোনীত প্রার্থী জাহিদুল ইসলাম এবং সিরাজগঞ্জ-১ আসনের প্রার্থী শাহিনুর আলমও চরাঞ্চলের ভোট কেন্দ্রগুলোতে বাড়তি নিরাপত্তার দাবি জানিয়েছেন।

বাসদ নেতা নব কুমার কর্মকার মন্তব্য করেন, "বিগত নির্বাচনে লাইসেন্সধারী অস্ত্র জমা নেওয়া হতো, কিন্তু এবার লুণ্ঠিত ও অবৈধ অস্ত্র উদ্ধার হয়নি। এটি ভোটের নিরাপত্তার জন্য বড় ধরণের ঝুঁকি তৈরি করতে পারে।" জনমনে শঙ্কা থাকলেও স্থানীয় প্রশাসন এবং নির্বাচন কমিশন আশ্বস্ত করছে। সিরাজগঞ্জ জেলা প্রশাসক আমিনুল ইসলাম জানান, "অস্ত্র উদ্ধারে পুলিশ ও সেনাবাহিনী নিরলসভাবে কাজ করছে। অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচন নিশ্চিত করতে সব ধরনের পদক্ষেপ নেওয়া হবে।"

পুলিশ সুপার সাইফুল ইসলাম সানতু জানান, লুণ্ঠিত ও অবৈধ অস্ত্র উদ্ধারের জন্য একটি বিশেষ টিম গঠন করা হয়েছে। জেলা নির্বাচন কর্মকর্তা আমিনুর রহমান মিয়া জানান, চরাঞ্চল এবং ঝুঁকিপূর্ণ কেন্দ্রগুলো চিহ্নিত করা হয়েছে এবং সেখানে বাড়তি আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী মোতায়েন থাকবে। তারা নিশ্চিত করেছেন, ভোটার ও প্রার্থীদের নিরাপত্তা সর্বোচ্চ গুরুত্বে রাখা হবে।

স্থানীয়রা মনে করছেন, লুট হওয়া অস্ত্র দ্রুত উদ্ধার না হলে ভোটের দিন বিপদজনক পরিস্থিতি তৈরি হতে পারে। প্রশাসন এবং নিরাপত্তা বাহিনী এই বিষয়ে সতর্ক থাকলেও ভোটাররা এখনও উদ্বিগ্ন। বিশেষ করে চরাঞ্চল ও দুর্গম এলাকা, যেখানে ভোট কেন্দ্রে অস্ত্রের উপস্থিতি ভোটারদের আতঙ্কিত করতে পারে।

চলমান প্রস্তুতির অংশ হিসেবে পুলিশ এবং সেনাবাহিনী পর্যায়ক্রমে এলাকায় অভিযান চালাচ্ছে। এছাড়া নির্বাচন কমিশনও কেন্দ্রে নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করার জন্য স্থানীয় প্রশাসনের সঙ্গে সমন্বয় করছে। তারা আশা করছেন, নির্বাচনের দিন ভোটার ও প্রার্থীরা নিরপেক্ষ ও নিরাপদভাবে ভোট দিতে পারবেন।

সিরাজগঞ্জে লুণ্ঠিত অস্ত্র উদ্ধার না হওয়ায় ভোটের পরিবেশের বিষয়ে উদ্বেগ থাকলেও প্রশাসন ও নির্বাচন কমিশন দৃঢ় প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। তারা জানিয়েছেন, ভোটের দিন যাতে কোনো ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনা না ঘটে, তার জন্য সব প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

আকাশজমিন / আরআর 


এ সম্পর্কিত আরো খবর