অনলাইন রিপোর্টার
অ্যাননটেক্স গ্রুপের নামে প্রায় ৫৩১ কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগে দায়ের করা মামলায় বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক গভর্নর ড. আতিউর রহমানসহ ২৫ জনের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করা হয়েছে। ঢাকার মহানগর দায়রা জজ ও সিনিয়র বিশেষ জজ আদালতের বিচারক মো. সাব্বির ফয়েজ সোমবার এই পরোয়ানা জারি করেন।
দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) পিপি মোহাম্মদ তরিকুল ইসলাম জানান, অর্থনীতিবিদ ড. আবুল বারকাতসহ ২৬ জনের চার্জশিট আমলে নিয়ে আদালত ২৫ জনের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেছেন। আদালত আগামী ৪ মার্চ গ্রেপ্তারি পরোয়ানা তামিল-সংক্রান্ত প্রতিবেদন দাখিলের জন্য দিন ধার্য করেছেন।
গ্রেপ্তারি পরোয়ানা প্রাপ্তদের মধ্যে রয়েছেন: বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক ডেপুটি গভর্নর আবু হেনা মোহাম্মদ রাজী হাসান, সাবেক সহকারী পরিচালক মোছাম্মৎ ইসমত আরা বেগম, জনতা ব্যাংকের সাবেক পরিচালক জামাল উদ্দিন আহমেদ, মো. ইমদাদুল হক, নাগিবুল ইসলাম দীপু, আর এম দেবনাথ, মো. আবু নাসের, সঙ্গীতা আহমেদ, অধ্যাপক নিতাই চন্দ্র নাথ, এছাড়া জনতা ব্যাংকের সাবেক ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও সিইও আবদুছ ছালাম আজাদ, সাবেক উপমহাব্যবস্থাপক আজমুল হক, সাবেক এ জি এম অজয় কুমার ঘোষ, সাবেক ম্যানেজার (শিল্প ঋণ-১) মো. গোলাম আজম, নির্বাহী প্রকৌশলী মো. শাহজাহান, এসইও মো. এমদাদুল হক, সাবেক উপমহাব্যবস্থাপক মো. আব্দুল জব্বার, সাবেক ডিএমডি মো. গোলাম ফারুক ও ওমর ফারুক, অ্যাননটেক্স গ্রুপের চেয়ারম্যান মো. ইউনুছ বাদল, মেসার্স সুপ্রভ স্পিনিং লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. আনোয়ার হোসেন এবং পরিচালক মো. আবু তালহা।
মামলার শুনানিতে ড. বারকাতকে কারাগার থেকে আদালতে হাজির করা হয়। পরে তাঁকে পুনরায় কারাগারে ফেরত পাঠানো হয়। তাঁর আইনজীবী মাসুদ আহমেদ তালুকদার জামিনের আবেদন করেন, যা আদালত নাকচ করেছেন।
গত বছরের ২০ অক্টোবর ড. বারকাতসহ ২৬ জনের বিরুদ্ধে চার্জশিট দাখিল করা হয়। চার্জশিটে উল্লেখ করা হয়েছে, আসামিরা পরস্পর যোগসাজশে প্রতারণা ও জালিয়াতির মাধ্যমে জনতা ব্যাংক পিএলসি থেকে প্রায় ৫৩১ কোটি ৪৪ লাখ টাকা আত্মসাৎ করেছেন। সুদ ও আসলে এই পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ১ হাজার ১৩০ কোটি ১৯ লাখ টাকা। যদিও এজাহারে আত্মসাতের পরিমাণ ছিল ২৯৭ কোটি ৩৮ লাখ ৮৭ হাজার ২৯৬ টাকা।
আসামিদের বিরুদ্ধে ঋণের অর্থ জালিয়াতি ও মানি লন্ডারিংয়ের মাধ্যমে আত্মসাতের অভিযোগ আনা হয়েছে। ২০২৫ সালের ২২ ফেব্রুয়ারি দুদকের ঢাকা সমন্বিত জেলা কার্যালয়ে সংস্থাটির উপপরিচালক মো. নাজমুল হুসাইন বাদী হয়ে মামলা দায়ের করেন। মামলার তদন্ত ও জড়িতদের শনাক্তকরণ প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।
আকাশজমিন / আরআর