নীলফামারী সংবাদদাতা
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নির্বাচনী আচরণ বিধি লঙ্ঘনের অভিযোগে নীলফামারী-৪ (কিশোরগঞ্জ-সৈয়দপুর) আসনের তিন প্রার্থীকে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হয়েছে। সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তা ও সৈয়দপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ফারাহ ফাতেহা তাকমিলা বিষয়টি নিশ্চিত করেন।
নোটিশে বলা হয়েছে, নীলফামারী-৪ আসনের জাতীয় পার্টির প্রার্থী মো. সিদ্দিকুল আলম, বিএনপির প্রার্থী মো. আব্দুল গফুর সরকার এবং জামায়াতে ইসলামির প্রার্থী আব্দুল মুনতাকিমকে নির্বাচনী আচরণ বিধি লঙ্ঘনের অভিযোগে নোটিশ দেওয়া হয়েছে। নির্বাচনী আচরণ বিধি, ২০২৫-এর বিধি ১৮ অনুযায়ী কোনো নিবন্ধিত রাজনৈতিক দল বা মনোনীত প্রার্থী ভোটগ্রহণের জন্য নির্ধারিত দিনের তিন সপ্তাহ পূর্বে কোনো নির্বাচনী প্রচারণা শুরু করতে পারবেন না।
জাতীয় পার্টির প্রার্থী মো. সিদ্দিকুল আলম গত ২০ জানুয়ারি সৈয়দপুর শহরের রেলওয়ে মাঠে অনুষ্ঠিত প্রিমিয়ার লিগ টুর্নামেন্টে ভোট চাওয়ায় এই বিধি লঙ্ঘন করেছেন। একই বিধি অনুযায়ী, বিএনপির প্রার্থী মো. আব্দুল গফুর সরকার দলীয় প্রধানের ছবি ব্যবহার করে ব্যানার, লিফলেট বা হ্যান্ডবিল ও ফেস্টুন ছাপানোর মাধ্যমে বিধি লঙ্ঘন করেছেন। এছাড়া জামায়াতে ইসলামির প্রার্থী আব্দুল মুনতাকিম নির্বাচনি প্রচারণায় রঙিন লিফলেট ও হ্যান্ডবিল ব্যবহার করে বিধি লঙ্ঘন করেছেন।
নোটিশে তিন প্রার্থীকে আগামী তিন কার্যদিবসের মধ্যে সন্তোষজনক জবাব দাখিলের জন্য নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। তাদের জবাব পাওয়ার পর আইন অনুসারে প্রযোজ্য ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
সৈয়দপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ও সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তা ফারাহ ফাতেহা তাকমিলা সাংবাদিকদের জানান, তিন প্রার্থীকে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হয়েছে। জবাব পাওয়ার পর নির্বাচনী আচরণ বিধি লঙ্ঘন ও প্রার্থীদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এই পদক্ষেপ নির্বাচনী প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা, ন্যায্যতা ও জননির্বাচনের প্রতি মানুষের আস্থা বজায় রাখার জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। প্রশাসন ও নির্বাচন কমিশন নিশ্চিত করতে চায় যে, কোনো প্রার্থী নির্বাচনী আচরণ বিধি লঙ্ঘন করে অনিয়ম বা অসদাচরণের সুযোগ পাবে না।
নির্বাচনী আচরণ বিধি লঙ্ঘন রোধে এই নোটিশের মাধ্যমে প্রার্থীদের সচেতন করা হচ্ছে। এতে ভোটার ও রাজনৈতিক দলের মধ্যে সুষ্ঠু প্রতিযোগিতা নিশ্চিত হবে। এছাড়া, নির্বাচনী পরিবেশের প্রতি জনগণের আস্থা ও অংশগ্রহণ বাড়ানো সম্ভব হবে।
নোটিশ প্রদান নির্বাচনের প্রতি জনগণের আস্থা ও নির্বাচনী প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা বজায় রাখতে একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে। প্রার্থীদের এই নোটিশে জবাব দাখিল করা বাধ্যতামূলক এবং তা না দিলে প্রশাসন ও নির্বাচন কমিশন আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেবে।
আকাশজমিন / আরআর