পাকিস্তানের উত্তরপশ্চিমাঞ্চলে একটি বিয়ের অনুষ্ঠানে ভয়াবহ আত্মঘাতী বোমা হামলায় অন্তত সাতজন নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় আরও বেশ কয়েকজন গুরুতর আহত হয়েছেন বলে দেশটির পুলিশ জানিয়েছে। শুক্রবার আফগানিস্তান সীমান্তসংলগ্ন উত্তরপশ্চিমাঞ্চলীয় দেরা ইসমাইল খান জেলায় এই মর্মান্তিক হামলার ঘটনা ঘটে।
দেশটিতে ক্রমবর্ধমান জঙ্গি হামলা মোকাবিলায় যখন আইনশৃঙ্খলা বাহিনী হিমশিম খাচ্ছে, ঠিক সেই সময় বিয়ের অনুষ্ঠানের মতো একটি সামাজিক আয়োজনে এ ধরনের হামলা দেশজুড়ে নতুন করে আতঙ্ক ছড়িয়েছে। পুলিশ জানিয়েছে, দেরা ইসমাইল খান জেলার একটি ভবনে আয়োজিত বিয়ের অনুষ্ঠানে আত্মঘাতী বোমা হামলাটি চালানো হয়। ওই ভবনে স্থানীয় শান্তি কমিটির সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।
পুলিশ কর্মকর্তা মুহাম্মদ আদনান জানান, শান্তি কমিটিগুলো স্থানীয় বাসিন্দা ও বয়োজ্যেষ্ঠদের সমন্বয়ে গঠিত। আফগানিস্তান সীমান্তবর্তী অঞ্চলে সক্রিয় জঙ্গিগোষ্ঠীগুলোর বিরুদ্ধে নজরদারি ও প্রতিরোধ গড়ে তুলতেই এসব কমিটি কাজ করে থাকে। ইসলামাবাদের উদ্যোগের অংশ হিসেবে স্থানীয় জনগণকে সম্পৃক্ত করে এসব শান্তি কমিটি গঠন করা হয়েছে।
তিনি আরও জানান, হামলার পর ঘটনাস্থলে তাৎক্ষণিক উদ্ধার তৎপরতা শুরু করা হয়। বিস্ফোরণে প্রথমে ঘটনাস্থলেই তিনজন নিহত হন। পরে আহতদের হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসাধীন অবস্থায় আরও চারজন মারা যান। সব মিলিয়ে নিহতের সংখ্যা দাঁড়ায় অন্তত সাতজনে। আহতদের মধ্যে কয়েকজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় মৃতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
বিয়ের অনুষ্ঠানে অংশ নেওয়া অতিথিদের লক্ষ্য করে চালানো এই আত্মঘাতী হামলার দায় এখন পর্যন্ত কোনো গোষ্ঠী স্বীকার করেনি। তবে নিরাপত্তা বিশ্লেষকদের ধারণা, আফগান সীমান্তের উভয় পাশে সক্রিয় পাকিস্তানি জঙ্গিগোষ্ঠী তালেবানের সংশ্লিষ্ট শাখা এই হামলার সঙ্গে জড়িত থাকতে পারে।
পাকিস্তানে সক্রিয় এই গোষ্ঠীটি তেহরিক-ই-তালেবান পাকিস্তান নামে পরিচিত। দেশটির নিরাপত্তা বাহিনী ও সরকারের সঙ্গে দীর্ঘদিন ধরে সংঘাতে লিপ্ত এই সংগঠনটি শান্তি কমিটির সদস্যদের ‘বিশ্বাসঘাতক’ হিসেবে চিহ্নিত করে আসছে। স্থানীয় জনগণকে নিয়ে গঠিত এসব কমিটিকে জঙ্গিবিরোধী কর্মকাণ্ডে বাধা হিসেবে দেখে তালেবান।
পাকিস্তানি তালেবান দেশটির কয়েকটি সুন্নিপন্থি জঙ্গিগোষ্ঠীর একটি মূল সংগঠন হিসেবে কাজ করছে। ১৯৯৭ সাল থেকে তারা রাষ্ট্রের বিরুদ্ধে সশস্ত্র লড়াই চালিয়ে আসছে। পাকিস্তানের প্রচলিত শাসনব্যবস্থার পরিবর্তে নিজেদের কঠোর ইসলামি আইন প্রতিষ্ঠাই তাদের ঘোষিত লক্ষ্য।
এদিকে ইসলামাবাদ দীর্ঘদিন ধরে অভিযোগ করে আসছে যে, আফগান তালেবান পাকিস্তানি এই জঙ্গিগোষ্ঠীকে আফগানিস্তান থেকে হামলার পরিকল্পনা ও বাস্তবায়নে সহায়তা করছে। তবে কাবুল সরকার এসব অভিযোগ অস্বীকার করে বলছে, জঙ্গিবাদ পাকিস্তানের অভ্যন্তরীণ সমস্যা এবং এতে আফগানিস্তানের কোনো সংশ্লিষ্টতা নেই।
এই হামলার পর পাকিস্তানের উত্তরপশ্চিমাঞ্চলে নিরাপত্তা ব্যবস্থা আরও জোরদার করা হয়েছে। স্থানীয় প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনী হামলার সঙ্গে জড়িতদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারে অভিযান শুরু করেছে।