আন্তর্জাতিক ডেস্ক
হিমাচল প্রদেশের সুন্দরী প্রকৃতি সম্প্রতি তুষারপাতের আঘাতে বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। রাজ্যের শৈলশহর মানালি, শিমলা ও কুলু অঞ্চলের রাস্তাঘাট ৪৮ ঘণ্টা ধরে তুষারআচ্ছাদিত থাকার ফলে জনজীবন ভাঙচুরের মুখে। বিশেষ করে কোঠি-মানালি জাতীয় সড়ক বরফে বন্ধ হয়ে দীর্ঘ ৭-৮ কিলোমিটার যানজট তৈরি হয়েছে। পর্যটকরা রাতভর গাড়িতে আটকে খাবার ও পানির অভাবে কষ্টে ভুগেছেন।
হিমাচল রাজ্য প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের জন্য পর্যটকদের ‘স্বর্গ’ হিসেবে পরিচিত। তবে চলতি তুষারপাতের কারণে এই সৌন্দর্য বিপজ্জনক হয়ে উঠেছে। পর্যটকরা সরকারি আশ্রয়কেন্দ্রে পৌঁছাতে প্রায় ২০ কিলোমিটার ট্রেক করছেন। রোববারও তুষারপাত অব্যাহত থাকায় পরিস্থিতি আরও জটিল।
শিমলা, কুলু ও মানালির পর্যটকরা তুষারপাত উপভোগ করতে আসেন। মৌসুমের শুরুতে পর্যটকরা তুষার না পাওয়ায় হতাশ হলেও, শেষ কয়েক দিনে বৃষ্টি ও তুষারপাত শুরু হতেই ভিড় বেড়েছে। পার্শ্ববর্তী রাজ্য পাঞ্জাব, হরিয়ানা এবং দিল্লি থেকে বিপুল সংখ্যক পর্যটক আসছেন। তবে টানা দু’দিনের তুষারপাত অনেককে বিপদে ফেলেছে।
একদিকে প্রবল তুষারপাত, অন্যদিকে হোটেলগুলোর পূর্ণতা নতুন পর্যটকদের জন্য সমস্যা সৃষ্টি করেছে। স্থানীয় প্রশাসন জানাচ্ছে, রাজ্যজুড়ে ৬৮৫টি রাস্তা বন্ধ রয়েছে। ফলে বিকল্প পথে চললেও উদ্ধার কার্যক্রম ধীরগতি পাচ্ছে। হাওয়া অফিস জানিয়েছে, পশ্চিমি ঝড়ো হাওয়ার প্রভাবে ২৬ থেকে ২৮ জানুয়ারি পর্যন্ত ভারী তুষারপাত এবং বৃষ্টি চলবে, যা পরিস্থিতি আরও খারাপ করতে পারে।
বিদ্যুৎ বিভ্রাটও পরিস্থিতি জটিল করছে। কোঠি-মানালি জাতীয় সড়কে আটকে থাকা ট্যাক্সি চালক বান্টি জানান, তাঁর গাড়ির যাত্রীরা ২৪ ঘণ্টা খাবার ও পানি ছাড়া গাড়িতে বসে আছেন। বান্টি বলেন, “এখনও পর্যন্ত প্রশাসন কোন সহায়তা পাঠায়নি। বরফ সরিয়ে রাস্তা সচল করা তাদের দায়িত্ব।”
প্রশাসনের ঘাটতি এবং তুষারপাতের প্রভাবে পর্যটকদের অসুবিধা বেড়েছে। তুষারপাতের কারণে সড়ক, হোটেল এবং আশ্রয়কেন্দ্রগুলো চাপের মুখে। স্থানীয় কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, উদ্ধার ও সহায়তা কার্যক্রম চলমান রয়েছে, কিন্তু বিপর্যয়ের মাত্রা এত বড় যে সকলকে নিরাপদে আশ্রয় দেওয়ার জন্য সময় লাগছে।
হিমাচল প্রদেশের জনপ্রিয় শৈলশহরগুলোর মানালি ও কুলু অঞ্চলের পর্যটন শিল্প, তুষারপাতের কারণে স্বল্পমেয়াদি ঝুঁকির মধ্যে পড়েছে। শীতকালীন পর্যটনের এই মৌসুমে বহু পর্যটক ঝুঁকি নিয়ে ভ্রমণে বের হয়েছেন। তুষারপাত উপভোগের আকর্ষণ থাকলেও বন্যা, বরফ ও রাস্তা বন্ধের কারণে ভ্রমণ কঠিন হয়ে পড়েছে।
বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, তুষারপাত এবং হিমশীতল আবহাওয়ার কারণে হিমাচলের পর্যটন মৌসুমে জরুরি পদক্ষেপ নেওয়া অত্যাবশ্যক। পর্যটক এবং স্থানীয় বাসিন্দাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রশাসনকে দ্রুত ব্যবস্থা নিতে হবে।
আকাশজমিন / আরআর