সিরাজগঞ্জ প্রতিনিধি / : 140
আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে পটুয়াখালী-৩ (দশমিনা-গলাচিপা) আসনের রাজনৈতিক পরিস্থিতি এখন স্পষ্টভাবে দুই মেরুতে বিভক্ত। একদিকে রয়েছেন বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের ‘সোনালী ফসল’ হিসেবে পরিচিত, ওয়ান-ইলেভেন পরবর্তী আন্দোলন-সংগ্রামে পরীক্ষিত ছাত্রনেতা ও সাবেক কেন্দ্রীয় নেতা হাসান মামুন। অন্যদিকে রয়েছেন দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক নির্যাতন ও বাধার মধ্য দিয়ে উঠে আসা গণঅধিকার পরিষদের প্রার্থী ভিপি নুরুল হক নুর।
বিএনপির কেন্দ্রীয় সিদ্ধান্ত অনুযায়ী এই আসনে দলীয় প্রার্থী না দিয়ে গণঅধিকার পরিষদের প্রার্থী ভিপি নুরুল হক নুরকে সমর্থনের ঘোষণা দেওয়া হয়। তবে মাঠপর্যায়ে সেই সিদ্ধান্তের বাস্তব প্রতিফলন নিয়ে শুরু থেকেই প্রশ্ন রয়েছে। স্থানীয় সূত্র বলছে, গলাচিপা ও দশমিনা উপজেলা বিএনপির একাংশ কেন্দ্রীয় সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নে অনীহা দেখিয়ে প্রকাশ্যে নীরব ভূমিকা পালন করছে। অভিযোগ উঠেছে, এই অংশটি বিএনপি থেকে বহিষ্কৃত স্বতন্ত্র প্রার্থী হাসান মামুনের পক্ষেই মাঠে সক্রিয় রয়েছে।
হাসান মামুন দীর্ঘদিন ধরেই স্থানীয় রাজনীতিতে সক্রিয় ভূমিকা রেখে আসছেন। ছাত্রদল রাজনীতি থেকে উঠে আসা এই নেতা ওয়ান-ইলেভেন পরবর্তী সময়েও মাঠে সক্রিয় থেকে সাংগঠনিক দক্ষতার পরিচয় দেন। ইউনিয়ন ও গ্রামভিত্তিক শক্ত কর্মী নেটওয়ার্ক, দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক সম্পৃক্ততা এবং বিএনপির তৃণমূল পর্যায়ের অনেক নেতাকর্মীর নীরব সমর্থন তার পক্ষে কাজ করছে বলে মনে করছেন স্থানীয় রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকরা।
অন্যদিকে ভিপি নুরুল হক নুর জাতীয় পর্যায়ে পরিচিত একটি নাম। কোটা সংস্কার আন্দোলন ও ছাত্র রাজনীতির মধ্য দিয়ে তার উত্থান ঘটে। সমর্থকদের মতে, দীর্ঘদিন ধরে তিনি রাজনৈতিকভাবে নির্যাতিত ও কোণঠাসা অবস্থার মধ্য দিয়ে এগিয়ে চলেছেন। পটুয়াখালী-৩ আসনে তার প্রার্থিতা অনেক ভোটারের কাছে পরিবর্তনের প্রতীক হিসেবে বিবেচিত হলেও স্থানীয় পর্যায়ে শক্ত সাংগঠনিক কাঠামোর অভাব তাকে চ্যালেঞ্জের মুখে ফেলেছে।
এই পরিস্থিতিতে কেন্দ্রীয় বিএনপি সাংগঠনিক শৃঙ্খলা বজায় রাখতে কঠোর অবস্থান নেয়। গলাচিপা ও দশমিনা উপজেলা বিএনপির বিদ্যমান কমিটি বিলুপ্ত করা হয় এবং দলীয় সিদ্ধান্ত অমান্যকারীদের সতর্ক করা হয়। তবে রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, কমিটি বিলুপ্ত হলেও মাঠপর্যায়ের বিভক্তি পুরোপুরি কাটেনি।
স্থানীয় ভোটারদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, একাংশ ভোটার অভিজ্ঞ ও পরীক্ষিত সংগঠক হিসেবে হাসান মামুনের দিকে ঝুঁকছেন। আবার আরেক অংশ দীর্ঘদিন রাজনৈতিক নির্যাতনের শিকার ভিপি নুরুল হক নুরকে সহানুভূতির চোখে দেখছেন। ফলে এই আসনে আবেগ বনাম সংগঠন—এই দুই শক্তির লড়াইই শেষ পর্যন্ত নির্বাচনের ফল নির্ধারণ করবে বলে মনে করছেন সচেতন মহল।
সব মিলিয়ে পটুয়াখালী-৩ আসনের নির্বাচনী মাঠ এখন টানটান উত্তেজনায় ভরপুর। ছাত্রদলের ‘সোনালী ফসল’ হিসেবে পরিচিত হাসান মামুনের সাংগঠনিক শক্তি নাকি নির্যাতিত রাজনীতির প্রতীক হয়ে ওঠা ভিপি নুরুল হক নুরের জনপ্রিয়তা—শেষ পর্যন্ত কাকে বেছে নেবে দশমিনা ও গলাচিপার মানুষ, সেটিই এখন সবচেয়ে বড় প্রশ্ন। আকাশজমিন / আরআর