নড়াইলের কালিয়া উপজেলার বাবরা-হাচলা ইউনিয়নের উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা চঞ্চল কুমার মল্লিকের বিরুদ্ধে কৃষি প্রণোদনার বীজ ও সার বিতরণে দুর্নীতি ও অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগ রয়েছে, চলতি রবি মৌসুমে কৃষকদের জন্য বরাদ্দকৃত বিনামূল্যের বীজ ও সার সঠিকভাবে বিতরণ না করে বড় একটি অংশ আত্মসাৎ করা হয়েছে।
অভিযোগ সূত্রে জানা গেছে, চলতি রবি মৌসুমে গম, সরিষা, সূর্যমুখী, সবজি ও বোরো ধানের বীজ এবং সার কৃষকদের মাঝে বিনামূল্যে বিতরণের সরকারি নির্দেশনা থাকলেও বাবরা-হাচলা ইউনিয়নে তা সঠিকভাবে বাস্তবায়ন হয়নি। স্থানীয় কৃষকদের অভিযোগ, তালিকাভুক্ত অধিকাংশ প্রকৃত কৃষক তাদের প্রাপ্য বীজ ও সার পাননি। বরং এসব প্রণোদনা বিতরণে ব্যাপক অনিয়ম করা হয়েছে।
বাবরা-হাচলা ইউনিয়নের কৃষক আলী খাঁ এ বিষয়ে কালিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও খুলনা আঞ্চলিক কার্যালয়ের অতিরিক্ত পরিচালকের কাছে লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন। অভিযোগপত্রে তিনি উল্লেখ করেন, একই পরিবারের একাধিক সদস্যকে প্রণোদনার তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে, যাদের বাস্তবে কোনো চাষাবাদ নেই। অথচ তাদের নামেই সরকারি বীজ ও সার বরাদ্দ দেখানো হয়েছে। ফলে প্রকৃত কৃষকরা এসব সুবিধা থেকে বঞ্চিত হয়েছেন।
অভিযোগে আরও বলা হয়, উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা চঞ্চল কুমার মল্লিক কৃষি অফিস থেকে বীজ ও সার এনে বাবরা গ্রামের একটি দোকানে সংরক্ষণ করেন। পরে সেখান থেকে কিছু কৃষকের কাছে বীজ ও সার বিক্রি করা হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। এ সময় সরকারি নিয়ম অনুযায়ী কৃষকদের মাস্টার রোলে স্বাক্ষর নেওয়া হয়নি। এতে করে সরকারি নথিপত্রেও অসঙ্গতি তৈরি হয়েছে বলে অভিযোগকারীরা দাবি করেন।
স্থানীয় কৃষকদের অভিযোগ, তালিকাভুক্ত অনেক কৃষক একাধিকবার কৃষি অফিসে যোগাযোগ করেও তাদের বরাদ্দকৃত বীজ ও সার পাননি। কেউ কেউ জানান, নাম তালিকায় থাকা সত্ত্বেও তাদের কিছুই দেওয়া হয়নি। আবার যাদের দেওয়া হয়েছে, তাদের কাছ থেকেও যথাযথ নিয়ম অনুসরণ করা হয়নি।
এ বিষয়ে স্থানীয় কৃষকদের মধ্যে ক্ষোভ বিরাজ করছে। তারা বলছেন, কৃষি প্রণোদনার মতো গুরুত্বপূর্ণ সরকারি সহায়তা প্রকৃত কৃষকদের কাছে না পৌঁছালে কৃষি উৎপাদন ব্যাহত হবে। কৃষকরা এ ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও দায়ীদের বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।
অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা চঞ্চল কুমার মল্লিক বলেন, “কিছু অনিয়ম হতে পারে, তবে সব অভিযোগ সত্য নয়।” তিনি দাবি করেন, বিতরণ প্রক্রিয়ায় কোনো ইচ্ছাকৃত দুর্নীতি হয়নি।
তবে এ বিষয়ে প্রশাসনের পক্ষ থেকে এখনো আনুষ্ঠানিক কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ অভিযোগটি খতিয়ে দেখবে বলে স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে। অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে বিধি অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও আশা করছেন ভুক্তভোগী কৃষকরা।
এই ঘটনায় বাবরা-হাচলা ইউনিয়নের কৃষকদের মধ্যে ব্যাপক আলোচনা সৃষ্টি হয়েছে। তারা দ্রুত তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত চিত্র উদঘাটনের দাবি জানিয়েছেন।