আন্তর্জাতিক ডেস্ক
যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে চলমান উত্তেজনার মধ্যে মার্কিন ডলারের বিপরীতে ইরানি রিয়ালের দরপতন রেকর্ডে পৌঁছেছে। মঙ্গলবার (২৭ জানুয়ারি) এক মার্কিন ডলারের বিনিময়ে মিলেছে ১৫ লাখ ইরানি রিয়াল।
বার্তাসংস্থা রয়টার্স জানিয়েছে, মুদ্রা ট্র্যাকিং ওয়েবসাইটে মঙ্গলবার তথ্য দেখা গেছে। বিশেষ করে গত এক মাসে ইরানি রিয়ালের দাম ৫ শতাংশ কমেছে। বোনবাস্ট নামের একটি ওয়েবসাইট এই তথ্য নিশ্চিত করেছে।
ইরানের নবনিযুক্ত কেন্দ্রীয় ব্যাংকের গভর্নর এ ধরনের দরপতন নিয়ে মন্তব্য করেছেন, “বৈদেশিক মুদ্রার বাজার তার স্বাভাবিক পথে চলছে।” তবে দেশটির অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক ও সামাজিক অস্থিরতা এই মুদ্রার পতনের পেছনের মূল কারণ হিসেবে গণ্য হচ্ছে।
গত মাসের ২৮ তারিখে ইরানে বিক্ষোভ শুরু হয়। প্রথমে এটি সীমিত প্রতিবাদ ছিল, কিন্তু দ্রুত সময়ে তা সরকারবিরোধী বিক্ষোভে পরিণত হয়। নিরাপত্তা বাহিনী বিক্ষোভ দমন করলেও দেশের রাজনৈতিক পরিবেশ অস্থির রয়েছে। এই অস্থিরতার মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রের সম্ভাব্য হস্তক্ষেপ ও হামলার আশঙ্কা মুদ্রার বাজারে অতিরিক্ত চাপ তৈরি করেছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, ইরানি রিয়ালের এমন রেকর্ড দরপতনের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যপ্রাচ্যে সামরিক উপস্থিতিও যুক্ত। ইতিমধ্যেই মার্কিন বিমানবাহী রণতরী ইউএসএস আব্রাহাম লিংকন মধ্যপ্রাচ্যের জলসীমায় প্রবেশ করেছে। এই রণতরীর সঙ্গে মিসাইলসহ অন্যান্য অত্যাধুনিক যুদ্ধজাহাজও অবস্থান করছে। বাজারের বিশ্লেষকরা বলছেন, এ ধরনের সামরিক চাপ এবং রাজনৈতিক উত্তেজনা সাধারণ বিনিয়োগকারীদের নিরাপদ সম্পদ হিসেবে ডলারের দিকে ঠেলে দিচ্ছে।
ইরানি অর্থনীতির ওপর মুদ্রার দরপতনের প্রভাব ইতোমধ্যেই পড়তে শুরু করেছে। স্থানীয় বাজারে আমদানি-নির্ভর পণ্য, বিশেষ করে খাদ্য, জ্বালানি এবং ঔষধের দাম বেড়ে গেছে। সাধারণ মানুষের ক্রয়ক্ষমতা হ্রাস পাচ্ছে। বিশেষ করে মধ্যবিত্ত ও নিম্নবিত্ত পরিবারগুলো এই দরপতনের কারণে দৈনন্দিন জীবনে চাপ অনুভব করছে।
মুদ্রাবাজারে বিশ্লেষকরা আরও বলছেন, যদি যুক্তরাষ্ট্র-ইরান উত্তেজনা অব্যাহত থাকে এবং ভূ-রাজনৈতিক অনিশ্চয়তা বৃদ্ধি পায়, তাহলে রিয়ালের দর আরও কমতে পারে। এ ক্ষেত্রে ডলারের বিনিময়ে রিয়ালের মূল্য ১৬ লাখ বা তারও বেশি পৌঁছানোর সম্ভাবনা উন্মুক্ত।
বৈশ্বিক অর্থনীতি ও মুদ্রাবাজারের প্রেক্ষাপটে এই রেকর্ড দরপতন শুধু ইরানের অভ্যন্তরীণ পরিস্থিতির প্রতিফলন নয়, বরং আন্তর্জাতিক বিনিয়োগ ও নিরাপত্তা পরিস্থিতির একটি সূচক। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, মুদ্রা দরপতন অব্যাহত থাকলে মধ্যপ্রাচ্যের রাজনৈতিক অস্থিরতা এবং অর্থনৈতিক চাপ আরও জোরদার হবে।
আকাশজমিন / আরআর