আন্তর্জাতিক ডেস্ক
ইরানে যুক্তরাষ্ট্রের সম্ভাব্য হামলা এবং এর জেরে সরকার পতনের আশঙ্কা তৈরি হওয়ায় আগাম প্রস্তুতি নিতে শুরু করেছে তুরস্ক। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে গেলে ইরান-তুরস্ক সীমান্তে একটি বাফার জোন গঠনের পরিকল্পনা করছে আঙ্কারা। এই পরিকল্পনার মূল লক্ষ্য হলো, ইরান থেকে সম্ভাব্য শরণার্থী প্রবাহ ঠেকানো এবং সীমান্ত নিরাপত্তা জোরদার করা।
সংবাদমাধ্যম মিডেল ইস্ট আই জানিয়েছে, গত বৃহস্পতিবার তুরস্কের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের শীর্ষ পর্যায়ের কর্মকর্তারা দেশটির সংসদে একটি রুদ্ধদ্বার বৈঠকে অংশ নেন। সেখানে তারা ইরানের বর্তমান রাজনৈতিক ও নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করেন। বৈঠকে কর্মকর্তারা জানান, ইরানে যেকোনো সময় বড় ধরনের অস্থিরতা তৈরি হতে পারে—এই আশঙ্কা মাথায় রেখেই তারা প্রস্তুতি নিচ্ছেন।
বৈঠকে উপস্থিত এক সাংসদের বরাতে জানা গেছে, ইরানে সরকার পতন হলে সীমান্তবর্তী অঞ্চলে একটি বাফার জোন তৈরির বিষয়টি আলোচনায় উঠে আসে। ওই সাংসদের ভাষ্য অনুযায়ী, তুরস্ক স্পষ্টভাবে নতুন করে কোনো শরণার্থী গ্রহণ করতে চায় না। তাই ইরান থেকে কেউ যাতে সীমান্ত অতিক্রম করে তুরস্কে প্রবেশ করতে না পারে, সে লক্ষ্যেই এই পরিকল্পনা করা হচ্ছে।
তবে বৈঠকে অংশ নেওয়া আরেক সাংসদ দাবি করেছেন, আলোচনায় সরাসরি ‘বাফার জোন’ শব্দটি ব্যবহার করা হয়নি। কিন্তু তিনি বলেন, স্বাভাবিক সীমান্ত ব্যবস্থাপনার চেয়ে অনেক বড় এবং কঠোর পদক্ষেপ নেওয়ার বিষয়ে কর্মকর্তারা প্রস্তুত থাকার কথা জানিয়েছেন। তার ভাষায়, “তারা বলেছেন, ইরান সীমান্তে যা কিছু করা প্রয়োজন, সবই করা হবে। মূল লক্ষ্য হলো—যারা ইরান থেকে তুরস্কে প্রবেশের চেষ্টা করবে, তারা যেন ইরানেই অবস্থান করতে বাধ্য হয়।”
এরই মধ্যে তুরস্ক ইরানের সঙ্গে থাকা প্রায় ৫৬০ কিলোমিটার দীর্ঘ সীমান্তে নিরাপত্তা ব্যবস্থা আরও জোরদার করেছে। চলতি মাসের শুরুতে দেশটির প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের এক কর্মকর্তা জানান, সীমান্তজুড়ে প্রযুক্তিনির্ভর বেষ্টনী নির্মাণ করা হয়েছে এবং নজরদারি ব্যবস্থা বাড়ানো হয়েছে। সীমান্ত এলাকায় সেনা ও নিরাপত্তা বাহিনীর উপস্থিতিও বৃদ্ধি করা হয়েছে।
অন্যদিকে, ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র খুব শিগগিরই সামরিক অভিযান চালাতে পারে—এমন আশঙ্কা মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে ছড়িয়ে পড়েছে। বিভিন্ন সূত্রের বরাতে জানা গেছে, যুক্তরাষ্ট্রের যুদ্ধবিমানবাহী রণতরী এবং মিসাইলবাহী যুদ্ধজাহাজ ইতোমধ্যে মধ্যপ্রাচ্যের জলসীমায় প্রবেশ করেছে। এ সপ্তাহের মধ্যেই হামলা চালানো হতে পারে—এমন সম্ভাবনা উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না।
বিশ্লেষকদের মতে, ইরানে যদি বড় ধরনের রাজনৈতিক পরিবর্তন ঘটে বা সরকার পতনের পরিস্থিতি তৈরি হয়, তাহলে এর সরাসরি প্রভাব পড়বে প্রতিবেশী দেশগুলোর ওপর। বিশেষ করে তুরস্ক, যেটি ইতোমধ্যেই সিরিয়া ও অন্যান্য দেশ থেকে আসা শরণার্থীর চাপ সামলাচ্ছে। সে কারণেই সম্ভাব্য সংকট মোকাবিলায় আগেভাগেই কঠোর সিদ্ধান্ত নিতে চাইছে আঙ্কারা।
সূত্র: মিডেল ইস্ট আই
আকাশজমিন / আরআর