সাতক্ষীরা প্রতিনিধিঃ
ফিরে আসা জেলেরা জানান, আট থেকে দশ সদস্যের একটি সশস্ত্র জলদস্যু দল অস্ত্রের মুখে তাদের অপহরণ করে। পরে নিজেদের ‘ডন বাহিনী’ পরিচয় দিয়ে প্রত্যেক জেলের কাছ থেকে ২৫ হাজার থেকে ৪০ হাজার টাকা পর্যন্ত মুক্তিপণ দাবি করা হয়। পরিবার ও স্বজনদের কাছ থেকে বিকাশের মাধ্যমে টাকা পাঠানোর পর দস্যুরা ১৪ জন জেলেকে ছেড়ে দেয়।
মুক্তিপ্রাপ্ত জেলেদের দেওয়া তথ্যমতে, ইব্রাহিম ৪০ হাজার টাকা, দিলীপ ৪০ হাজার টাকা, উজ্জ্বল ৪০ হাজার টাকা, আবু তাহের ৩৫ হাজার টাকা, আবুল কালাম ৩৫ হাজার টাকা, আইয়ুব আলী ২৫ হাজার টাকা, সাদেক আক্কাস ৩০ হাজার টাকা, ইউসুফ আলী ৪০ হাজার টাকা এবং আসাদুল গাজী ও হাফিজুর ২৫ হাজার টাকা করে মুক্তিপণ দিয়েছেন।
জেলেরা অভিযোগ করেন, মুন্সিগঞ্জের মৌখালী গ্রামের শফিকুল ইসলাম ওরফে ‘ভেটো শফিকুল’ এবং আটিরউপর গ্রামের শাহাজান এই জলদস্যু দলের নেতৃত্ব দিচ্ছেন। তারা আরও জানান, মুক্তিপণের টাকা কম দেওয়ায় রাজেত আলী নামে এক জেলেকে এখনও ছেড়ে দেওয়া হয়নি। এছাড়া মীরগাং গ্রামের মুজিবুর, হরিনগর গ্রামের নজরুল ইসলামসহ মোট ছয়জন জেলে এখনও দস্যুদের জিম্মায় রয়েছেন।
বন বিভাগ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গত ১৪ জানুয়ারি সাতক্ষীরা রেঞ্জের কদমতলা স্টেশন থেকে বন বিভাগের অনুমতিপত্র (পাস) নিয়ে এসব জেলে সুন্দরবনে মাছ ধরতে যান। এরপর গত ২২ জানুয়ারি বিভিন্ন সময়ে বন বিভাগের আওতাধীন মামুন্দো নদী, চুনকুড়ি নদী, মালঞ্চ নদী এবং কলাগাছিয়া খাল এলাকা থেকে অস্ত্রের মুখে তাদের অপহরণ করে জলদস্যুরা।
অপহরণের পর দস্যুরা একটি বিকাশ নম্বর দিয়ে জেলেদের পরিবারের কাছে মুক্তিপণের টাকা দাবি করে। দীর্ঘ আলোচনা ও দর কষাকষির পর নির্ধারিত টাকা পরিশোধ করলে ১৪ জন জেলেকে মুক্তি দেওয়া হয়। তবে অর্থ জোগাড় করতে না পারায় ছয়জন জেলে এখনও বন্দি অবস্থায় রয়েছেন বলে জানিয়েছেন মুক্তিপ্রাপ্তরা।
পশ্চিম সুন্দরবনের সাতক্ষীরা ফরেস্ট রেঞ্জার ফজলুল হক জানান, জেলেদের অপহরণের খবর পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে বিষয়টি কোস্টগার্ডকে অবহিত করা হয়েছিল। তিনি বলেন, ১৪ জন জেলের মুক্তির খবর লোকমুখে পাওয়া গেছে। তবে যারা এখনও জিম্মি রয়েছেন, তাদের উদ্ধারে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী তৎপর রয়েছে।
এ ঘটনায় জেলে পরিবারগুলোর মধ্যে চরম উদ্বেগ ও উৎকণ্ঠা বিরাজ করছে। দ্রুত সময়ের মধ্যে বাকি জেলেদের উদ্ধারে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা।
আকাশজমিন / আরআর