ঢাকা, বাংলাদেশ ।
  রবিবার, ০১ নভেম্বর ২০২৬,  ১৭ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
গাজীপুরে শ্রমিক-পুলিশ সংঘর্ষ, ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কে ১০ কিমি যানজট শিক্ষা বোর্ডভিত্তিক এইচএসসি ফল: পাসের হারে বড় ব্যবধান হারুন অর রশীদকে চাকরি থেকে বরখাস্ত করল সরকার বেতন-ভাতা বৃদ্ধির দাবিতে আবারও ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়ক অবরোধ বিরোধীদলের লং মার্চের কোনো যৌক্তিকতা নেই: রুহুল কবির রিজভী মিরপুর টেস্টে চার দিনেই বাংলাদেশের বড় হার, ওয়েস্ট ইন্ডিজের জয় ৮ উইকেটে সাবেক বিমানবাহিনী কর্মকর্তা তাহসিফ হত্যা: দীপ ৪ দিনের রিমান্ডে সৌদিতে আগুনে নিহত ৭ বাংলাদেশির লাশ দেশে পৌঁছেছে ময়মনসিংহ বোর্ডে পাসের হার ৫১.৪৪%, সামান্য কমলো সাফল্য ৩০ হাজার টাকা বেতনের দাবিতে মিরপুরে পোশাক শ্রমিকদের সড়ক অবরোধ

জাতিসংঘ শান্তি বিনির্মাণে দেশের কৌশলগত অবদান


  • আপলোড সময় : শুক্রবার ৩০ জানুয়ারী, ২০২৬ সময় : ১০:৪৭ এএম

অনলাইন রিপোর্টার

২০২৬ সালের জন্য জাতিসংঘ শান্তি বিনির্মাণ কমিশনের (পিবিসি) সহ-সভাপতি নির্বাচিত হয়েছে বাংলাদেশ। বৃহস্পতিবার নিউইয়র্কে জাতিসংঘ সদর দপ্তরে পিবিসির পাঁচ সদস্যবিশিষ্ট ব্যুরোর নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়।

পিবিসির ২০তম অধিবেশনের প্রথম সভায় মরক্কো সভাপতি হিসেবে এবং বাংলাদেশ, জার্মানি, ব্রাজিল ও ক্রোয়েশিয়া সহ-সভাপতি হিসেবে নির্বাচিত হয়। এই নির্বাচন বাংলাদেশের শান্তি ও বৈশ্বিক কূটনীতি ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ অবস্থানকে আরও সুদৃঢ় করবে বলে মনে করা হচ্ছে।

শান্তি বিনির্মাণ কমিশন একটি আন্তঃসরকারি উপদেষ্টা সংস্থা, যা সংঘাতপূর্ণ দেশগুলোতে শান্তি ও স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে জাতিসংঘের সদস্য রাষ্ট্রগুলোকে সমন্বিত পরামর্শ দেয়। কমিশনের সদস্যরা সাধারণ পরিষদ, নিরাপত্তা পরিষদ, অর্থনৈতিক ও সামাজিক পরিষদ এবং শীর্ষ সৈন্য ও অর্থ প্রদানকারী দেশগুলো থেকে নির্বাচিত হয়ে গঠন করা হয়। বর্তমানে ৩১টি সদস্য রাষ্ট্র পিবিসির অংশ হিসেবে কার্যক্রম চালাচ্ছে।

২০০৫ সালে প্রতিষ্ঠার পর থেকে বাংলাদেশ এই কমিশনের সদস্য। এর আগে ২০১২ ও ২০২২ সালে বাংলাদেশ কমিশনের সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছে। এছাড়া ২০১৩ ও ২০২৩ সালে সহ-সভাপতি হিসেবে বাংলাদেশ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে। এবারও বাংলাদেশ গুরুত্বপূর্ণ এই দায়িত্বে পুনরায় নির্বাচিত হয়ে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের কাছে দেশের আস্থা ও সক্ষমতা প্রদর্শন করেছে।

এক সংক্ষিপ্ত অনুষ্ঠানের মাধ্যমে পিবিসির ২০তম অধিবেশনের প্রথম সভায় বাংলাদেশ সহ-সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করে। অনুষ্ঠানে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের সভাপতি এবং মহাসচিবের পক্ষে তাদের চিফ অব স্টাফ উপস্থিত ছিলেন। তারা পিবিসির ভূমিকা ও শান্তি বিনির্মাণে বাংলাদেশি প্রতিনিধিদলের অবদানের ওপর গুরুত্বারোপ করেন।

বাংলাদেশের প্রতিনিধি দল এক বিবৃতিতে এই গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বের জন্য কমিশনের সদস্যদের ধন্যবাদ জানায়। একই সঙ্গে তারা জাতিসংঘের শান্তি বিনির্মাণ প্রচেষ্টা, বর্তমান কার্যক্রম এবং ভবিষ্যৎ কর্মপরিকল্পনায় বাংলাদেশের অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করে। বাংলাদেশের জন্য এটি কূটনৈতিক সাফল্যের পাশাপাশি শান্তি ও স্থিতিশীলতার ক্ষেত্রে আন্তর্জাতিক ভূমিকার স্বীকৃতি হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

পিবিসি তৎকালীন পরিস্থিতি বিশ্লেষণ, নীতি নির্ধারণ এবং কার্যকরী পদক্ষেপ নেওয়ার মাধ্যমে সংঘাতপূর্ণ অঞ্চলে দীর্ঘস্থায়ী শান্তি স্থাপন ও উন্নয়নমূলক কাজের পরিকল্পনায় সাহায্য করে। বাংলাদেশের সহ-সভাপতি হওয়ার মাধ্যমে এই অঞ্চলে বিশেষভাবে দক্ষিণ এশিয়ার শান্তি ও নিরাপত্তা বিষয়ক নীতি প্রণয়নে দেশ একটি গুরুত্বপূর্ণ কৌশলগত অবস্থান দখল করবে।

বাংলাদেশের এই নির্বাচন জাতিসংঘের শান্তি প্রচেষ্টায় দেশের অবস্থান দৃঢ় করার পাশাপাশি আন্তর্জাতিক কমিউনিটিতে দেশের ভাবমূর্তি বৃদ্ধি করবে। এছাড়া এটি বাংলাদেশকে শান্তি সংক্রান্ত বিষয়ক নীতি ও সিদ্ধান্ত গ্রহণ প্রক্রিয়ায় সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণের সুযোগ দেবে।

আকাশজমিন / আরআর 


এ সম্পর্কিত আরো খবর