ক্রিকেট থেকে অবসর নেওয়ার সাত বছর পর নিজের বিদায়ের নেপথ্যের কারণ প্রকাশ করলেন ভারতের সাবেক অলরাউন্ডার যুবরাজ সিং। দীর্ঘ সময় নীরব থাকার পর তিনি জানালেন, পর্যাপ্ত সম্মান ও সমর্থনের অভাবই তাকে ক্রিকেট ছাড়ার কঠিন সিদ্ধান্ত নিতে বাধ্য করেছিল। তবে ঠিক কে বা কারা তাকে অসম্মান করেছিলেন, সে বিষয়ে নির্দিষ্ট করে কিছু জানাননি এই বিশ্বকাপজয়ী তারকা।
২০১৯ সালের জুন মাসে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট ও আইপিএল থেকে অবসরের ঘোষণা দেন যুবরাজ সিং। ওই বছরের ওয়ানডে বিশ্বকাপের জন্য ভারতীয় দলে জায়গা না পাওয়ার পরই মূলত তার ক্রিকেট ক্যারিয়ারের ইতি ঘটে। যুবরাজের ভাষ্য অনুযায়ী, সে সময় ক্রিকেট খেলার আনন্দ তিনি হারিয়ে ফেলেছিলেন এবং মাঠে নামার আগ্রহও কমে গিয়েছিল।
সম্প্রতি সাবেক টেনিস তারকা সানিয়া মির্জার পডকাস্টে নিজের অনুভূতির কথা খোলামেলা ভাবে তুলে ধরেন যুবরাজ। সেখানে তিনি বলেন, তিনি আর ক্রিকেট উপভোগ করছিলেন না। তার মনে হচ্ছিল, যখন খেলার মধ্যেই আনন্দ নেই, তখন কেন তিনি মাঠে নামবেন। তিনি জানান, সেই সময় তিনি পর্যাপ্ত সমর্থন পাচ্ছিলেন না এবং নিজেকে সম্মানিত বোধও করছিলেন না।
যুবরাজ বলেন, যখন একজন খেলোয়াড় বুঝতে পারেন যে তিনি সম্মান ও সমর্থন থেকে বঞ্চিত, তখন খেলাটা তার জন্য কষ্টের হয়ে ওঠে। তিনি বলেন, এসব কিছু না থাকলে খেলা চালিয়ে যাওয়ার আর কোনো মানে খুঁজে পাচ্ছিলেন না। নিজের মনোভাব ব্যাখ্যা করতে গিয়ে তিনি বলেন, কেন এমন কিছুকে আঁকড়ে ধরে রাখবেন, যা তিনি আর উপভোগই করছেন না।
তিনি আরও বলেন, সেই সময় তার মনে হচ্ছিল, আর কিছু প্রমাণ করার নেই। মানসিক ও শারীরিকভাবে অতিরিক্ত চাপ নেওয়ার অবস্থায় তিনি ছিলেন না। ক্রিকেট চালিয়ে যাওয়ার জন্য যে মানসিক দৃঢ়তা ও শারীরিক শক্তি প্রয়োজন, তা তার মধ্যে আর অবশিষ্ট ছিল না বলে তিনি স্বীকার করেন। এই পরিস্থিতি তাকে ভেতরে ভেতরে কষ্ট দিচ্ছিল।
যুবরাজ জানান, যে দিন তিনি ক্রিকেট ছাড়ার সিদ্ধান্ত নেন, সেই দিন থেকেই তিনি নিজের মধ্যে এক ধরনের স্বস্তি অনুভব করেন। অবসর নেওয়ার পর তিনি যেন আবার নিজেকে ফিরে পেয়েছিলেন। দীর্ঘদিনের মানসিক চাপ থেকে মুক্তি পাওয়ায় জীবনকে নতুনভাবে দেখার সুযোগ পেয়েছেন বলেও উল্লেখ করেন তিনি।
ভারতীয় ক্রিকেটে যুবরাজ সিংয়ের অবদান অনস্বীকার্য। ২০০৭ সালের টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ এবং ২০১১ সালের ওয়ানডে বিশ্বকাপ জয়ে তার ভূমিকা ছিল গুরুত্বপূর্ণ। বিশেষ করে ২০১১ বিশ্বকাপে ক্যানসারের সঙ্গে লড়াই করে মাঠে নেমে ম্যাচ জেতানো পারফরম্যান্স আজও ক্রিকেটপ্রেমীদের কাছে অনুপ্রেরণার উদাহরণ।
অবসর জীবনে যুবরাজ বিভিন্ন সামাজিক কর্মকাণ্ড ও তরুণ ক্রিকেটারদের অনুপ্রেরণা দেওয়ার কাজে যুক্ত রয়েছেন। ক্রিকেট ছাড়ার সিদ্ধান্ত কঠিন হলেও সেটি যে তার মানসিক স্বাস্থ্যের জন্য প্রয়োজনীয় ছিল, তা এবার স্পষ্ট করে জানালেন তিনি। তার এই বক্তব্য অনেক সাবেক ও বর্তমান ক্রিকেটারের কাছেও বাস্তবতার প্রতিফলন হিসেবে দেখা হচ্ছে।
আকাশজমিন / আরআর