বাংলাদেশ ক্রিকেটের ইতিহাসে এবারই প্রথম টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে অংশ নিচ্ছে না জাতীয় দল। নিরাপত্তা উদ্বেগের কারণে ভারতে গিয়ে খেলতে রাজি হয়নি বাংলাদেশ। ভেন্যু পরিবর্তনের দাবি মানা না হওয়ায় শেষ পর্যন্ত বাংলাদেশের পরিবর্তে স্কটল্যান্ডকে বিশ্বকাপে অন্তর্ভুক্ত করেছে আইসিসি। ফলে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটের সবচেয়ে বড় আসর থেকে ছিটকে গেছে লিটন দাসদের দল।
বিশ্বকাপে না খেলতে পারায় কেবল ক্রীড়াগত ক্ষতিই নয়, বড় ধরনের আর্থিক লোকসানের আশঙ্কাও তৈরি হয়েছে ক্রিকেটারদের জন্য। আইসিসির মেগা ইভেন্টে অংশগ্রহণের মাধ্যমে যে ম্যাচ ফি, বোনাস ও স্পন্সরশিপ সুবিধা পাওয়ার সুযোগ ছিল, তা এবার আর থাকছে না। এই বাস্তবতা মাথায় রেখে ক্রিকেটারদের আর্থিক ক্ষতি কিছুটা হলেও পুষিয়ে দেওয়ার বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করছে সরকার।
এই প্রেক্ষাপটে যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের সচিব মাহবুব-উল-আলম জানিয়েছেন, ক্রিকেটারদের খেলার মধ্যে রাখা এবং আর্থিক ক্ষতি কমাতে বিসিবির উদ্যোগে নতুন একটি ঘরোয়া টুর্নামেন্ট আয়োজনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। যুব ও ক্রীড়া উপদেষ্টা আসিফ নজরুলের সঙ্গে আলোচনা করেই এই সিদ্ধান্তে পৌঁছানো হয়েছে বলে জানান তিনি।
বৃহস্পতিবার গণমাধ্যমের সঙ্গে আলাপকালে মাহবুব-উল-আলম বলেন, ক্রিকেটারদের ক্ষেত্রে আর্থিক বিষয়টি অবশ্যই গুরুত্বপূর্ণ, তবে সবার আগে নিরাপত্তার বিষয়টি বিবেচনায় নেওয়া হয়েছে। তিনি জানান, বিষয়টি নিয়ে ইতোমধ্যে বিসিবির সঙ্গে আলোচনা হয়েছে এবং দেশেই একটি নতুন টুর্নামেন্ট আয়োজনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এই টুর্নামেন্টের বিস্তারিত তথ্য বিসিবির পক্ষ থেকেই জানানো হবে এবং আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দেবেন বিসিবি সভাপতি।
তিনি আরও স্পষ্ট করে বলেন, সরকার সরাসরি এই টুর্নামেন্ট আয়োজন করবে না। সব ধরনের আয়োজন ও ব্যবস্থাপনা বিসিবির মাধ্যমেই সম্পন্ন হবে। সরকারের পক্ষ থেকে মূলত নীতিগত সমর্থন এবং আলোচনার মাধ্যমে সিদ্ধান্তে পৌঁছানো হয়েছে।
নতুন এই টুর্নামেন্টে কেবল বিশ্বকাপ স্কোয়াডে থাকা ক্রিকেটাররাই নয়, দেশের শীর্ষস্থানীয় আরও অনেক ক্রিকেটার অংশ নেবেন। মাহবুব-উল-আলম বলেন, জাতীয় দলে সাধারণত ১৫ থেকে ২০ জন খেলোয়াড় থাকেন। কিন্তু একটি প্রতিযোগিতামূলক টুর্নামেন্ট আয়োজন করতে হলে এর বাইরেও যারা পারফর্ম করছেন, এমন প্রমিনেন্ট ক্রিকেটারদের অন্তর্ভুক্ত করতে হবে। ফলে এই টুর্নামেন্টে বিশ্বকাপ দলের সদস্যদের পাশাপাশি ঘরোয়া ক্রিকেটের সেরা খেলোয়াড়দেরও খেলার সুযোগ থাকবে।
বিশ্বকাপে না থাকা অবস্থায় ক্রিকেটারদের ম্যাচ প্র্যাকটিস এবং প্রতিযোগিতামূলক পরিবেশে রাখা বিসিবির জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছিল। নতুন এই টুর্নামেন্টের মাধ্যমে সেই ঘাটতি কিছুটা হলেও পূরণ হবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। পাশাপাশি দীর্ঘ বিরতির কারণে খেলোয়াড়দের ফর্ম ও ফিটনেসে যে প্রভাব পড়তে পারত, সেটিও কমবে বলে আশা করা হচ্ছে।
সব মিলিয়ে, বিশ্বকাপে অংশ নিতে না পারার হতাশার মধ্যেই এই নতুন টুর্নামেন্ট বাংলাদেশ ক্রিকেটারদের জন্য একটি বিকল্প মঞ্চ হিসেবে সামনে আসছে। এটি ক্রিকেটারদের মানসিকভাবে চাঙা রাখার পাশাপাশি দেশের ক্রিকেট কাঠামোর ধারাবাহিকতা বজায় রাখতেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
আকাশজমিন / আরআর