আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটে প্রবাসী ভোটাধিকার সুষ্ঠু ও স্বচ্ছভাবে প্রয়োগ করতে প্রতিটি ধাপে কঠোর নজরদারি থাকবে বলে জানিয়েছেন নির্বাচন কমিশনার ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অবসরপ্রাপ্ত) আবুল ফজল মো. সানাউল্লাহ। তিনি বলেন, প্রবাসী ভোটগ্রহণে কোনো ধরনের কারচুপির সুযোগ থাকবে না। ভোটগ্রহণ ও গণনার প্রতিটি ধাপ হবে কড়া পর্যবেক্ষণের আওতায়।
রোববার (১ ফেব্রুয়ারি) সকালে বরিশাল সার্কিট হাউসে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী, ডিজিটাল সেল ও পর্যবেক্ষণ টিমের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় কমিশনার এ মন্তব্য করেন। তিনি জানান, প্রবাসী ভোটে মোট ১১৯টি প্রতীক থাকায় গণনায় কিছুটা সময় বেশি লাগতে পারে। তবে ব্যালট নিরাপত্তায় গোয়েন্দা সংস্থার সদস্যরা দায়িত্ব পালন করবেন। লাইভ ভেরিফিকেশন বাধ্যতামূলক থাকায় জালিয়াতির কোনো সুযোগ থাকবে না।
নির্বাচন কমিশনার আরও বলেন, ভোটকেন্দ্রে সরঞ্জাম ব্যবহারে নতুন নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। শুধু প্রিজাইডিং অফিসার কলম ব্যবহার করতে পারবেন, অন্য কর্মকর্তাদের জন্য থাকবে পেন্সিল। প্রতিটি আসনে ১০ জন করে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট দায়িত্ব পালন করবেন।
তিনি মোবাইল ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিসের মাধ্যমে ভোট কেনাবেচা রোধে বিশেষ নজরদারি চালানো হচ্ছে উল্লেখ করে বলেন, বিষয়টি নিয়ে ইতোমধ্যেই একাধিক বৈঠক হয়েছে। প্রয়োজন হলে অর্থ লেনদেনে সীমা নির্ধারণ করা হবে।
নির্বাচন সংশ্লিষ্টদের কোনো ধরনের আপ্যায়ন গ্রহণ না করার নির্দেশনা পুনর্ব্যক্ত করে কমিশনার বলেন, অপতথ্য প্রতিরোধে দ্রুত সঠিক তথ্য প্রচার করতে হবে। পাশাপাশি বৃদ্ধ, প্রতিবন্ধী ও আহত ভোটারদের জন্য বিশেষ সুবিধা থাকবে।
সানাউল্লাহ বলেন, বড় দল হোক বা ছোট দল, পক্ষপাতমূলক আচরণ সহ্য করা হবে না। যেখানে অনিয়ম পাওয়া যাবে, সেখানে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। প্রতিটি জেলা ও কেন্দ্রে সিসিটিভি ক্যামেরা স্থাপন করা হবে, যাতে নির্বাচনকে স্বচ্ছ ও নিরপেক্ষ রাখা যায়।
সভায় জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তা খাইরুল আলম সুমন, পুলিশ সুপার ফারজানা ইসলামসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। কমিশনার আশ্বস্ত করেন যে, ভোটারদের জন্য সব ধরনের সুরক্ষা ও সুবিধা নিশ্চিত করা হবে। তিনি বলেন, প্রবাসী ভোটাররা দেশের সংবিধান অনুযায়ী তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে পারবেন।
নির্বাচন কমিশন ইতোমধ্যেই প্রবাসী ভোটের প্রস্তুতি সম্পন্ন করতে প্রয়োজনীয় প্রশিক্ষণ ও নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়েছে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী, পর্যবেক্ষক টিম ও প্রযুক্তিগত সরঞ্জাম নিশ্চিত করবে যে, কোনো অনিয়ম বা কারচুপি ঘটবে না। প্রবাসী ভোটের সুষ্ঠু ও স্বচ্ছ ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে দেশের গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়াকে আরও দৃঢ় করার প্রচেষ্টা চালাচ্ছে কমিশন।