ঢাকা, বাংলাদেশ ।
  রবিবার, ১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬,  ২৯ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
এমপিও শিক্ষকদের নির্বাচন ভাগ্য নির্ধারণ করবে ইসি: মীর শাহে আলম সরকারি কেনাকাটায় পুকুরচুরি ঠেকাতে আসছে অভিন্ন একক দরতালিকা সাগর-রুনি হত্যার বিচার চেয়ে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে লিখিত অভিযোগ তারুণ্য না অভিজ্ঞতা: ছাত্রদলের নতুন নেতৃত্ব চয়নে জটিল হিসাব-নিকাশ আওয়ামী লীগের কার্যক্রম নিষিদ্ধের প্রজ্ঞাপন চ্যালেঞ্জের রিট খারিজ হাইকোর্টে ইন্দোনেশিয়ায় ২৪০ যাত্রী নিয়ে জাহাজ নিখোঁজ ঠাকুরগাঁও সীমান্তে বিএসএফের গুলিতে বাংলাদেশি নিহত, আটক ২ কমলা হ্যারিসের বাড়িতে অনধিকার প্রবেশের চেষ্টা, পুলিশি নিরাপত্তা জোরদার রাজধানীতে সকালের বৃষ্টিতে সড়কে ভোগান্তি, ঝোড়ো হাওয়ার পূর্বাভাস ইয়েমেনে ফের তীব্র সংঘাত, ১২৯টি হামলার দাবি হুথিদের

মানুষ খুনের রাজনীতি আমরা ঘৃণা করি: শফিকুর রহমান


  • আপলোড সময় : রবিবার ০১ ফেব্রুয়ারী, ২০২৬ সময় : ৫:৩৪ পিএম

জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, রাজনীতির নাম যদি মানুষ খুন হয়, সেই রাজনীতি আমরা ঘৃণা করি। একটি দল চব্বিশ পরবর্তী সময়ে মাত্র সতেরো মাসেই নিজেদের দুই শতাধিক লোককে দুনিয়া থেকে সরিয়ে দিয়েছে। এমন রাজনীতি আমরা চাই না।

রোববার শেরপুর শহরের শহীদ দারোগা আলী পৌরপার্ক মাঠে আয়োজিত নির্বাচনী জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। তিনি বলেন, জামায়াতে ইসলামী এমন একটি রাষ্ট্র ব্যবস্থা চায়, যেখানে তুচ্ছ কোনো বিষয়কে কেন্দ্র করে হানাহানি হবে না, নোংরা রাজনীতি হবে না এবং মানুষে মানুষে বিভেদ তৈরি হবে না। আমরা এমন একটি দেশ গড়তে চাই, যেখানে মানুষের জানমালের নিরাপত্তা নিশ্চিত থাকবে।

বক্তব্যের শুরুতেই ডা. শফিকুর রহমান বলেন, আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যদের উপস্থিতিতে স্পষ্ট দিবালোকে একজন বিশিষ্ট শিক্ষক অধ্যাপক ও শ্রীবরদী উপজেলার সেক্রেটারি মাওলানা রেজাউল করিমকে নির্মমভাবে পিটিয়ে হত্যা করা হয়েছে। তিনি বলেন, অবশ্যই যারা হত্যা করেছে তাদের জন্য এটি কোনো উত্তর হতে পারে না। তারা তো নিজের দলের দুই শতাধিক মানুষকে বিদায় করে দিয়েছে। যে রাজনীতি মানুষকে নিরাপত্তা দেওয়ার বদলে খুন করে, সেটা আবার কোন রাজনীতি—এ প্রশ্ন তোলেন তিনি।

ডা. শফিকুর রহমান বলেন, আল্লাহ তায়ালা ৫ তারিখ দেশে একটি সুযোগ তৈরি করে দিয়েছেন। আল্লাহর কসম, বাংলাদেশে আসমানের ছাদের নিচে সবচেয়ে নির্যাতিত দলটি হচ্ছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী। একের পর এক সম্পূর্ণ মিথ্যা মামলায় ১১ জন শীর্ষ নেতাকে ঠান্ডা মাথায় হত্যা করা হয়েছে। তিনি বলেন, আমরা এখন আর এসব চাই না, আমরা শান্তি ও নিরাপত্তার রাজনীতি চাই।

তিনি আরও বলেন, রাজনীতি মানুষের কল্যাণের জন্য, ক্ষমতার জন্য নয়। ক্ষমতার লড়াইয়ে নিজের দলের লোকদেরই হত্যা করা হচ্ছে—এটি কোনো সুস্থ রাজনীতির লক্ষণ হতে পারে না। তিনি দাবি করেন, দেশের মানুষ এখন সহিংসতা ও রক্তপাতের রাজনীতি থেকে মুক্তি চায়।

ডা. শফিকুর রহমান বলেন, জামায়াতে ইসলামী রাষ্ট্র পরিচালনায় নৈতিকতা, ইনসাফ ও মানবিকতার ভিত্তিতে রাজনীতি করতে চায়। যেখানে মানুষের মতপ্রকাশের স্বাধীনতা থাকবে, রাজনৈতিক প্রতিপক্ষকে শত্রু হিসেবে দেখা হবে না এবং রাষ্ট্র সকল নাগরিকের নিরাপত্তা নিশ্চিত করবে।

নির্বাচনী জনসভায় জেলা জামায়াতে ইসলামীর আমির মাওলানা হাফিজুর রহমান, কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক ও ময়মনসিংহ অঞ্চলের দায়িত্বপ্রাপ্ত নেতা ড. ছামিউল ফারুকী, কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য ও বাংলাদেশ ডেভেলপমেন্ট পার্টির কেন্দ্রীয় অর্থ সম্পাদক রিয়াদ হোসাইন, ডাকসুর সাবেক জিএস এস এম ফরহাদসহ জামায়াত ও সহযোগী সংগঠনের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।

বক্তারা বলেন, দেশে একটি গ্রহণযোগ্য ও সহিংসতামুক্ত রাজনৈতিক পরিবেশ গড়ে তুলতে হলে জনগণকে ঐক্যবদ্ধ হতে হবে। জনসভা শেষে শান্তিপূর্ণ পরিবেশে কর্মসূচির সমাপ্তি হয়।


এ সম্পর্কিত আরো খবর