রোববার বাংলাদেশ ব্যাংক বিশেষ ছুটি ঘোষণা করে এই সিদ্ধান্তের কথা জানায়। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের পক্ষ থেকে জারি করা নির্দেশনায় বলা হয়েছে, জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট উপলক্ষ্যে সরকার নির্বাহী আদেশে ছুটি ঘোষণা করায় দেশের সব তফসিলি ব্যাংকে এই দুই দিন ব্যাংকিং কার্যক্রম বন্ধ থাকবে।
বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্দেশনায় আরও উল্লেখ করা হয়, ১১ ও ১২ ফেব্রুয়ারি দেশের সব সরকারি ও বেসরকারি তফসিলি ব্যাংকের শাখা, উপশাখা এবং অন্যান্য ব্যাংকিং কার্যক্রম বন্ধ থাকবে। এই সময়ে কোনো ধরনের লেনদেন, চেক ক্লিয়ারিং, আন্তঃব্যাংক আর্থিক লেনদেন কিংবা গ্রাহক সেবা কার্যক্রম চালু থাকবে না।
কেন্দ্রীয় ব্যাংক সূত্র জানায়, নির্বাচন ও গণভোট সুষ্ঠু, শান্তিপূর্ণ ও নির্বিঘ্নভাবে সম্পন্ন করার লক্ষ্যে এই বিশেষ ছুটির সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। নির্বাচনের দিন ভোটগ্রহণে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা-কর্মচারীদের দায়িত্ব পালনে সুবিধা নিশ্চিত করতেই এ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে।
এর আগে গত ২৫ জানুয়ারি জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় থেকে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট উপলক্ষ্যে আগামী ১১ ও ১২ ফেব্রুয়ারি সারাদেশে নির্বাচনকালীন নির্বাহী আদেশে সরকারি ছুটি ঘোষণা করা হয়। ওই ঘোষণার পরিপ্রেক্ষিতেই বাংলাদেশ ব্যাংক দেশের সব তফসিলি ব্যাংকের জন্য বিশেষ ছুটি ঘোষণা করে।
এছাড়া শিল্পাঞ্চলের শ্রমিক ও কর্মচারীদের ভোটাধিকার প্রয়োগে সুবিধা নিশ্চিত করতে আগামী ১০ ফেব্রুয়ারি বিশেষ ছুটি ঘোষণা করা হয়েছে। সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, শিল্পাঞ্চলগুলোতে কর্মরত শ্রমিকরা যাতে ভোট প্রদানে কোনো ধরনের বাধার সম্মুখীন না হন, সেজন্যই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
ব্যাংক বন্ধ থাকায় গ্রাহকদের প্রয়োজনীয় আর্থিক লেনদেন আগেভাগেই সম্পন্ন করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। ব্যাংকিং খাত সংশ্লিষ্টরা জানান, এটিএম ও ডিজিটাল ব্যাংকিং সেবা চালু থাকলেও শাখাভিত্তিক সব ধরনের কার্যক্রম বন্ধ থাকবে।
বাংলাদেশ ব্যাংকের পক্ষ থেকে ব্যাংকগুলোকে প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি গ্রহণের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে, যাতে ছুটির পর প্রথম কর্মদিবসে গ্রাহকসেবায় কোনো ধরনের জটিলতা না সৃষ্টি হয়। নির্বাচন ও গণভোট পরবর্তী প্রথম কর্মদিবস থেকে স্বাভাবিক নিয়মে ব্যাংকিং কার্যক্রম চালু হবে বলে জানানো হয়েছে।