মুন্সীগঞ্জ প্রতিনিধি
মুন্সীগঞ্জের শ্রীনগর উপজেলায় নির্মাণাধীন একটি মার্কেট দখলের চেষ্টায় বাধা দিতে গিয়ে আলমগীর (৫০) নামে এক ব্যক্তি নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় অন্তত আরও ৮ জন আহত হয়েছেন।
মঙ্গলবার (৩ ফেব্রুয়ারি) সকাল সাড়ে ৫ টার দিকে উপজেলার বালাসুর এলাকায় এ হামলার ঘটনা ঘটে। নিহত আলমগীর বালাসুর এলাকার বাসিন্দা। তিনি তার ভাই তমিজউদ্দীনের সঙ্গে যৌথভাবে বালাসুর বাজারে ‘তমি মার্কেট’ নামে একটি মার্কেট নির্মাণের কাজ শুরু করেছিলেন।
আহতরা হলেন তমিজউদ্দিন (৬৫), জাহাঙ্গীর (৫৫), তারেক (৩৫), তানসেল (২২), তুষার (২৪), আব্দুর রহমান (২৩)সহ আরও কয়েকজন। আহতদের ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, হান্নান হাজী গং, মানিক ডাকাত ও তাপস নামের কয়েকজন ব্যক্তি ওই জমিতে কিছু ওয়ারিশের মালিকানা রয়েছে দাবি করে আদালতে মামলা দায়ের করেছিলেন। তবে মামলায় তারা ব্যর্থ হন। এরপর রাতের আঁধারে সন্ত্রাসী বাহিনী নিয়ে জমি দখলের চেষ্টা চালানো হয়। মঙ্গলবার সকালে আবারও দেশীয় অস্ত্রসহ সন্ত্রাসী বাহিনী নির্মাণাধীন মার্কেট দখলের চেষ্টা করলে আলমগীর বাধা দেন।
প্রতিপক্ষের লোকজন তাকে এলোপাতাড়ি পিটিয়ে ও ধারালো অস্ত্র দিয়ে গুরুতর আহত করে। বাধা দিতে গিয়ে আরও কয়েকজন আহত হন। পরে স্থানীয়রা আশঙ্কাজনক অবস্থায় আলমগীরকে শ্রীনগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। হাসপাতালের গেটেই প্রতিপক্ষ লোকজন বেধড়ক মারধর চালায়। চিকিৎসাধীন অবস্থায় হাসপাতালেই আলমগীরের মৃত্যু হয়।
শ্রীনগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের কর্তব্যরত চিকিৎসক শংকরতান জানান, ভোর সাড়ে পাঁচটার দিকে দুই গ্রুপের বহু রোগী হাসপাতালে আসে। আলমগীরের অবস্থা খুবই আশঙ্কাজনক হওয়ায় তাকে মিডফোর্ড হাসপাতালে প্রেরণ করা হয়। পরবর্তীতে সেখানে তাকে মৃত ঘোষণা করা হয়।
শ্রীনগর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জুয়েল মিয়া বলেন, “আমরা ঘটনাটি জানতে পেরেছি। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, জমি সংক্রান্ত বিরোধের জেরে হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে। অভিযোগ পাওয়া গেছে এবং অভিযুক্তদের গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।”
স্থানীয়রা বলছেন, “আমরা আশ্চর্য যে, মামলা হারানো সত্ত্বেও প্রতিপক্ষ আবারও সশস্ত্রভাবে হামলা চালালো। আলমগীর ও অন্যান্যরা শুধু নিজেদের ব্যবসার জন্য বাধা দিচ্ছিল। পুলিশের তৎপরতা না থাকায় এমন ঘটনা ঘটেছে।”
এ ঘটনায় আহতদের মধ্যে কয়েকজনের অবস্থা গুরুতর। তারা বর্তমানে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। স্থানীয়দের অভিযোগ, এই ধরনের সন্ত্রাসী হামলা স্থানীয় অর্থনৈতিক কার্যক্রমকে বিপর্যস্ত করছে। নির্মাণাধীন মার্কেটের নিরাপত্তা ও সাধারণ ব্যবসায়ীদের জীবন ঝুঁকিতে রয়েছে।
স্থানীয়রা প্রশাসনের কাছে দাবি জানিয়েছেন, অবিলম্বে হামলাকারীদের গ্রেপ্তার ও নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে হবে। তারা বলেন, “এ ধরনের সশস্ত্র সংঘর্ষ এবং হামলা বন্ধ না হলে স্থানীয় ব্যবসা ও নিরাপত্তা সবই বিপন্ন হয়ে যাবে। প্রশাসন যেন কার্যকর পদক্ষেপ নেন।”
মুন্সীগঞ্জের শ্রীনগর উপজেলার এই ঘটনায় স্থানীয় ও প্রশাসনিক স্তরে চাপ সৃষ্টি হয়েছে। সাধারণ মানুষ আশা করছে, দ্রুত তদন্ত সম্পন্ন করে দোষীদের কঠোর শাস্তি দেওয়া হবে, যাতে ভবিষ্যতে আর এমন সন্ত্রাসী হামলার ঘটনা না ঘটে।
আকাশজমিন / আরআর