ঢাকা, বাংলাদেশ ।
  রবিবার, ১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬,  ২৯ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
এমপিও শিক্ষকদের নির্বাচন ভাগ্য নির্ধারণ করবে ইসি: মীর শাহে আলম সরকারি কেনাকাটায় পুকুরচুরি ঠেকাতে আসছে অভিন্ন একক দরতালিকা সাগর-রুনি হত্যার বিচার চেয়ে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে লিখিত অভিযোগ তারুণ্য না অভিজ্ঞতা: ছাত্রদলের নতুন নেতৃত্ব চয়নে জটিল হিসাব-নিকাশ আওয়ামী লীগের কার্যক্রম নিষিদ্ধের প্রজ্ঞাপন চ্যালেঞ্জের রিট খারিজ হাইকোর্টে ইন্দোনেশিয়ায় ২৪০ যাত্রী নিয়ে জাহাজ নিখোঁজ ঠাকুরগাঁও সীমান্তে বিএসএফের গুলিতে বাংলাদেশি নিহত, আটক ২ কমলা হ্যারিসের বাড়িতে অনধিকার প্রবেশের চেষ্টা, পুলিশি নিরাপত্তা জোরদার রাজধানীতে সকালের বৃষ্টিতে সড়কে ভোগান্তি, ঝোড়ো হাওয়ার পূর্বাভাস ইয়েমেনে ফের তীব্র সংঘাত, ১২৯টি হামলার দাবি হুথিদের

বৈধ কাগজ থাকা সত্ত্বেও ট্রাক আটক: ডেপুটি রেঞ্জারের বিরুদ্ধে অভিযোগ


  • আপলোড সময় : বুধবার ০৪ ফেব্রুয়ারী, ২০২৬ সময় : ৭:০১ পিএম

হবিগঞ্জ প্রতিনিধি :

হবিগঞ্জের চুনারুঘাট উপজেলায় বাড়ির বাগানের গাছকে রেমা–কালেঙ্গা সংরক্ষিত বনের গাছ হিসেবে দেখিয়ে একটি ট্রাকভর্তি লাকড়ি আটক করার অভিযোগ উঠেছে বন বিভাগের ডেপুটি রেঞ্জার আশিক মিয়ার বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় গাছের মালিক ও ক্রেতা উভয়েই নিজেদের বৈধ কাগজপত্র থাকার দাবি করেছেন।


অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, গত ২ ফেব্রুয়ারি চুনারুঘাট উপজেলার মিরাশি ইউনিয়নের গোয়াছপুর গ্রামের ফারুক মিয়া একটি ট্রাকে করে লাকড়ি হবিগঞ্জ শহরের দিকে নিয়ে যাচ্ছিলেন। এ সময় পথে বন বিভাগের ডেপুটি রেঞ্জার আশিক মিয়া ট্রাকটি আটক করেন এবং লাকড়িগুলো রেমা–কালেঙ্গা সংরক্ষিত বনাঞ্চলের গাছ বলে দাবি করেন।


এ বিষয়ে ফারুক মিয়া বলেন, তিনি মিরাশি ইউনিয়নের মহিরকোনা গ্রামের জাকারিয়া তালুকদারের বাড়ির বাগানের গাছ দুই লাখ টাকার বিনিময়ে ক্রয় করেছেন। গাছ ক্রয়ের পক্ষে তাঁর কাছে নন-জুডিশিয়াল স্ট্যাম্পে করা একটি চুক্তিনামা রয়েছে, যেখানে স্থানীয় তিনজন ইউপি সদস্যের স্বাক্ষরও সংযুক্ত রয়েছে।


গাছের মালিক জাকারিয়া তালুকদার অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, “আমি আমার নিজস্ব জায়গার গাছ ফারুক মিয়ার কাছে বিক্রি করেছি। এর সঙ্গে সংরক্ষিত বনের কোনো সম্পর্ক নেই।”

একই বক্তব্য দেন ওই ইউনিয়নের তিনজন ইউপি সদস্য। তাঁরা জানান, গাছ কেনাবেচার বিষয়টি তাঁদের জানা ছিল এবং বিষয়টি সম্পূর্ণ সত্য। এ ঘটনায় স্থানীয়দের মধ্যে প্রশ্ন উঠেছে—বৈধভাবে কেনা বাড়ির বাগানের গাছ কীভাবে বন বিভাগের সংরক্ষিত গাছ হিসেবে দাবি করা হচ্ছে।


এদিকে স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, এর আগেও ডেপুটি রেঞ্জার আশিক মিয়ার বিরুদ্ধে চাঁদাবাজির অভিযোগ ওঠে। গাজীপুর ইউনিয়নের গাজিনগর গ্রামের প্রতিবন্ধী ব্যক্তি সানু মিয়া তাঁর বিরুদ্ধে হবিগঞ্জ আদালতে একটি মামলা দায়ের করেন। ওই ঘটনার পর থেকেই বন বিভাগের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা আশিক মিয়ার কর্মকাণ্ডে অসন্তুষ্ট বলে এলাকাবাসীর দাবি।


এছাড়া, ওই মামলায় সাক্ষী হওয়ায় মোহাম্মদ আলী নামের এক ব্যক্তিকে বিভিন্ন মামলায় জড়ানো ও প্রাণনাশের হুমকি দেওয়ার অভিযোগও উঠেছে। এ ঘটনায় তিনি নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের আদালতে ১০৭ ধারায় একটি মামলা দায়ের করেন। আদালত এ বিষয়ে সমন জারি করেছেন বলে জানা গেছে।


এ বিষয়ে ডেপুটি রেঞ্জার আশিক মিয়ার বক্তব্য জানতে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাঁর কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি। একইভাবে বন বিভাগের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের কাছ থেকেও এ বিষয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।

আকাশজমিন / আরআর 


এ সম্পর্কিত আরো খবর