আমতলী (বরগুনা) প্রতিনিধি
বরগুনার তালতলীতে প্রেমের ফাঁদে ফেলে বিয়ের প্রলোভনে এক নারীকে হিরণ হাওলাদারের বাড়ীতে নিয়ে গিয়ে চারজনের দ্বারা গণধর্ষণের অভিযোগ পাওয়া গেছে। মঙ্গলবার রাতে পঁচাকোড়লিয়া ইউনিয়নের বড়পাড়া গ্রামে এই ঘটনা ঘটেছে। বুধবার বেলা সাড়ে ১১টায় পুলিশ ওই নারীকে উদ্ধার করে থানায় নিয়ে গেছে। এ ঘটনায় মামলা প্রস্তুতির কাজ চলছে।
জানাগেছে, জানুয়ারি মাসের মাঝামাঝি সময়ে তালতলী উপজেলার ওই নারী পটুয়াখালীর কলাপাড়া উপজেলার মহিপুর এলাকায় শুটকি পল্লীতে মাছ প্রক্রিয়াজাতকরণের কাজে যান। সেখানে পঁচাকোড়লিয়া ইউনিয়নের মানিক হাওলাদারের ছেলে হিরণের সঙ্গে তার পরিচয় হয় এবং সখ্যতা গড়ে ওঠে। একপর্যায়ে হিরণ তাকে বিয়ের প্রস্তাব দেন।
গত শুক্রবার হিরণ ওই নারী ও তার মাকে নিয়ে কুয়াকাটায় যান এবং বিয়ের বিষয়ে বৈঠক করেন। পরে পরিবারের সঙ্গে কথা বলে দ্রুত বিয়ের আশ্বাস দেন। মঙ্গলবার বিকালে হিরণ মহিপুর থেকে ওই নারীকে তালতলীর বড়পাড়া এলাকায় তার বাড়ীতে নিয়ে আসেন। ওই রাতে হিরণ ও তার তিন সহযোগী ওই নারীর সঙ্গে জোরপূর্বক একাধিকবার গণধর্ষণ এবং পাশবিক নির্যাতন চালায়।
নারী কৌশলে ঘর থেকে পালিয়ে একটি মসজিদের পাশে আশ্রয় নেন। বুধবার ভোরে মুসুল্লীরা তাকে দেখতে পেয়ে ঘটনার বিস্তারিত জানতে পারেন। খবর পেয়ে তালতলী থানার পুলিশ নারীকে উদ্ধার করে থানায় নিয়ে আসে। ডাক্তারী পরীক্ষার জন্য বরগুনা জেনারেল হাসপাতালে পাঠানো হবে।
ভুক্তভোগী নারী জানান, মহিপুর শুটকি পল্লীতে কাজ করার সময় হিরণের সঙ্গে পরিচয় হয়। পরে প্রেমের ফাঁদে ফেলে বিয়ে করার আশ্বাসে তাকে তার বাড়ীতে নিয়ে যায়। ওই রাতে হিরণ ও তার সহযোগীরা তাকে জোরপূর্বক ধর্ষণ এবং পাশবিক নির্যাতন করে। পালানোর সময় হুমকির মুখে পড়তে হয়। তিনি বলেন, “আমি চাই এই ঘটনার বিচার হোক।”
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক স্থানীয়রা বলেন, হিরণ দীর্ঘদিন ধরে প্রেমের ফাঁদে ফেলে ও বিয়ের প্রলোভনে নারীকে বাড়ীতে নিয়ে ধর্ষণ ও নির্যাতন চালিয়ে আসছে। কেউ প্রতিবাদ করলে মিথ্যা মামলার হুমকি দেওয়া হয়। হিরণের একাধিক বউ রয়েছে, যারা এ কাজে সহযোগিতা করে। এর আগে হিরণ মুন হোটেলে একই কাজ করত।
স্থানীয় মুসল্লি ফারুক বলেন, ফজরের নামাজ শেষে এক নারীকে মসজিদের পাশে কাঁদতে দেখে জিজ্ঞেস করলে তিনি জানান, হিরণ ও তার সহযোগীরা তাকে রাতভর ধর্ষণ করেছে।
তালতলী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আশাদুর রহমান জানান, খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে নারীকে উদ্ধার করে থানায় আনে। অভিযোগের প্রেক্ষিতে মামলা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলছে। তিনি আরও বলেন, নারীকে ডাক্তারী পরীক্ষার জন্য বরগুনা জেনারেল হাসপাতালে পাঠানো হবে।
আকাশজমিন / আরআর