ঢাকা, বাংলাদেশ ।
  রবিবার, ০১ নভেম্বর ২০২৬,  ১৭ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
গাজীপুরে শ্রমিক-পুলিশ সংঘর্ষ, ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কে ১০ কিমি যানজট শিক্ষা বোর্ডভিত্তিক এইচএসসি ফল: পাসের হারে বড় ব্যবধান হারুন অর রশীদকে চাকরি থেকে বরখাস্ত করল সরকার বেতন-ভাতা বৃদ্ধির দাবিতে আবারও ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়ক অবরোধ বিরোধীদলের লং মার্চের কোনো যৌক্তিকতা নেই: রুহুল কবির রিজভী মিরপুর টেস্টে চার দিনেই বাংলাদেশের বড় হার, ওয়েস্ট ইন্ডিজের জয় ৮ উইকেটে সাবেক বিমানবাহিনী কর্মকর্তা তাহসিফ হত্যা: দীপ ৪ দিনের রিমান্ডে সৌদিতে আগুনে নিহত ৭ বাংলাদেশির লাশ দেশে পৌঁছেছে ময়মনসিংহ বোর্ডে পাসের হার ৫১.৪৪%, সামান্য কমলো সাফল্য ৩০ হাজার টাকা বেতনের দাবিতে মিরপুরে পোশাক শ্রমিকদের সড়ক অবরোধ

খামেনির চিন্তিত হওয়া উচিত—হুমকির সুরে ট্রাম্প


  • আপলোড সময় : বৃহস্পতিবার ০৫ ফেব্রুয়ারী, ২০২৬ সময় : ৪:০৭ পিএম

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

ইরানের সুপ্রিম লিডার আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির অত্যন্ত চিন্তিত হওয়া উচিত বলে মন্তব্য করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের প্রতিনিধিদের মধ্যে আলোচনার অনিশ্চয়তা তৈরি হওয়ার প্রেক্ষাপটে তিনি এই মন্তব্য করেন। যদিও শেষ পর্যন্ত দুই দেশ আলোচনায় বসতে সম্মত হয়েছে।

শুক্রবার (৬ ফেব্রুয়ারি) যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের প্রতিনিধিদের মধ্যে বৈঠক অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। তবে তার আগের দিন বুধবার আলোচনা বাতিল হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হলে বিষয়টি ঘিরে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে উত্তেজনা দেখা দেয়। সেই সময় হুমকির সুরে ট্রাম্প বলেন, আলোচনা না হলে খামেনির অত্যন্ত চিন্তিত হওয়া উচিত।

নানা নাটকীয়তার পর শেষ পর্যন্ত আলোচনায় বসতে রাজি হয় যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান। বৈঠকটি অনুষ্ঠিত হবে ওমানের রাজধানী মাস্কাটে। ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি এ তথ্য নিশ্চিত করেন। তিনি জানান, শুক্রবার মাস্কাটের স্থানীয় সময় সকাল ১০টায় দুই দেশের প্রতিনিধিদের মধ্যে বৈঠক শুরু হবে।

বৈঠক নিয়ে যখন অনিশ্চয়তা তৈরি হয়, তখন যুক্তরাষ্ট্রের একটি সংবাদমাধ্যমের সাংবাদিক ট্রাম্পকে এ বিষয়ে প্রশ্ন করেন। জবাবে ট্রাম্প বলেন, “আমি বলব তার খুবই চিন্তিত হওয়া উচিত। হ্যাঁ, তার চিন্তিত হওয়া উচিত। তবে আপনি জানেন, তারা আমাদের সঙ্গে আলোচনা করছে।” তার এই বক্তব্য আন্তর্জাতিক পরিসরে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দেয়।

যুক্তরাষ্ট্র আলোচনায় ইরানের পারমাণবিক কার্যক্রম ছাড়াও ব্যালিস্টিক মিসাইল কর্মসূচি এবং মধ্যপ্রাচ্যে প্রক্সি বাহিনীকে সহায়তার বিষয়গুলো অন্তর্ভুক্ত করতে চায়। এসব ইস্যু নিয়ে দীর্ঘদিন ধরেই দুই দেশের মধ্যে মতবিরোধ চলে আসছে। যুক্তরাষ্ট্রের মতে, এসব কার্যক্রম আঞ্চলিক ও বৈশ্বিক নিরাপত্তার জন্য হুমকি।

অন্যদিকে ইরান স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে, তারা পারমাণবিক কার্যক্রম ছাড়া অন্য কোনো বিষয়ে আলোচনায় বসবে না। ইরান সরকারের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, পারমাণবিক কর্মসূচি শান্তিপূর্ণ এবং আন্তর্জাতিক আইন অনুযায়ী পরিচালিত হচ্ছে। অতিরিক্ত কোনো শর্তে তারা আলোচনা করতে রাজি নয়।

ইরানের এই দৃঢ় অবস্থানের কারণেই একপর্যায়ে যুক্তরাষ্ট্র আলোচনা থেকে সরে যাওয়ার ইঙ্গিত দিয়েছিল। একটি সূত্র জানিয়েছে, ইরানকে বলা হয়— যুক্তরাষ্ট্রের শর্তে আলোচনা করতে হবে, নতুবা কোনো আলোচনা হবে না। এর জবাবে ইরান জানিয়ে দেয়, এমন শর্ত চাপিয়ে দিলে তারা বৈঠকে অংশ নেবে না।

পরিস্থিতি জটিল হয়ে উঠলেও শেষ পর্যন্ত কূটনৈতিক চ্যানেলের মাধ্যমে উভয় পক্ষ আলোচনায় বসার সিদ্ধান্ত নেয়। বিশ্লেষকরা মনে করছেন, এই বৈঠক দুই দেশের সম্পর্কের ভবিষ্যৎ গতিপথ নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। একই সঙ্গে ট্রাম্পের বক্তব্য আলোচনার টেবিলে চাপ সৃষ্টি করার কৌশল হিসেবেও দেখা হচ্ছে।

সূত্র: এনবিসি

আকাশজমিন / আরআর  


এ সম্পর্কিত আরো খবর