যুক্তরাষ্ট্র ও ইউক্রেন আগামী মার্চের মধ্যে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ সমাধানের জন্য একটি শান্তিচুক্তি সম্পন্ন করা এবং দ্রুত জাতীয় নির্বাচন আয়োজনের লক্ষ্য নিয়ে আলোচনা চালাচ্ছেন। তবে ভূখণ্ড সংক্রান্ত গুরুত্বপূর্ণ ইস্যুতে এখনও কোনো ঐকমত্য না হওয়ায় এই সময়সীমা বাস্তবায়ন পিছিয়ে যেতে পারে বলে বিষয়টি সম্পর্কে অবগত তিনটি সূত্র জানিয়েছে। ব্রিটিশ বার্তা সংস্থা রয়টার্স এ খবর জানিয়েছে।
আলোচনার সঙ্গে পরিচিত সূত্রগুলো জানিয়েছেন, যুক্তরাষ্ট্র ও ইউক্রেনের প্রতিনিধিরা এমন একটি কাঠামো নিয়ে কথা বলেছেন, যেখানে যেকোনও সম্ভাব্য শান্তিচুক্তি ইউক্রেনের জনগণের অনুমোদনের জন্য গণভোটে তোলা হবে। একই সময়ে জাতীয় নির্বাচন আয়োজনের বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে।
সূত্রগুলো জানিয়েছে, নভেম্বরের কংগ্রেসনাল মধ্যবর্তী নির্বাচন ঘনিয়ে এলে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প প্রশাসনের মনোযোগ অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতে বেশি কেন্দ্রীভূত হবে। ফলে ইউক্রেন যুদ্ধের শান্তিচুক্তিতে সময় ও রাজনৈতিক উদ্যোগ কমে যেতে পারে। এ কারণেই ওয়াশিংটন দ্রুত অগ্রগতির ওপর জোর দিচ্ছে।
দুটি সূত্র আরও জানিয়েছে, মে মাসে জাতীয় নির্বাচন ও গণভোট একসঙ্গে আয়োজনের সম্ভাবনা নিয়েও আলোচনা হয়েছে। তবে আলোচনার সঙ্গে যুক্ত কয়েকজন সূত্র মার্কিন প্রস্তাবিত সময়সূচিকে বাস্তবসম্মত নয় বলে মনে করছেন। অন্যদিকে ইউক্রেনের নির্বাচন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, বর্তমান পরিস্থিতিতে একটি নির্বাচন আয়োজন করতে অন্তত ছয় মাস সময় লাগবে।
একটি সূত্র বলেছেন, আমেরিকানরা তাড়াহুড়া করছে। যদিও ছয় মাসের কম সময়েও ভোট আয়োজন সম্ভব, তবুও তা সহজ নয়। বর্তমানে ইউক্রেনে সামরিক আইন জারি থাকায় নির্বাচন ও গণভোট আইনত নিষিদ্ধ। এজন্য আইন সংশোধন প্রয়োজন হবে, পাশাপাশি ব্যয়ও অনেক।
ইউক্রেন চায় ভোটের পুরো সময়জুড়ে যুদ্ধবিরতি থাকুক, যাতে গণভোটের গ্রহণযোগ্যতা নিশ্চিত হয়। তবে কিয়েভের অভিযোগ, অতীতে রাশিয়া যুদ্ধবিরতির প্রতিশ্রুতি ভেঙেছে।
একটি সূত্র আরও জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র ও অংশীদার দেশগুলোর কাছ থেকে নিরাপত্তা নিশ্চয়তা না পাওয়া পর্যন্ত কোনও চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছানো যাবে না, এটাই ইউক্রেনের অবস্থান।
রাশিয়া পুরো দোনবাস অঞ্চল নিজেদের নিয়ন্ত্রণে নিতে চাইলেও কিয়েভ তা অগ্রহণযোগ্য মনে করছে। জাপোরিঝঝিয়া পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের নিয়ন্ত্রণ নিয়েও দুই পক্ষের মধ্যে মতপার্থক্য রয়ে গেছে।
যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় দ্বিতীয় দফা আলোচনা আবুধাবিতে শেষ হয়েছে। এতে ৩১৪ জন যুদ্ধবন্দি মুক্তি পেয়েছেন এবং আলোচনার ধারাবাহিকতা বজায় রাখার বিষয়ে সম্মতি হয়েছে। ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি জানিয়েছেন, পরবর্তী ত্রিপক্ষীয় বৈঠক শিগগিরই যুক্তরাষ্ট্রে হতে পারে।
সূত্ররা বলছে, যুক্তরাষ্ট্র শান্তিচুক্তি ও দ্রুত নির্বাচনের ক্ষেত্রে তৎপর হলেও বাস্তবায়ন কঠিন। যুদ্ধে জড়িত অঞ্চলে নিরাপত্তা, আইন সংশোধন ও জনগণের অনুমোদন ছাড়া কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া সম্ভব নয়।
মোটের উপর, যুক্তরাষ্ট্র ও ইউক্রেনের আলোচনার মূল লক্ষ্য হলো রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ শেষ করা এবং দেশের রাজনীতিকে স্থিতিশীল করা। তবে সময়সূচি, রাজনৈতিক চাপে এবং ভূখণ্ড সংক্রান্ত বিরোধে এই লক্ষ্য অর্জন সহজ হবে না।