কুখ্যাত যৌন অপরাধী জেফরি এপস্টেইনকে নিয়ে নতুন করে বিশ্বজুড়ে চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। ব্রিটেনের সাবেক প্রিন্স অ্যান্ড্রু উইন্ডসরের এক্স গার্লফ্রেন্ড লেডি ভিক্টোরিয়া হার্ভে দাবি করেছেন, এপস্টেইন মারা যাননি—তিনি এখনও জীবিত। তার এই বিস্ফোরক মন্তব্য ঘিরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও আন্তর্জাতিক অঙ্গনে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে।
লেডি ভিক্টোরিয়া হার্ভে বলেন, তার দৃঢ় বিশ্বাস—এপস্টেইন আত্মহত্যা করেননি এবং তিনি কারাগারে মারা যাননি। বরং পরিকল্পিতভাবে তাকে কারাগার থেকে সরিয়ে নেওয়া হয়েছিল। তার দাবি অনুযায়ী, এপস্টেইনকে ‘ট্রিপ ভ্যান’-এর মাধ্যমে গোপনে স্থানান্তর করা হয় এবং পরে তিনি দেশ ছাড়েন।
একটি ব্রিটিশ রেডিও সাক্ষাৎকারে লেডি ভিক্টোরিয়া বলেন, “সত্যি বলতে আমার কখনোই মনে হয়নি এপস্টেইন মারা গেছেন। আমার বিশ্বাস হয় না যে তিনি আত্মহত্যা করেছেন। আমি মনে করি, তিনি ইসরায়েলে পালিয়ে গেছেন এবং এখনো ভালো আছেন।”
উল্লেখ্য, ২০১৯ সালে যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কের একটি কারাগারে জেফরি এপস্টেইনের মৃত্যুর খবর প্রকাশ পায়। কারা কর্তৃপক্ষ জানায়, ১০ আগস্ট সকাল ৬টা ৩০ মিনিটে তাকে সেলের ভেতর অচেতন অবস্থায় পাওয়া যায় এবং পরে তাকে মৃত ঘোষণা করা হয়। সরকারি ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কারাগারের সেলে আত্মহত্যা করেন।
তবে শুরু থেকেই তার মৃত্যু নিয়ে প্রশ্ন উঠতে থাকে। বিভিন্ন প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, এপস্টেইনের ঘাড়ে আঘাতের চিহ্ন ছিল, যা আত্মহত্যার দাবিকে ঘিরে সন্দেহ আরও বাড়িয়ে তোলে। অনেক বিশেষজ্ঞ ও পর্যবেক্ষক তখন থেকেই বলে আসছেন, এ মৃত্যু রহস্যজনক এবং পূর্ণাঙ্গভাবে ব্যাখ্যা করা হয়নি।
এপস্টেইনের মৃত্যুকে কেন্দ্র করে বিশ্বজুড়ে ষড়যন্ত্র তত্ত্বের জন্ম হয়। কেউ কেউ দাবি করেন, প্রভাবশালী মহলের নাম ফাঁস হয়ে যাওয়ার আশঙ্কায় তাকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে। আবার কেউ বলেন, রাষ্ট্রীয় বা আন্তর্জাতিক গোয়েন্দা সংস্থার সহায়তায় তিনি মৃত্যুর নাটক সাজিয়ে আত্মগোপনে চলে গেছেন।
এই প্রেক্ষাপটে সাম্প্রতিক সময়ে মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থা এফবিআইয়ের একটি বক্তব্য নতুন করে আলোড়ন সৃষ্টি করেছে। সংস্থাটি জানিয়েছে, জেফরি এপস্টেইন ইসরায়েলের গোয়েন্দা সংস্থা মোসাদের প্রশিক্ষিত এজেন্ট ছিলেন। এছাড়া কিছু রিপোর্টে দাবি করা হয়েছে, তিনি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল—উভয় দেশের গোয়েন্দা সংস্থার জন্য কাজ করতেন।
এই তথ্য সামনে আসার পর এপস্টেইনের মৃত্যু নিয়ে সন্দেহ আরও ঘনীভূত হয়। অনেকেই প্রশ্ন তুলছেন—একজন আন্তর্জাতিক গোয়েন্দা সংস্থার সঙ্গে সম্পৃক্ত ব্যক্তি এত সহজে কারাগারে আত্মহত্যা করতে পারেন কি না।
এরই মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রের বিচার বিভাগ গত দুই মাসে জেফরি এপস্টেইন সংশ্লিষ্ট যৌন পাচার ও শিশু নির্যাতন–সংক্রান্ত তদন্তের লাখ লাখ নথি প্রকাশ করেছে। এসব নথিতে বিশ্বের বহু প্রভাবশালী ব্যক্তি, রাজনীতিক, ধনকুবের ও ক্ষমতাবানদের নাম উঠে এসেছে। প্রকাশিত তথ্যগুলো বিশ্বজুড়ে ব্যাপক প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করেছে।
বিশ্লেষকদের মতে, এসব নথি প্রকাশের পর এপস্টেইনের মৃত্যু নিয়ে আবারও নতুন করে আলোচনা শুরু হওয়াটা কাকতালীয় নয়। অনেকের ধারণা, এই নথিতে থাকা তথ্য থেকে দৃষ্টি সরাতেই ইচ্ছাকৃতভাবে মৃত্যুর রহস্যকে ধোঁয়াশায় রাখা হয়েছিল।
লেডি ভিক্টোরিয়া হার্ভের দাবি নতুন না হলেও, তার প্রকাশ্য বক্তব্য আন্তর্জাতিক মিডিয়ায় ছড়িয়ে পড়ায় বিষয়টি আবারও আলোচনার কেন্দ্রে এসেছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অনেকেই তার বক্তব্য সমর্থন করছেন, আবার অনেকে এটিকে ভিত্তিহীন দাবি বলেও উল্লেখ করছেন।
তবে বাস্তবতা হলো—এপস্টেইনের মৃত্যু নিয়ে আজও পুরোপুরি ধোঁয়াশা কাটেনি। সরকারি তদন্তে আত্মহত্যার কথা বলা হলেও, অসংখ্য প্রশ্নের উত্তর আজও অজানা রয়ে গেছে। লেডি ভিক্টোরিয়ার মতো প্রভাবশালী ব্যক্তিদের বক্তব্য সেই রহস্যকে আরও গভীর করছে।
বিশ্বজুড়ে যৌন পাচার, ক্ষমতার অপব্যবহার এবং প্রভাবশালী মহলের দায়মুক্তি নিয়ে যে আলোচনা চলছে, জেফরি এপস্টেইনের নাম সেখানে প্রতীক হয়ে উঠেছে। তিনি সত্যিই মারা গেছেন, নাকি আত্মগোপনে আছেন—সে প্রশ্নের চূড়ান্ত উত্তর এখনও অধরাই রয়ে গেছে।
আকাশজমিন / আরআর