নির্বাচনকে কেন্দ্র করে সীমান্ত এলাকায় সর্বোচ্চ নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী। তিনি বলেছেন, ভারতীয় সীমান্ত এলাকাগুলোতে প্রচুর সংখ্যক বিজিবি মোতায়েন করা হয়েছে। সীমান্তের আট কিলোমিটার এলাকার মধ্যে সাধারণত সেনাবাহিনী মোতায়েন করা হয় না। তবে পরিস্থিতি বিবেচনায় প্রয়োজনে সেখানে সেনাবাহিনী পাঠানো হবে।
রোববার রংপুর বিভাগীয় কমিশনার কার্যালয়ের সম্মেলন কক্ষে জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট উপলক্ষে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে আয়োজিত মতবিনিময় সভা শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে এসব কথা বলেন স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা।
জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী বলেন, আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচন অত্যন্ত শান্তিপূর্ণ, সুষ্ঠু ও উৎসবমুখর পরিবেশে অনুষ্ঠিত হবে। এবারের নির্বাচনে কোনো ধরনের ভোট কারচুপির শঙ্কা নেই বলে তিনি দৃঢ় আশাবাদ ব্যক্ত করেন। তিনি বলেন, সরকার একটি গ্রহণযোগ্য ও বিশ্বাসযোগ্য নির্বাচন উপহার দিতে বদ্ধপরিকর।
সাংবাদিকদের উদ্দেশে তিনি বলেন, আপনারা সহযোগিতা করবেন। কোথাও যদি কোনো ধরনের কারচুপি বা অনিয়ম চোখে পড়ে, সঙ্গে সঙ্গে আমাদের জানাবেন। আমরা তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নেব। এটি একটি খুবই ক্রেডিবল ইলেকশন হতে যাচ্ছে।
বিদ্যমান আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতিতে সুষ্ঠু নির্বাচন সম্ভব কি না— এমন প্রশ্নের জবাবে স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা বলেন, যে জায়গায় যে ধরনের ব্যবস্থা নেওয়া প্রয়োজন, সে অনুযায়ী আমাদের প্রস্তুতি রয়েছে। পরিস্থিতি মোকাবিলায় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী সম্পূর্ণ প্রস্তুত রয়েছে।
তিনি আরও বলেন, রংপুর বিভাগে সভা করে সংশ্লিষ্ট সবাইকে জানানো হয়েছে যে নির্বাচনকে কেন্দ্র করে বিভাগের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি খুবই ভালো রয়েছে। ইতোমধ্যে নির্বাচন পরিচালনার জন্য প্রয়োজনীয় সব ধরনের প্রস্তুতি সম্পন্ন করা হয়েছে। এ জন্য বিভাগীয় ও জেলা প্রশাসনসহ আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যদের তিনি ধন্যবাদ জানান।
সীমান্ত এলাকায় নিরাপত্তা জোরদারের বিষয়ে স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা বলেন, নির্বাচনকালীন সময়ে যেন কোনো ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনা না ঘটে, সে জন্য সীমান্তবর্তী এলাকাগুলোতে বিশেষ নজরদারি রাখা হয়েছে। বিজিবি নিয়মিত টহল দিচ্ছে এবং গোয়েন্দা নজরদারিও জোরদার করা হয়েছে।
এদিকে শনিবার রাতে রাজধানীতে একটি অনলাইন পত্রিকা অফিস থেকে ২১ জন সাংবাদিককে তুলে নিয়ে যাওয়ার বিষয়ে প্রশ্ন করা হলে জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী বলেন, বিষয়টি তিনি দেখেননি। এ বিষয়ে বিস্তারিত জেনে পরে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হবে বলেও ইঙ্গিত দেন তিনি।
মতবিনিময় সভায় রংপুর বিভাগীয় কমিশনার শহীদুল ইসলাম, রংপুর রেঞ্জের ডিআইজি আমিনুল ইসলাম, রংপুর মেট্রোপলিটন পুলিশ কমিশনার মজিদ আলীসহ রংপুর বিভাগের আট জেলার জেলা প্রশাসক, পুলিশ সুপার এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
আকাশজমিন / আরআর