আন্তর্জাতিক ডেস্ক
ফিলিস্তিনের পশ্চিম তীর অঞ্চলে ইসরাইলের সাম্প্রতিক তৎপরতা দ্বি-রাষ্ট্র সমাধান ও আঞ্চলিক শান্তির জন্য বড় ধরনের হুমকি হিসেবে ধরা হচ্ছে। এই সতর্কবার্তা দিয়েছেন ফিলিস্তিনের প্রেসিডেন্ট মাহমুদ আব্বাস। সোমবার (৯ ফেব্রুয়ারি) জর্ডানের রাজধানী আম্মানে এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের দৃষ্টি আকর্ষণ করে বলেন, ইসরাইলের সম্প্রসারণবাদী কর্মকাণ্ড শুধুমাত্র দ্বি-রাষ্ট্র সমাধানকে নয়, মধ্যপ্রাচ্যের স্থিতিশীলতা ও ধর্মীয় স্থাপনার নিরাপত্তাকেও বিপন্ন করছে।
জর্ডান সফরে গিয়েছিলেন ইসরাইলি প্রেসিডেন্ট আইজ্যাক হারজোগ। জর্ডানের রাজা আবদুল্লাহ (২) এর সঙ্গে বৈঠক শেষে এক যৌথ সংবাদ সম্মেলনে মাহমুদ আব্বাস বলেন, “আন্তর্জাতিক আইন ও বৈশ্বিকভাবে স্বীকৃত সিদ্ধান্ত অমান্য করে ইসরাইল পশ্চিম তীরে দখলদারিত্ব কার্যক্রম বৃদ্ধি করেছে। এটি ফিলিস্তিনের স্বাধীন রাষ্ট্র হিসেবে আত্মপ্রকাশের সম্ভাবনাকে চিরতরে নস্যাৎ করার চেষ্টা।”
প্রেসিডেন্ট আব্বাসের মতে, ইসরাইলের এই পদক্ষেপ শুধু ফিলিস্তিনকে ক্ষতিগ্রস্ত করছে না, বরং পুরো মধ্যপ্রাচ্যের শান্তি, স্থিতিশীলতা এবং ইসলাম ও খ্রিস্টান ধর্মের গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনাগুলোর নিরাপত্তার জন্যও ঝুঁকি তৈরি করছে। তিনি ইসরাইলকে এই কার্যক্রম স্থগিত করার আহ্বান জানান।
এই পরিস্থিতিতে আব্বাস মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন। তিনি বলেন, “প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের প্রস্তাবিত শান্তি পরিকল্পনায় ফিলিস্তিনের অন্তর্ভুক্ত ভূখণ্ডে ইসরাইলের দখলদারিত্ব কার্যক্রম স্থগিত রাখার বিষয়টি উল্লেখ ছিল। আমি তাকে স্মরণ করিয়ে দিতে চাই এবং ফিলিস্তিনের স্বার্থে এ ইস্যুতে তার হস্তক্ষেপ কামনা করছি।”
আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়, বিশেষ করে তুরস্কের বার্তা সংস্থা আনাদোলু জানিয়েছে, আব্বাস জর্ডান সফরে ইসরাইলি দখল ও সম্প্রসারণবাদী কর্মকাণ্ডের পরিণতি নিয়ে সতর্কবার্তা দিয়েছেন। তিনি ইঙ্গিত দিয়েছেন, এই দখলদারিত্ব শুধুমাত্র রাজনৈতিক সমস্যা সৃষ্টি করছে না, বরং ধর্মীয় ও সামাজিক স্থিতিশীলতার ওপরও প্রভাব ফেলছে।
বিশ্লেষকরা মনে করছেন, পশ্চিম তীরে ইসরাইলের সাম্প্রতিক কর্মকাণ্ডের কারণে ফিলিস্তিনের রাজনৈতিক পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠেছে। দ্বি-রাষ্ট্র সমাধান বাস্তবায়নের সম্ভাবনা কমতে পারে। একই সঙ্গে, আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের সক্রিয় হস্তক্ষেপ ছাড়া মধ্যপ্রাচ্যে শান্তি ও স্থিতিশীলতা বজায় রাখা কঠিন হয়ে পড়বে।
প্রেসিডেন্ট আব্বাসের বক্তব্য আন্তর্জাতিক নীতি এবং মানবাধিকার বিষয়ক বিভিন্ন সংস্থার নজরে এসেছে। তিনি জোর দিয়ে বলেন, আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের উচিত ফিলিস্তিনকে স্বাধীন রাষ্ট্র হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়ার পাশাপাশি ইসরাইলের সম্প্রসারণমূলক কর্মকাণ্ডে বাধা দেওয়া।
এবার পরিস্থিতি শান্তিপূর্ণভাবে নিয়ন্ত্রণ করা না গেলে, পশ্চিম তীর অঞ্চলে সংঘর্ষ ও মানবিক সংকট বেড়ে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। আব্বাসের কঠোর সতর্কবার্তা আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের দৃষ্টি আকর্ষণ করছে এবং ইসরাইলের দখলদারিত্ব বিষয়ে বৈশ্বিক সতর্কতা জারি করছে।
আকাশজমিন / আরআর