ঢাকা, বাংলাদেশ ।
  বুধবার, ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬,  ১ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
সিরাজগঞ্জে বেপরোয়া গরু চোরচক্র, আতঙ্কে কৃষক-খামারিরা আজ কমতে পারে তাপমাত্রা, স্বস্তির বৃষ্টির পূর্বাভাস দুপুর ১২টায় প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে আজ বিশেষ সংবাদ সম্মেলন রাশিয়ার হুমকিতে ফ্রান্সের পারমাণবিক ছাতায় ফিনল্যান্ড জাপানে শতবর্ষী প্রবীণের সংখ্যা ১ লাখ ৭ হাজার, ৮৮ শতাংশই নারী মোহাম্মদপুরে মধ্যরাতে পার্কিং করা বাসে আগুন নন্দিগ্রাম-রেজিনগরের উপনির্বাচন মুসলিমদের জন্য পরীক্ষা: শুভেন্দু অধিকারী মিয়ানমার জান্তাকে তথ্য সরবরাহের অভিযোগে তদন্তের মুখে টেলিনর ইস্ট-ওয়েস্ট পাইপলাইনে ড্রোন হামলা: স্তব্ধ সৌদির বিশ্বব্যাপী তেল রপ্তানি থানচির বলিপাড়ায় আগুনে ১৩ দোকান ভস্মীভূত

জাপানের প্রধানমন্ত্রী নির্বাচনে জয়ী হওয়ার পর চীনের সতর্কবার্তা


  • আপলোড সময় : মঙ্গলবার ১০ ফেব্রুয়ারী, ২০২৬ সময় : ৩:৫৩ পিএম

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

জাপানের জাতীয় নির্বাচনে সানায়ে তাকাইচি জয়ী হওয়ার পর টোকিওকে সতর্কবার্তা দিয়েছে চীন। বেইজিংয়ের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, জাপানের প্রধানমন্ত্রী যদি কোনো প্রকার বেপরোয়া পদক্ষেপ নেন, তাহলে তার সমুচিত জবাব দেওয়ার জন্য চীন প্রস্তুত রয়েছে।

২০২৫ সালের সেপ্টেম্বরে জাপানের সাবেক প্রধানমন্ত্রী শিগেরু ইশিবার পদত্যাগের পর অন্তর্বর্তী প্রধানমন্ত্রী হন সানায়ে তাকাইচি। পরবর্তী নভেম্বরে এক জনসভায় তিনি চীনের উদ্দেশ্যে হুঁশিয়ারি দেন। বক্তব্যে তিনি বলেন, স্বায়ত্বশাসিত তাইওয়ান ভূখণ্ডে যদি চীন কখনও হামলা চালানোর চেষ্টা করে, তাহলে জাপান সামরিক সহায়তা নিয়ে তাইওয়ানের পাশে দাঁড়াবে।

তাকাইচির এই মন্তব্যের প্রায় তাৎক্ষণিকভাবে বেইজিং প্রতিবাদ জানিয়েছিল। তবে জাপানের সরকার বিষয়টি এড়িয়ে গেলে পরিস্থিতি সাময়িকভাবে স্থির হয়ে যায়।

গত ৮ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত জাপানের জাতীয় নির্বাচনে তাকাইচি জয়ী হয়েছেন। তিনি ইতিহাসে প্রথম নির্বাচিত নারী প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শপথ গ্রহণের অপেক্ষায় রয়েছেন। নির্বাচনের ফলাফলের পরই তাইওয়ান ইস্যুতে জাপানকে পুনরায় সতর্কবার্তা দিয়েছে চীন।

গত সোমবার বেইজিংয়ে চীনা পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের নিয়মিত সংবাদ সম্মেলনে মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র লিন জিয়ান বলেন, “জাপানের কট্টর ডানপন্থি শক্তি যদি পরিস্থিতি বিচার-বিশ্লেষণে ভুল করে এবং তাইওয়ান ইস্যুতে বেপরোয়া কোনো পদক্ষেপ নেয়, তাহলে চীন ও জাপানের দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের ভিত্তি নড়বড়ে হয়ে যাবে। চীন যে কোনো বেপরোয়া পদক্ষেপের সমুচিত জবাব দিতে প্রস্তুত।”

তাইওয়ান স্বায়ত্বশাসিত হলেও নিজেদের স্বাধীন ও সার্বভৌম রাষ্ট্র মনে করে। অন্যদিকে চীন বরাবরই তাইওয়ানকে নিজের ভূখণ্ডের অংশ দাবি করে আসছে। বিশ্বের অধিকাংশ দেশ এ ইস্যুতে চীনের অবস্থানের প্রতি সহানুভূতিশীল হলেও, তাইওয়ানকে চাপে রাখার ক্ষেত্রে বেইজিং বিভিন্ন কূটনৈতিক ও অর্থনৈতিক উপায় ব্যবহার করে। তবে চীন এখন পর্যন্ত সরাসরি সামরিক আগ্রাসন চালায়নি।

বিশ্লেষকরা মনে করছেন, তাকাইচির নেতৃত্বে জাপান যদি তাইওয়ানকে সমর্থন দিতে কোনো কার্যকর পদক্ষেপ নেন, তাহলে তা মধ্যপ্রাচ্য ও পূর্ব এশিয়ার নিরাপত্তা পরিস্থিতিকে প্রভাবিত করতে পারে। জাপান-চীন দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কে উত্তেজনা বৃদ্ধি পেলে অর্থনৈতিক ও সামরিক ক্ষেত্রে জটিলতা সৃষ্টি হতে পারে।

চীনের এই সতর্কবার্তা জাপানের নতুন সরকারের জন্য একটি চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখা হচ্ছে। আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের নজর এখন তাকাইচির পদক্ষেপের ওপর, যিনি নারী প্রধানমন্ত্রী হিসেবে ইতিহাসে নাম লিখানোর প্রস্তুতি নিচ্ছেন। এছাড়া তাইওয়ান ইস্যুতে জাপান ও চীনের মধ্যে কূটনৈতিক সংলাপ এবং সম্ভাব্য সংঘাত এড়াতে বৈশ্বিক পর্যবেক্ষকরা ঘনিষ্ঠভাবে নজর রাখছেন।

পরিস্থিতি মোকাবেলায় জাপান সরকার এখনও আনুষ্ঠানিক কোনো প্রতিক্রিয়া জানায়নি। তবে আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিশেষজ্ঞরা বলছেন, নতুন প্রধানমন্ত্রীকে যুক্তরাষ্ট্র ও অন্যান্য মিত্রদের সঙ্গে সমন্বয় রেখে কৌশলগত সিদ্ধান্ত নিতে হবে, যাতে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের ক্ষতি না হয় এবং অঞ্চলে স্থিতিশীলতা বজায় থাকে।

আকাশজমিন / আরআর 


এ সম্পর্কিত আরো খবর