পাবনা সংবাদদাতা
পাবনা-ঢাকা মহাসড়কের শোলাবাড়িয়া এলাকায় মঙ্গলবার সকালে দুই যাত্রীবাহী বাসের মুখোমুখি সংঘর্ষে দুই জন নিহত হয়েছেন এবং অন্তত ১০ জন আহত হয়েছেন। দুর্ঘটনাটি ঘটেছে সকাল সোয়া ৭টার দিকে সাঁথিয়া উপজেলার আতাইকুলা থানার শোলাবাড়িয়া ব্রিজের কাছে।
মাধপুর হাইওয়ে থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মুস্তাফিজার রহমান জানান, সকালে শাহজাদপুর ট্রাভেলস নামের বাসটি পাবনা থেকে ঢাকার উদ্দেশে রওনা হয়েছিল। পথে শোলাবাড়িয়া ব্রিজের কাছে বিপরীত দিক থেকে আসা মাছরাঙা পরিবহনের সঙ্গে মুখোমুখি সংঘর্ষ ঘটে। এতে ঘটনাস্থলে একজন নিহত হন। আহতদের উদ্ধার করে স্থানীয় লোকজন ও পুলিশ বিভিন্ন হাসপাতালে পাঠায়। পরে পাবনা জেনারেল হাসপাতালে একজন আরও মারা যান।
ওসি মুস্তাফিজার রহমান জানিয়েছেন, দুর্ঘটনাস্থল থেকে আহতদের মধ্যে সাত থেকে আট জনকে গুরুতর অবস্থায় হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। তবে হতাহতদের নাম-পরিচয় এখনও নিশ্চিতভাবে জানা যায়নি। নিহত দুইজনের মধ্যে একজন শাহজাদপুর ট্রাভেলসের চালক এবং অপরজন মাছরাঙা পরিবহনের হেলপার।
স্থানীয়রা জানান, শোলাবাড়িয়া ব্রিজটি সরু হওয়ায় গাড়ির নিয়ন্ত্রণ হারালে মুখোমুখি সংঘর্ষের আশঙ্কা বেশি। বিশেষ করে ভোরের দিকে যানবাহনের সংখ্যা বেড়ে গেলে দুর্ঘটনার সম্ভাবনা আরও বৃদ্ধি পায়। এ ঘটনায় পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে আহতদের উদ্ধার করে হাসপাতালে পাঠায়।
অভিযুক্ত চালক বা বাস সংস্থার পক্ষ থেকে এখনো কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি। তবে পুলিশের পক্ষ থেকে দুর্ঘটনার কারণ তদন্ত করা হচ্ছে। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, বাসগুলোর মধ্যে দ্রুতগতির যাতায়াত ও সড়কের সরু অবস্থা দুর্ঘটনার মূল কারণ হতে পারে।
পাবনা-ঢাকা মহাসড়কের এই অংশে পূর্বেও অনুরূপ দুর্ঘটনা ঘটেছে। স্থানীয়রা বলেন, সড়কের ওই অংশে সিগনাল বা নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা থাকা প্রয়োজন। পাশাপাশি যাত্রীবাহী বাসের গতি নিয়ন্ত্রণ এবং যথাযথ চালকের প্রশিক্ষণ নিশ্চিত করার মাধ্যমে ভবিষ্যতে এমন দুর্ঘটনা কমানো সম্ভব।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, দুর্ঘটনার পর স্থানীয় লোকজন ও পুলিশ দ্রুত আহতদের উদ্ধার করেন। পাবনা জেনারেল হাসপাতাল এবং আশেপাশের ক্লিনিকে আহতদের প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে। হাসপাতালে নেওয়ার পর আহতদের মধ্যে একজন মারা যান। পুলিশের পক্ষ থেকে আরও বলা হয়েছে, এই দুর্ঘটনার পর মামলার প্রক্রিয়া শুরু করা হয়েছে এবং বিস্তারিত তদন্ত করা হচ্ছে।
এ ঘটনায় পাবনা-ঢাকা মহাসড়কের যাত্রীবাহী যান চলাচলে কিছুক্ষণ বিঘ্ন ঘটে। স্থানীয় পুলিশ ও সড়ক ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষ দ্রুত পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন। দুর্ঘটনার কারণ নির্ধারণ এবং ভবিষ্যতের জন্য নিরাপদ সড়ক ব্যবস্থার জন্য পুলিশ বিস্তারিত তদন্ত চালাচ্ছে।
আকাশজমিন / আরআর