ঢাকা, বাংলাদেশ ।
  সোমবার, ২৭ Jul ২০২৬,  ১১ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
রপ্তানি প্রবৃদ্ধির লক্ষ্য ১৫ শতাংশ, আয় হতে পারে ৬৩.৪ বিলিয়ন ডলার রাজধানীতে ১৮ মন্ত্রী চলবেন এসকর্ট ছাড়া, বহাল থাকছে ৭ জনের সুবিধা সাতক্ষীরায় অপরিকল্পিত মৎস্য ঘের: পানিবন্দী হাজারও মানুষ, সড়ক-শিক্ষা প্রতিষ্ঠান প্লাবিত সাতক্ষীরার তিন হাসপাতালে হঠাৎ স্বাস্থ্যমন্ত্রী, অনুপস্থিত দুই চিকিৎসকের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে টেস্ট দল ঘোষণা, নেই নাহিদ-লিটন সেনা কর্মকর্তাদের পদোন্নতি হোক মেধা ও যোগ্যতায়: প্রধানমন্ত্রী হামের উপসর্গে আরও ৪ শিশুর মৃত্যু, আক্রান্ত ১১৬০ জামায়াত জোট ছাড়ার গুঞ্জন নাকচ করল নেজামে ইসলাম চলনবিলে অবাধে ব্যবহার হচ্ছে নিষিদ্ধ চায়নাদুয়ারী জাল লক্ষ্মীপুরে উৎসবমুখর পরিবেশে ধারণ হলো ‘ইত্যাদি’র বিশেষ পর্ব

সিলেটে ৬ আসনের মধ্যে ৫টিতে বিএনপির বড় জয়


সিলেটে ৬ আসনের মধ্যে ৫টিতে বিএনপির বড় জয়

  • আপলোড সময় : শুক্রবার ১৩ ফেব্রুয়ারী, ২০২৬ সময় : ১১:৫১ এএম

সিলেটের নির্বাচনী ময়দানে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বড় জয় পেয়েছে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)। জেলার মোট ছয়টি সংসদীয় আসনের মধ্যে পাঁচটিতে বিএনপির প্রার্থীরা বিজয়ী হয়েছেন। বাকি একটি আসনে জয় পেয়েছেন খেলাফত মজলিস মনোনীত প্রার্থী।

বৃহস্পতিবার (১২ ফেব্রুয়ারি) দিবাগত রাত আড়াইটার দিকে জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তা নির্বাচনের চূড়ান্ত ফলাফল ঘোষণা করেন। সিলেটের জেলা প্রশাসক ও রিটার্নিং কর্মকর্তা মোহাম্মদ সারওয়ার আলম জেলা প্রশাসক কার্যালয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে ফলাফল ঘোষণা করেন।

সিলেটের ভোটাররা সকাল সাড়ে সাতটা থেকে বিকেল সাড়ে চারটা পর্যন্ত ১ হাজার ১১৬টি কেন্দ্রে একযোগে ভোট প্রদান করেন। ভোটগ্রহণ পুরোপুরি শান্তিপূর্ণ পরিবেশে সম্পন্ন হয়। নির্বাচনের আগে ১৯৮টি কেন্দ্রকে ‘গুরুত্বপূর্ণ’ বা ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছিল। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী, সেনাবাহিনী, বিজিবি, র‍্যাব এবং পুলিশ সদস্যরা ভোটের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে মাঠে সক্রিয় ছিলেন।

নির্বাচনের ফলাফলের বিশদ বিবরণ

সিলেট-১ (সদর-সিটি কর্পোরেশন):

বিএনপির খন্দকার আবদুল মুক্তাদীর ১ লাখ ৭৬ হাজার ৯৩৬ ভোট পেয়ে বেসরকারি ভাবে নির্বাচিত হন। তাঁর নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর মাওলানা হাবিবুর রহমান ১ লাখ ৩৪ হাজার ৯৮৩ ভোট পান। এই আসনে বিএনপির প্রার্থীর বড় ব্যবধানে বিজয় প্রতিফলিত হয়।

সিলেট-২ (ওসমানীনগর ও বিশ্বনাথ):
বিএনপির প্রার্থী তাহসিনা রুশদীর লুনা ১ লাখ ১৭ হাজার ৯৫৬ ভোট পেয়ে জয়লাভ করেন। নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী খেলাফত মজলিসের মুহাম্মদ মুনতাছির আলী পান ৩৮ হাজার ৬৩৫ ভোট। বিএনপির জয় এই আসনে নির্বাচনী সমর্থনের প্রমাণ দেয়।

সিলেট-৩ (দক্ষিণ সুরমা, ফেঞ্চুগঞ্জ ও বালাগঞ্জ):
এ আসনে বিএনপির এম এ মালিক ১ লাখ ১৫ হাজার ৪৫০ ভোট পেয়ে বিজয়ী হন। নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী খেলাফত মজলিসের মুসলেহ উদ্দিন রাজু ৭৫ হাজার ৬৭৪ ভোট পান। ভোটের ব্যবধান প্রমাণ করছে বিএনপি এখানে দৃঢ়ভাবে সমর্থিত।

সিলেট-৪ (কোম্পানীগঞ্জ, গোয়াইনঘাট ও জৈন্তাপুর):
বিএনপির আরিফুল হক চৌধুরী ১ লাখ ৮৬ হাজার ৮৪১ ভোট পেয়ে বড় ব্যবধানে জয়ী হন। নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর মো. জয়নাল আবেদীন ৭১ হাজার ৩৯১ ভোট পান। এই আসনে বিজয় বিএনপির শক্তিশালী অবস্থানকে প্রদর্শন করে।

সিলেট-৫ (জকিগঞ্জ-কানাইঘাট):
খেলাফত মজলিসের মুফতি আবুল হাসান ৭৯ হাজার ৩৫৫ ভোট পেয়ে জয়লাভ করেন। তাঁর নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী জমিয়তে উলামায়ে ইসলামের ওবায়দুল্লাহ ফারুক ৬৯ হাজার ৭৭৪ ভোট পান। এই আসনে খেলাফত মজলিসের জয় বিএনপির একক জয়কে ব্যালান্স করে।

সিলেট-৬ (বিয়ানীবাজার ও গোলাপগঞ্জ):
বিএনপির এমরান আহমদ চৌধুরী ১ লাখ ৯ হাজার ৯১৭ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হন। নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর মো. সেলিম উদ্দিন ১ লাখ ১ হাজার ৫৬৯ ভোট পান। এই জয়ের ফলে সিলেটের ভোটারদের মধ্যে বিএনপির সমর্থন দৃঢ়ভাবে প্রতিফলিত হয়।

নির্বাচনের পর স্থানীয় প্রশাসন জানিয়েছে, ভোট শান্তিপূর্ণ ও সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন হয়েছে। নির্বাচনী মাঠে সেনাবাহিনী, বিজিবি, র‍্যাব ও পুলিশ সক্রিয়ভাবে কাজ করেছেন। ভোটগ্রহণের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হয়েছিল এবং নির্বাচনী কর্মকর্তারা ফলাফলের সঠিক প্রক্রিয়া বজায় রেখেছেন।

সিলেটের এই ফলাফল বাংলাদেশের সামগ্রিক রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটেও গুরুত্বপূর্ণ। জেলার মোট ছয় আসনের মধ্যে পাঁচটিতে বিএনপির জয় বিএনপির রাজনৈতিক শক্তি এবং নির্বাচনী গ্রহণযোগ্যতার প্রমাণ দেয়। খেলাফত মজলিসের এক আসনে জয় প্রমাণ করে যে, ইসলামিক জোট ও অন্যান্য দলও সিলেটে কিছুটা প্রভাবশালী।

এ নির্বাচনের মাধ্যমে বিএনপি সিলেট জেলায় এক শক্তিশালী রাজনৈতিক অবস্থান তৈরি করেছে। এছাড়াও, নির্বাচন কমিশন এবং স্থানীয় প্রশাসন নির্বাচনী পরিবেশকে শান্তিপূর্ণ ও সুষ্ঠু রাখতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে।

ভোটারদের অংশগ্রহণও উল্লেখযোগ্য ছিল। জেলার বিভিন্ন অংশ থেকে ভোটাররা সক্রিয়ভাবে ভোট প্রদান করেছেন এবং প্রতিটি কেন্দ্রেই ভোট গ্রহণের প্রক্রিয়া সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন হয়েছে।

সিলেট-৫ আসনে খেলাফত মজলিসের জয় প্রমাণ করে যে, জেলায় ঐক্যবদ্ধভাবে অন্যান্য দলও স্থানীয় প্রভাব রাখতে সক্ষম। তবে বিএনপির পাঁচ আসনের জয় স্পষ্টভাবে দেখায় যে, বৃহত্তর রাজনৈতিক সমর্থন এ দলের পক্ষেই।

নির্বাচন শেষে বিজয়ীরা প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন যে, তারা জেলার মানুষের কল্যাণ, উন্নয়নমূলক কাজ এবং সামাজিক সেবা বৃদ্ধিতে মনোযোগ দেবেন। স্থানীয় প্রশাসনও আশ্বস্ত করেছেন যে, নির্বাচনের ফলাফল শান্তিপূর্ণভাবে বাস্তবায়িত হয়েছে।

সামগ্রিকভাবে, সিলেটের এই নির্বাচন রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা, গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া এবং স্থানীয় নেতৃত্বের শক্তি প্রদর্শন করেছে। নির্বাচন কমিশন ও প্রশাসনের কঠোর প্রচেষ্টা ভোটের নিরাপত্তা ও স্বচ্ছতা নিশ্চিত করেছে।


এ সম্পর্কিত আরো খবর