ঢাকা, বাংলাদেশ ।
  রবিবার, ১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬,  ২৯ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠায় শক্তিশালী স্থানীয় সরকারের বিকল্প নেই: ড. আবদুল মঈন খান স্থানীয় সরকার নির্বাচনে শিক্ষাগত যোগ্যতার বাধ্যবাধকতা নেই: মীর শাহে আলম দুপুরের মধ্যেই বিদ্যুৎ পাচ্ছে বাংলাদেশ: কমবে লোডশেডিং এমপিও শিক্ষকদের নির্বাচন ভাগ্য নির্ধারণ করবে ইসি: মীর শাহে আলম সরকারি কেনাকাটায় পুকুরচুরি ঠেকাতে আসছে অভিন্ন একক দরতালিকা সাগর-রুনি হত্যার বিচার চেয়ে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে লিখিত অভিযোগ তারুণ্য না অভিজ্ঞতা: ছাত্রদলের নতুন নেতৃত্ব চয়নে জটিল হিসাব-নিকাশ আওয়ামী লীগের কার্যক্রম নিষিদ্ধের প্রজ্ঞাপন চ্যালেঞ্জের রিট খারিজ হাইকোর্টে ইন্দোনেশিয়ায় ২৪০ যাত্রী নিয়ে জাহাজ নিখোঁজ ঠাকুরগাঁও সীমান্তে বিএসএফের গুলিতে বাংলাদেশি নিহত, আটক ২

কিশোরগঞ্জের ছয়টি আসনের ৫টিতে বিএনপির জয়, একটিতে স্বতন্ত্র


  • আপলোড সময় : শুক্রবার ১৩ ফেব্রুয়ারী, ২০২৬ সময় : ৫:০৮ পিএম

মামুন উজ্জ্বল,কিশোরগঞ্জ 

কিশোরগঞ্জ জেলার ছয়টি সংসদীয় আসনের বেসরকারি ফলাফলে পাঁচটিতে জয় পেয়েছে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) এবং একটি আসনে বিএনপির বিদ্রোহী প্রার্থী স্বতন্ত্র হিসেবে বিজয়ী হয়েছেন। শুক্রবার (১৩ ফেব্রুয়ারি) বেলা ১১টার দিকে জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তা ও জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ আসলাম মোল্লা আনুষ্ঠানিকভাবে বেসরকারি ফলাফল ঘোষণা করেন। ফল ঘোষণার পর জেলার বিভিন্ন এলাকায় বিজয়ী প্রার্থীদের সমর্থকদের মধ্যে উচ্ছ্বাস দেখা যায়।

কিশোরগঞ্জ-১ আসনে বিএনপির প্রার্থী মো. মাজহারুল ইসলাম ১ লাখ ২৪ হাজার ৩৫ ভোট পেয়ে বিজয়ী হয়েছেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী ১১ দলীয় নির্বাচনী ঐক্য জোটের প্রার্থী মাওলানা হেদায়েতউল্লাহ হাদী রিকশা প্রতীকে পেয়েছেন ৯৯ হাজার ৪৮৮ ভোট। শুরু থেকেই এ আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা জমে ওঠে। ভোট গণনার শেষ পর্যন্ত টানটান উত্তেজনা বিরাজ করে। শেষ পর্যন্ত উল্লেখযোগ্য ব্যবধানে জয় নিশ্চিত করেন মো. মাজহারুল ইসলাম।

কিশোরগঞ্জ-২ (পাকুন্দিয়া-কটিয়াদী) আসনে মোট ১৭০টি কেন্দ্রের ফল গণনা শেষে বিএনপির ধানের শীষ প্রতীকের প্রার্থী অ্যাডভোকেট জালাল উদ্দিন ১ লাখ ৪৩ হাজার ৬৬৯ ভোট পেয়ে জয়ী হন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী ১১ দলীয় নির্বাচনী ঐক্য জোটের প্রার্থী মো. শফিকুল ইসলাম মোড়ল দাঁড়িপাল্লা প্রতীকে পেয়েছেন ১ লাখ ২০ হাজার ৯৭৫ ভোট। এ আসনে ভোটের ব্যবধান তুলনামূলক কম হলেও শেষ পর্যন্ত বিএনপির প্রার্থীই এগিয়ে থাকেন। স্থানীয়ভাবে এ আসনটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে বিবেচিত হয়ে থাকে।

কিশোরগঞ্জ-৩ (করিমগঞ্জ-তাড়াইল) আসনে ১৫১টি কেন্দ্রের সবগুলোর ফল গণনা শেষে বিএনপির প্রার্থী ও সাবেক শিক্ষামন্ত্রী ড. ওসমান ফারুক ১ লাখ ১২ হাজার ৪৬৬ ভোট পেয়ে বিজয়ী হন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী ১১ দলীয় নির্বাচনী ঐক্য জোটের প্রার্থী ডা. কর্নেল জিহাদ খান দাঁড়িপাল্লা প্রতীকে পেয়েছেন ১ লাখ ২ হাজার ৪৭৬ ভোট। এই আসনে অভিজ্ঞ রাজনীতিক হিসেবে ড. ওসমান ফারুকের প্রভাব স্পষ্ট ছিল। নির্বাচনী প্রচারণায় উন্নয়ন ও শিক্ষা খাতের নানা প্রতিশ্রুতি ভোটারদের কাছে তুলে ধরেন তিনি।

কিশোরগঞ্জ-৪ (ইটনা-মিঠামইন-অষ্টগ্রাম) আসনে মোট ১৫০টি কেন্দ্রের ফলাফলে বিএনপির প্রার্থী অ্যাডভোকেট ফজলুর রহমান ১ লাখ ৩২ হাজার ৪৭২ ভোট পেয়ে জয়ী হন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী-র প্রার্থী রোকন রেজা পেয়েছেন ৫৭ হাজার ৮২৯ ভোট। হাওর অধ্যুষিত এ আসনে ভোটার উপস্থিতি ছিল সন্তোষজনক। উন্নয়ন, যোগাযোগ ব্যবস্থা ও কৃষিভিত্তিক অর্থনীতি ছিল প্রচারণার মূল ইস্যু।

কিশোরগঞ্জ-৫ আসনে ১১৯টি কেন্দ্রের ফল গণনা শেষে কেন্দ্রীয় বিএনপির সাবেক সদস্য ও বাজিতপুর উপজেলা বিএনপির সবেক সভাপতি (বহিষ্কৃত) নেতা এবং স্বতন্ত্র প্রার্থী শেখ মজিবুর রহমান ইকবাল ৭৯ হাজার ৬০৪ ভোট পেয়ে জয়ী হয়েছেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী বিএনপির প্রার্থী সৈয়দ এহসানুল হুদা ধানের শীষ প্রতীকে পেয়েছেন ৬৬ হাজার ৪৫০ ভোট। এ আসনটিতে দলীয় বিদ্রোহ বড় প্রভাব ফেলেছে। স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে অংশ নিয়েও শেখ মজিবুর রহমান ইকবাল শক্ত অবস্থান তৈরি করতে সক্ষম হন এবং শেষ পর্যন্ত জয় নিশ্চিত করেন।

কিশোরগঞ্জ-৬ আসনে ১৪২টি কেন্দ্রের ফলাফল শেষে বিএনপির প্রার্থী মো. শরীফুল আলম ১ লাখ ৮৭ হাজার ১৫৯ ভোট পেয়ে বিজয়ী হয়েছেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী ১১ দলীয় নির্বাচনী ঐক্য জোটের প্রার্থী মাওলানা আতাউল্লাহ আমীন রিকশা প্রতীকে পেয়েছেন ৪৪ হাজার ৯৫ ভোট। এ আসনে ভোটের ব্যবধান ছিল উল্লেখযোগ্য। প্রচারণার শুরু থেকেই বিএনপির প্রার্থী এগিয়ে ছিলেন বলে স্থানীয় পর্যবেক্ষকদের ধারণা।

বেসরকারি ফলাফলে দেখা যাচ্ছে, কিশোরগঞ্জ জেলার ছয়টি আসনের মধ্যে পাঁচটিতে বিএনপির প্রার্থীরা জয়ী হয়েছেন। একটি আসনে দলীয় বিদ্রোহী প্রার্থী স্বতন্ত্র হিসেবে বিজয় লাভ করেছেন। জেলার রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে এটি গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন হিসেবে দেখা হচ্ছে। বিশ্লেষকরা মনে করছেন, ভোটারদের অংশগ্রহণ এবং স্থানীয় ইস্যুগুলোর প্রভাব এ ফলাফলে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে।

ফল ঘোষণার পর বিভিন্ন স্থানে সমর্থকদের মধ্যে আনন্দ মিছিল ও শুভেচ্ছা বিনিময়ের দৃশ্য দেখা যায়। তবে সামগ্রিকভাবে পরিস্থিতি শান্ত ছিল। প্রশাসনের পক্ষ থেকেও আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় সতর্ক অবস্থান নেওয়া হয়।

সব মিলিয়ে কিশোরগঞ্জের ছয়টি আসনের বেসরকারি ফলাফল জেলার রাজনৈতিক মানচিত্রে নতুন সমীকরণের ইঙ্গিত দিচ্ছে। এখন সবার নজর সরকারিভাবে চূড়ান্ত ফলাফল ঘোষণার দিকে।


এ সম্পর্কিত আরো খবর