ঢাকা, বাংলাদেশ ।
  রবিবার, ১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬,  ২৯ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
রাজনৈতিক দুর্বৃত্তায়ন ও চাঁদাবাজি কঠোর হাতে দমন করা হবে: আইনমন্ত্রী ভারতের সঙ্গে সম্পর্কের নতুন অধ্যায় চায় বাংলাদেশ: পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী ডেঙ্গুতে আরও ৬ প্রাণহানি, এক দিনে হাসপাতালে ১৫৬১ জন ভর্তি গণতন্ত্রকে শক্তিশালী করতে স্থানীয় সরকার ব্যবস্থা জোরদার করতে হবে: রাষ্ট্রপতি আসিফ মাহমুদের বিরুদ্ধে ১১ হাজার কোটি টাকা পাচারের অভিযোগ: দুদক ‘বারবার মিথ্যা মামলা না দিয়ে আমাকে একবারে গুলি করে মেরে ফেলেন’ ২১ সেপ্টেম্বর যুক্তরাষ্ট্র সফরে যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বাংলাদেশে নতুন গ্যাসক্ষেত্র অনুসন্ধানে বিনিয়োগে আগ্রহী মার্কিন কোম্পানি শেভরন পাবনায় ডিবির ওসির প্রত্যাহারে সাংবাদিকদের ২৪ ঘণ্টার আলটিমেটাম গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠায় শক্তিশালী স্থানীয় সরকারের বিকল্প নেই: ড. আবদুল মঈন খান

বগুড়ায় পূর্বশত্রুতার জেরে ছাত্রদল নেতাকে হত্যা


  • আপলোড সময় : শনিবার ১৪ ফেব্রুয়ারী, ২০২৬ সময় : ৩:২৮ পিএম

বগুড়া শহরের মাটিডালী এলাকায় পূর্বশত্রুতার জেরে মো. ফাহিম হাসান (১৯) নামের এক ছাত্রদল নেতাকে ছুরিকাঘাতে হত্যা করা হয়েছে। শনিবার (১৪ ফেব্রুয়ারি) সকালে মাটিডালী উপজেলা পরিষদের সামনে এই ঘটনা ঘটে। ফাহিম বগুড়া পৌরসভার ১৭ নম্বর ওয়ার্ড ছাত্রদলের সদস্য এবং স্থানীয় একটি ঢালাই কারখানার শ্রমিক ছিলেন। তিনি মাটিডালী দক্ষিণ নওদাপাড়া এলাকার আব্দুর রশিদের ছেলে।

নিহতের রাজনৈতিক পরিচয় নিশ্চিত করে বগুড়া জেলা ছাত্রদলের সভাপতি হাবিবুর রশিদ সন্ধান বলেন, এই হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িতদের দ্রুত আইনের আওতায় এনে সর্বোচ্চ শাস্তি চাই। নিহতের পরিবার দাবি করেছে, ফাহিমের বোনকে বিয়ে দিতে রাজি না হওয়ায় তনয় নামের এক ছাত্রলীগ নেতা এই হত্যাকাণ্ড সংঘটিত করেছেন।

পুলিশ ও প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা গেছে, শনিবার সকাল সাড়ে ৭টার দিকে ফাহিম কর্মস্থলে যাওয়ার উদ্দেশে বের হন। মাটিডালী উপজেলা পরিষদের সামনে পৌঁছালে তনয় তার ওপর হামলা চালান। এসময় ফাহিমকে লক্ষ্য করে এলোপাতাড়ি ছুরিকাঘাত করা হয়। গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে প্রথমে টিএমএসএস মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানে অবস্থার অবনতি হলে তাকে শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ (শজিমেক) হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়। বেলা পৌনে ১২টার দিকে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়। হামলায় সাব্বির শেখ নামে আরও এক যুবক আহত হয়েছেন।

নিহতের পরিবার ও স্থানীয় সূত্র জানায়, অভিযুক্ত তনয় নিহত ফাহিমের বোনকে বিয়ে করতে চেয়েছিলেন। কিন্তু পরিবার রাজি না হওয়ায় দীর্ঘদিন ধরে ব্যক্তিগত শত্রুতা গড়ে ওঠে। এর সঙ্গে ফাহিমের রাজনৈতিক পরিচয় যুক্ত হওয়ায় বিরোধ আরও তীব্র হয়ে ওঠে। ফাহিমের বোনের স্বামী মো. সেতু মিয়া জানান, এর আগে তনয় তাকেও ছুরিকাঘাত করেছিল। মূলত ব্যক্তিগত আক্রোশ ও রাজনৈতিক বিরোধ মিলিয়েই পরিকল্পিতভাবে এই হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে।

বগুড়া সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (তদন্ত) মাহফুজ আলম জানান, ঘটনার পর থেকে অভিযুক্ত তনয় পলাতক রয়েছেন। নিহতের মরদেহ বর্তমানে শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে ময়নাতদন্তের জন্য রাখা হয়েছে। পুলিশ দোষীদের শনাক্ত করে দ্রুত আইনের আওতায় আনতে অভিযান অব্যাহত রেখেছে।

এই হত্যাকাণ্ড স্থানীয় মানুষ ও রাজনৈতিক মহলে চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করেছে। নিহত ফাহিমের রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড ও ব্যক্তিগত বিরোধের সমন্বয় হত্যাকাণ্ডকে পরিকল্পিত করেছে বলে মনে করা হচ্ছে। স্থানীয়রা আশ্বস্ত করছেন, আইন প্রয়োগকারী সংস্থাগুলো দ্রুত ব্যবস্থা নেবে।

নিহতের পরিবার ও রাজনৈতিক নেতারা ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। তারা দাবি করেছেন, হত্যাকারীদের অবিলম্বে ফাঁসি প্রদান করা হোক। তারা একই সঙ্গে স্থানীয় প্রশাসন ও পুলিশকে সতর্ক করেছেন যেন আরও কোনও অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা না ঘটে।

ফাহিম হাসানের মৃত্যু সামাজিক ও রাজনৈতিক মহলে দুঃখ ও উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে। এটি কেবল একটি ব্যক্তিগত ও রাজনৈতিক বিরোধের ফল নয়, বরং স্থানীয় শান্তি ও নিরাপত্তার জন্যও বড় ধাক্কা।

স্থানীয় রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক সূত্র জানায়, হত্যাকাণ্ডের পর পুলিশ ও স্থানীয় বাহিনী এলাকায় শক্তি মোতায়েন করেছে। একই সঙ্গে অভিযুক্ত তনয়কে গ্রেফতারের জন্য বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালানো হচ্ছে।


এ সম্পর্কিত আরো খবর