নিহতরা হলেন শহরের বিবেকানন্দ হাইস্কুল অ্যান্ড কলেজের ছাত্র স্বাধীন ও ফাহিম। তারা আকুরটাকুর পাড়ার ছোট কালিবাড়ি এলাকার বাসিন্দা। দুজনেই একসঙ্গে মোটরসাইকেলে করে শহর থেকে বাসায় ফিরছিলেন।
স্থানীয়রা জানান, রাত সোয়া ১১টার দিকে দ্রুতগতিতে আসা মোটরসাইকেলটি হঠাৎ নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে বিবেকানন্দ স্কুল অ্যান্ড কলেজ এলাকার একটি দেয়ালে সজোরে ধাক্কা দেয়। ধাক্কার শব্দে আশপাশের মানুষ ছুটে এসে তাদের গুরুতর আহত অবস্থায় দেখতে পান। দুর্ঘটনার তীব্রতায় মোটরসাইকেলটি দুমড়ে-মুচড়ে যায়।
পরে স্থানীয় লোকজন দ্রুত তাদের উদ্ধার করে টাঙ্গাইল জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক দুজনকেই মৃত ঘোষণা করেন। চিকিৎসকদের ভাষ্য অনুযায়ী, মাথায় গুরুতর আঘাত পাওয়ায় ঘটনাস্থলেই তাদের মৃত্যু হয়ে থাকতে পারে।
দুর্ঘটনার খবর পেয়ে টাঙ্গাইল সদর ফাঁড়ির পুলিশ ঘটনাস্থলে যায় এবং প্রয়োজনীয় আইনগত প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে। টাঙ্গাইল সদর ফাঁড়ির এএসআই এনায়েত সরকার জানান, আইনি প্রক্রিয়া শেষে রাতেই নিহতদের মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।
এ দুর্ঘটনায় নিহত দুই শিক্ষার্থীর পরিবারে শোকের মাতম চলছে। প্রতিবেশীরা জানান, স্বাধীন ও ফাহিম দুজনেই মেধাবী ও ভদ্র স্বভাবের ছাত্র ছিলেন। তাদের অকাল মৃত্যুতে পরিবার-পরিজন, সহপাঠী ও এলাকাবাসীর মধ্যে গভীর শোক নেমে এসেছে।
স্থানীয়রা আরও বলেন, শহরের ওই এলাকায় সড়কটি কিছুটা বাঁকানো এবং রাতে পর্যাপ্ত আলোর অভাব রয়েছে। দ্রুতগতির কারণে মোটরসাইকেলটি নিয়ন্ত্রণে রাখতে না পারায় এ দুর্ঘটনা ঘটে থাকতে পারে। তারা সড়ক নিরাপত্তা জোরদার ও যথাযথ আলোর ব্যবস্থা করার দাবি জানিয়েছেন।
প্রতিদিনই সড়ক দুর্ঘটনায় প্রাণহানির ঘটনা ঘটছে। বিশেষ করে তরুণদের মধ্যে দ্রুতগতিতে মোটরসাইকেল চালানোর প্রবণতা উদ্বেগজনক বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। সচেতনতা বৃদ্ধি ও ট্রাফিক আইন মেনে চলার ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন স্থানীয়রা।
এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনায় দুটি তরতাজা প্রাণ ঝরে যাওয়ায় পুরো এলাকায় শোকের আবহ বিরাজ করছে।