শুক্রবার চেন্নাইয়ের এমএ চিদাম্বরম স্টেডিয়ামে টস জিতে আগে ব্যাট করতে নামে যুক্তরাষ্ট্র। নির্ধারিত ২০ ওভারে তারা সংগ্রহ করে ১৯৬ রানের বড় পুঁজি। শুরু থেকেই আক্রমণাত্মক ব্যাটিং করে প্রতিপক্ষ বোলারদের চাপে রাখেন মার্কিন ব্যাটাররা। ইনিংসের মাঝামাঝি সময়ে দ্রুত রান তোলার ফলে দলটি শক্ত অবস্থানে পৌঁছে যায়। শেষ দিকে ঝড়ো ব্যাটিংয়ে স্কোর দুইশ’র কাছাকাছি নিয়ে যায় তারা।
১৯৭ রানের লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে শুরু থেকেই চাপে পড়ে নেদারল্যান্ডস। নিয়মিত বিরতিতে উইকেট হারাতে থাকে ডাচরা। মার্কিন বোলারদের নিয়ন্ত্রিত ও ধারালো বোলিংয়ে তারা বড় কোনো জুটি গড়তে পারেনি। শেষ পর্যন্ত ১৫.৫ ওভারে ১০৩ রানে অলআউট হয়ে যায় নেদারল্যান্ডস। ফলে ৯৩ রানের বিশাল ব্যবধানে জয় তুলে নেয় যুক্তরাষ্ট্র।
এই জয়ের মাধ্যমে আইসিসির সহযোগী দেশ হিসেবে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে সর্বোচ্চ রানের ব্যবধানে জয়ের রেকর্ড গড়েছে যুক্তরাষ্ট্র। এর আগে ২০২৪ আসরেই তারা হংকংকে ৮০ রানে হারিয়ে নিজেদের রেকর্ড গড়েছিল। এবার সেই রেকর্ড ভেঙে আরও বড় ব্যবধানে জয় তুলে নিল মার্কিনরা।
তবে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের ইতিহাসে সবচেয়ে বড় ব্যবধানে জয়ের রেকর্ড এখনো শ্রীলঙ্কার দখলে। প্রথম আসরেই তারা কেনিয়াকে ১৭২ রানে হারিয়েছিল। এ ছাড়া শতরানের বেশি ব্যবধানে জয়ের কীর্তি রয়েছে আরও কয়েকটি দলের। ওয়েস্ট ইন্ডিজ উগান্ডাকে ১৩৪ রানে, দক্ষিণ আফ্রিকা স্কটল্যান্ডকে ১৩০ রানে এবং আফগানিস্তানও একই ব্যবধানে স্কটল্যান্ডকে হারানোর নজির গড়েছে।
রেকর্ডগড়া এই জয়ে যুক্তরাষ্ট্র বিশ্বকাপের সেরা আটে ওঠার আশা জিইয়ে রেখেছে। তবে তাদের সামনে কঠিন সমীকরণ অপেক্ষা করছে। নিজেদের শেষ ম্যাচে নামিবিয়ার বিপক্ষে জয়ের বিকল্প নেই। পাশাপাশি ভারত-পাকিস্তান ম্যাচের ফলের দিকেও তাকিয়ে থাকতে হবে তাদের। বর্তমানে ভারত ও পাকিস্তান উভয় দলই দুই ম্যাচ জিতে পয়েন্ট টেবিলে এগিয়ে আছে। ফলে এই দুই শক্তিশালী দলকে টপকে যুক্তরাষ্ট্রের পরবর্তী রাউন্ডে ওঠা সহজ হবে না।
গত আসরেও একই গ্রুপে খেলেছিল যুক্তরাষ্ট্র। তখন মোনাঙ্ক প্যাটেলের নেতৃত্বে পাকিস্তানকে পেছনে ফেলে শেষ আটে জায়গা করে নিয়েছিল দলটি। এবারও তারা একই রকম দৃঢ়তা দেখাতে পারবে কি না, সেটাই এখন দেখার বিষয়। নেদারল্যান্ডসের বিপক্ষে বড় জয় আত্মবিশ্বাস বাড়ালেও সুপার এইটে ওঠার লড়াই এখনো কঠিন চ্যালেঞ্জ হিসেবেই রয়ে গেছে।