ঢাকা, বাংলাদেশ ।
  বুধবার, ২৮ অক্টোবর ২০২৬,  ১৩ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
নিয়মিত হাত ধোয়ার অভ্যাসই গড়বে সুস্থ প্রজন্ম: মীর শাহে আলম নাটোরে প্রবাসীর শপিং মলে হামলা ও লুটপাট, ৫ কোটি টাকার ক্ষতি জনগণের ভোটাধিকার কেড়ে নিতে চায় না বিএনপি সরকার: প্রতিমন্ত্রী তিন নিরাপত্তারক্ষীসহ অপহৃত কালাতের রাজপুত্র শাহজাদা আহমেদজাই 'আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স' শব্দ নিষিদ্ধের ঘোষণা প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের নারী পরীক্ষকের সামনে পুরুষরা কম ব্যথা অনুভব করেন: নতুন গবেষণা উইন্ডিজের বিপক্ষে টস জিতে ব্যাটিংয়ে বাংলাদেশ, একাদশে নেই মুশফিক! কাঁদুনে গ্যাসে ফরাসি বিক্ষোভকারীর মৃত্যু, পুলিশের বিরুদ্ধে মামলা নেতানিয়াহুর রাজনৈতিক অধ্যায় শেষ, দাবি বিরোধী নেতা আইজেনকোটের ফেনারবাখচেকে হারিয়ে ইউরোলিগে ভ্যালেন্সিয়ার দুর্দান্ত জয়

সবচেয়ে বেশি মুনাফা পাওয়া যায় কোন সঞ্চয়পত্রে, কিনবেন কীভাবে


  • আপলোড সময় : রবিবার ১৫ ফেব্রুয়ারী, ২০২৬ সময় : ৯:২৬ এএম

এখন সবচেয়ে বেশি মুনাফা পাওয়া যায় পেনশনার সঞ্চয়পত্রে। মূলত অবসরভোগীদের কথা বিবেচনায় রেখে সরকার এই সঞ্চয়পত্রে তুলনামূলক বেশি মুনাফা হার নির্ধারণ করেছে, যাতে তাঁরা নিয়মিত ভালো আয় নিশ্চিত করতে পারেন। পাঁচ বছর মেয়াদ পূর্ণ হলে পেনশনার সঞ্চয়পত্রে সর্বোচ্চ ১১ দশমিক ৯৮ শতাংশ পর্যন্ত মুনাফা পাওয়া যায়। পাশাপাশি তিন মাস অন্তর মুনাফার টাকা তোলার সুবিধাও রয়েছে।

২০০৪ সালে পেনশনার সঞ্চয়পত্র স্কিম চালু হয়। দুই দশকের বেশি সময় ধরে এটি অবসরপ্রাপ্ত সরকারি ও স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মধ্যে জনপ্রিয় বিনিয়োগমাধ্যম হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। বর্তমানে জাতীয় সঞ্চয় অধিদপ্তরের চার ধরনের সঞ্চয়পত্র চালু আছে। এগুলো হলো—পরিবার সঞ্চয়পত্র, পেনশনার সঞ্চয়পত্র, পাঁচ বছর মেয়াদি বাংলাদেশ সঞ্চয়পত্র এবং তিন মাস অন্তর মুনাফাভিত্তিক সঞ্চয়পত্র। পরিবার সঞ্চয়পত্র ছাড়া বাকি সঞ্চয়পত্রগুলোতে ব্যক্তি ছাড়াও প্রতিষ্ঠান বিনিয়োগ করতে পারে।

পেনশনার সঞ্চয়পত্রের মূল্যমান শুরু হয় ৫০ হাজার টাকা থেকে। এছাড়া এক লাখ, দুই লাখ, পাঁচ লাখ এবং সর্বোচ্চ ১০ লাখ টাকা পর্যন্ত কেনা যায়। জেলা সঞ্চয় অফিস, জাতীয় সঞ্চয় বিশেষ ব্যুরো কার্যালয়, বাণিজ্যিক ব্যাংক ও ডাকঘর থেকে এটি কেনা ও ভাঙানো যায়।

এই সঞ্চয়পত্র কিনতে পারবেন অবসরপ্রাপ্ত সরকারি, আধা সরকারি, স্বায়ত্তশাসিত ও আধা স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা। এছাড়া সুপ্রিম কোর্টের অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতি, সশস্ত্র বাহিনীর অবসরপ্রাপ্ত সদস্য এবং মৃত চাকরিজীবীর পারিবারিক পেনশন সুবিধাভোগী স্বামী-স্ত্রী বা সন্তানেরাও এটি কিনতে পারবেন।

এর মেয়াদ পাঁচ বছর। মেয়াদ পূর্ণ হলে সাড়ে সাত লাখ টাকা পর্যন্ত বিনিয়োগে ১১ দশমিক ৯৮ শতাংশ এবং এর বেশি বিনিয়োগে ১১ দশমিক ৮০ শতাংশ হারে মুনাফা পাওয়া যায়। প্রথম বছর পূর্ণ হওয়ার পর নগদায়ন করলে তুলনামূলক কম হারে মুনাফা প্রযোজ্য হবে। মেয়াদপূর্তির আগে নগদায়ন করলে অতিরিক্ত পরিশোধিত অর্থ থাকলে তা মূল টাকা থেকে সমন্বয় করে অবশিষ্ট অর্থ পরিশোধ করা হয়।

পাঁচ লাখ টাকা পর্যন্ত মোট বিনিয়োগে মুনাফার ওপর কোনো উৎসে কর কাটা হয় না। তবে পাঁচ লাখ টাকার বেশি বিনিয়োগের ক্ষেত্রে মুনাফার ওপর ১০ শতাংশ হারে উৎসে কর কাটা হয়।

ক্রয়ের ঊর্ধ্বসীমা নির্ধারণ করা হয়েছে প্রাপ্ত আনুতোষিক (গ্র্যাচুইটি) ও ভবিষ্য তহবিলের অর্থের ভিত্তিতে। একক নামে সর্বোচ্চ ৫০ লাখ টাকা পর্যন্ত পেনশনার সঞ্চয়পত্র কেনা যাবে।

ত্রৈমাসিক ভিত্তিতে মুনাফা প্রদান করা হয়, ফলে প্রতি তিন মাস পরপর গ্রাহকেরা মুনাফার অর্থ তুলতে পারেন। এছাড়া নমিনি নিয়োগের সুযোগ রয়েছে। সঞ্চয়পত্রের ক্রেতার মৃত্যু হলে নমিনি তাৎক্ষণিকভাবে অথবা মেয়াদপূর্তির পর সঞ্চয়পত্র নগদায়ন করতে পারেন। নিয়মিত আয় ও তুলনামূলক উচ্চ মুনাফা পাওয়ার সুযোগ থাকায় অবসরপ্রাপ্ত ব্যক্তিদের জন্য এটি একটি আকর্ষণীয় বিনিয়োগমাধ্যম হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।


এ সম্পর্কিত আরো খবর