কক্সবাজারের টেকনাফের নাফনদী ও বঙ্গোপসাগর থেকে মিয়ানমারের সশস্ত্র গোষ্ঠি আরাকান আর্মির সদস্যরা বিভিন্ন সময় ধরে নিয়ে যাওয়া ৭৩ জেলেকে ফিরিয়ে এনেছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)।
সোমবার, ১৬ ফেব্রুয়ারি বিকাল সাড়ে ৪টায় ৭৩ জেলেকে টেকনাফের জালিয়াপাড়া ট্রানজিট ঘাট দিয়ে ফেরত আনা হয়।
বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন বিজিবির রামু সেক্টরের কমান্ডার কর্ণেল মহিউদ্দিন আহমেদ। তিনি বলেন, “বিজিবির একটি প্রতিনিধিদল আজ দুপুরে নাফনদীর শূন্য রেখার উদ্দেশ্যে যাত্রা করে। আরাকান আর্মি নাফনদীর শূন্য রেখায় জেলেদের হস্তান্তর করে। পরে বিজিবি তাদের দেশে ফিরিয়ে আনে।”
কর্ণেল মহিউদ্দিন জানান, জেলেদের ফেরত আনার সময় জনপ্রতিনিধি ও প্রশাসনের মাধ্যমে তাদের স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, “আরাকান আর্মির সঙ্গে ধারাবাহিক আলোচনার পর ৭৩ জেলেকে ফেরত আনা সম্ভব হয়েছে। আরাকান আর্মির দাবি, জেলেরা জলসীমা অতিক্রম করে মিয়ানমারে প্রবেশ করায় তাদের আটক করা হয়েছিল। আমরা অন্যান্য জেলেদের ফেরত আনতে আলোচনাকে অব্যাহত রাখছি।”
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, আটক জেলেদের মধ্যে অনেকেই প্রাথমিকভাবে আতঙ্কে ছিলেন। বিজিবির কর্মকর্তারা তাদের মানসিক ও শারীরিক স্বাস্থ্য পরীক্ষা করে সুরক্ষিতভাবে পরিবারের কাছে হস্তান্তর করেছেন।
বিজিবির এই পদক্ষেপকে স্থানীয়রা স্বাগত জানিয়েছেন। তারা বলেন, “এই ধরনের উদ্যোগ সীমান্ত নিরাপত্তা বজায় রাখার পাশাপাশি মানুষকে নিরাপদ ফিরিয়ে আনার দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে।”
কর্ণেল মহিউদ্দিন বলেন, “আমরা সব সময় সীমান্তে আইন ও নিয়ম মেনে কাজ করি। যে কোনো সমস্যার সমাধান কূটনৈতিক ও আলোচনার মাধ্যমে করা হয়। এতে দুই দেশের সম্পর্ক সুদৃঢ় হয়।”
স্থানীয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, জেলেদের স্বজনদের কাছে হস্তান্তরের সময় সকল স্বাস্থ্যবিধি ও নিরাপত্তা বজায় রাখা হয়েছে। তাদের মধ্যে কোনো আহত বা অসুস্থ ব্যক্তির খবর পাওয়া যায়নি।
স্থানীয়রা আশা প্রকাশ করেছেন, ভবিষ্যতে সীমান্তে এ ধরনের ঘটনায় দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া হবে এবং মানুষ নিরাপদে দেশে ফিরতে পারবে।