সদ্য সমাপ্ত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে সাতক্ষীরা-১ (তালা-কলারোয়া) আসনে ভোট গ্রহনে ব্যাপক অনিয়ম, দুর্নীতি, স্বজনপ্রীতি ও ভোট কারচুপির অভিযোগে জেলা প্রশাসক (ডিসি) এবং উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও)-কে প্রত্যাহারের দাবি জানিয়ে বিক্ষোভ সমাবেশ করেছে বিএনপি।
সোমবার বিকালে উপজেলা ও পৌর বিএনপির আয়োজনে ওই বিক্ষোভ সমাবেশ উপজেলা বিএনপি’র কার্যালয়ের সামনে অনুষ্ঠিত হয়। উপজেলা বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক আব্দুর রকিব মোল্যা সঞ্চালনায় সমাবেশে বক্তব্য রাখেন সাবেক সিনিয়র সহ.সভাপতি আব্দুর রশিদ মিয়া এবং সাবেক সহ.সভাপতি অবসরপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ রইছউদ্দীন।
বক্তারা অভিযোগ করেন, ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে মন্ত্রিপরিষদ সচিব সাতক্ষীরার অধিবাসী শেখ আব্দুর রশিদ “ইলেকশন ইঞ্জিনিয়ারিং” করে তালা-কলারোয়া আসনে একটি দলের পারপাস সারেন। জেলা প্রশাসক ও উপজেলা নির্বাহী অফিসারের সহযোগিতায় ভোট গ্রহনে ব্যাপক অনিয়ম, দুর্নীতি, স্বজনপ্রীতি ও কারচুপির মাধ্যমে বিএনপির মনোনীত প্রার্থী কেন্দ্রীয় বিএনপির প্রকাশনা সম্পাদক সাবেক এমপি হাবিবুল ইসলাম হাবিবকে পরাজিত করা হয়েছে।
বক্তারা দাবি করেন, অবিলম্বে জেলা প্রশাসক ও উপজেলা নির্বাহী অফিসারকে প্রত্যাহার করা না হলে পরবর্তীতে কঠোর কর্মসূচী ঘোষণা করা হবে। সমাবেশে উপস্থিত ছিলেন পৌর বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক শেখ শরিফুজ্জামান তুহিন, উপজেলা বিএনপির সাবেক যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আশরাফ হোসেন, শেখ আব্দুল কাদের বাচ্চু, অবসরপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ আবু বকর সিদ্দিক, সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক শেখ তামিম আজাদ মেরিন, সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান সহিদুল ইসলাম, মাহফুজার রহমান, আমানুর রহমান, নুরুল ইসলামসহ বিভিন্ন ইউনিয়নের নেতাকর্মীরা।
দলটি রবিবারও একই দাবিতে সংবাদ সম্মেলন করে। জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে ভোট গ্রহনের অনিয়ম এবং প্রশাসনিক দুর্নীতির অভিযোগ নিয়ে তারা সরকারের প্রতি সতর্ক বার্তা দিয়েছেন। নেতারা বলছেন, জনগণ ভোটাধিকার প্রয়োগে বাধা পেয়েছেন এবং নির্বাচনী প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা ব্যাহত হয়েছে।
উপজেলা বিএনপির বক্তব্য, এই ধরনের অনিয়ম এবং প্রশাসনের সহযোগিতায় নির্বাচনী জালিয়াতি গ্রহণযোগ্য নয়। তারা দাবি করেন, ভোটারদের আস্থা ফিরিয়ে আনতে সরকারকে পদক্ষেপ নিতে হবে। এছাড়া, ভবিষ্যতে এই ধরনের অনিয়ম প্রতিরোধের জন্য জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে দায়িত্বশীল কর্মকর্তাদের পরিবর্তন জরুরি।
বিক্ষোভ সমাবেশে উপস্থিত নেতারা এলাকার সাধারণ জনগণকে সচেতন থাকার আহ্বান জানান। একই সঙ্গে তারা বলেন, আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা না হওয়া পর্যন্ত আন্দোলন চালিয়ে যাওয়া হবে।