ঢাকা, বাংলাদেশ ।
  রবিবার, ০১ নভেম্বর ২০২৬,  ১৬ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
গাজীপুরে শ্রমিক-পুলিশ সংঘর্ষ, ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কে ১০ কিমি যানজট শিক্ষা বোর্ডভিত্তিক এইচএসসি ফল: পাসের হারে বড় ব্যবধান হারুন অর রশীদকে চাকরি থেকে বরখাস্ত করল সরকার বেতন-ভাতা বৃদ্ধির দাবিতে আবারও ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়ক অবরোধ বিরোধীদলের লং মার্চের কোনো যৌক্তিকতা নেই: রুহুল কবির রিজভী মিরপুর টেস্টে চার দিনেই বাংলাদেশের বড় হার, ওয়েস্ট ইন্ডিজের জয় ৮ উইকেটে সাবেক বিমানবাহিনী কর্মকর্তা তাহসিফ হত্যা: দীপ ৪ দিনের রিমান্ডে সৌদিতে আগুনে নিহত ৭ বাংলাদেশির লাশ দেশে পৌঁছেছে ময়মনসিংহ বোর্ডে পাসের হার ৫১.৪৪%, সামান্য কমলো সাফল্য ৩০ হাজার টাকা বেতনের দাবিতে মিরপুরে পোশাক শ্রমিকদের সড়ক অবরোধ

বাংলাদেশকে দেখে শিখুন কীভাবে নির্বাচন করতে হয়


  • আপলোড সময় : বুধবার ১৮ ফেব্রুয়ারী, ২০২৬ সময় : ৩:৩২ পিএম

পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় গত ১২ ফেব্রুয়ারি বাংলাদেশে অনুষ্ঠিত ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনের উদাহরণ তুলে ভারতের নির্বাচন কমিশনকে লক্ষ্য করে তীব্র সমালোচনা করেছেন।

রাজ্য সচিবালয় নবান্নে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে তিনি বলেন, ‘দেখুন, বাংলাদেশ কত শান্তিপূর্ণভাবে নির্বাচন সম্পন্ন করেছে। সবাই ভেবেছিল সেখানে সহিংসতা হবে, কিন্তু শেষ পর্যন্ত নির্বাচন শান্তিপূর্ণভাবে অনুষ্ঠিত হয়েছে।’

মুখ্যমন্ত্রী দাবি করেন, ভারত একটি গণতান্ত্রিক দেশ হওয়া সত্ত্বেও দেশের নির্বাচন কমিশন ‘হুমকি সংস্কৃতির’ মাধ্যমে গণতন্ত্রকে ক্ষতিগ্রস্ত করছে। তার মন্তব্য নতুন করে রাজনৈতিক বিতর্ক সৃষ্টি করেছে।

আসানসোলের বিজেপি বিধায়ক অগ্নিমিত্রা পাল মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের মন্তব্যের কঠোর সমালোচনা করেছেন। তিনি বলেন, “বাংলার সীমান্তবর্তী আসনগুলোতে জামায়াতের জয়ে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় খুশি হয়েছেন। বাংলাদেশের নির্বাচনী ফলাফলে তিনি উচ্ছ্বসিত কারণ তিনি জামায়াতের ‘বি-টিম’ চালাচ্ছেন।”

অগ্নিমিত্রা পাল আরও বলেন, ‘নির্বাচন কমিশনের ওপর ক্ষোভ থাকলে আদালতের দ্বারস্থ হওয়া উচিত। কিন্তু কমিশনের বিরুদ্ধে এই ‘তুঘলকি’ মন্তব্য আমরা সমর্থন করি না।’

মুখ্যমন্ত্রী সাতজন বরখাস্ত হওয়া নির্বাচনী কর্মকর্তাদের বিষয়ে সরকারের অবস্থানও স্পষ্ট করেন। তিনি বলেন, ‘ওরা কাজ করবে। নির্বাচনের কাজ ছাড়াও আরও কাজ আছে। জেলায় ওরা ভালো কাজই করবে। ওদের তো আর বরখাস্ত করা হচ্ছে না।’

নির্বাচন কমিশনের উদ্দেশে তিনি প্রশ্ন তুলেছেন, ‘ইআরওদের সাসপেন্ড করার কারণ কী? তাঁদের অপরাধ কী?’ মুখ্যমন্ত্রী বলেন, ‘যদি কেউ ভুল করে থাকত, তা রাজ্য সরকারকে জানানো যেত। আমরা বিনম্রভাবে কমিশনের নির্দেশ মেনে নিয়েছি। কিন্তু শাস্তি দেওয়ার আগে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের আত্মপক্ষ সমর্থনের সুযোগ দেওয়া হয়নি।’

মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ব্যক্তিগতভাবে ওই কর্মকর্তাদের চেনেন এবং উল্লেখ করেন, তারা দিন-রাত কঠোর পরিশ্রম করেছেন। তিনি নির্বাচন প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা ও কর্মকর্তা-কর্মচারীর অবদানকে সম্মান জানান।

তৃণমূলের এ অবস্থানের প্রতিবাদে বিজেপি সাংসদ সুধাংশু ত্রিবেদী বলেন, ‘সুপ্রিম কোর্ট স্পষ্ট করেছে যে এসআইআর একটি প্রক্রিয়া, যা সম্পূর্ণ স্বচ্ছতার সঙ্গে নিয়মিত ব্যবধানে পরিচালিত হয়। তৃণমূল নিজেদের পরাজয় ঠেকাতে অনুপ্রবেশের পক্ষে ওকালতি করছে।’

মুখ্যমন্ত্রীর মন্তব্য ভারতের নির্বাচনী সংস্কৃতি, নির্বাচন কমিশনের স্বচ্ছতা ও কর্মকর্তাদের দায়িত্বশীলতা নিয়ে নতুন বিতর্কের সূচনা করেছে। রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকরা মনে করেন, বাংলাদেশের নির্বাচনকে উদাহরণ হিসেবে তুলে তিনি ভারতের নির্বাচন ব্যবস্থায় সংস্কার ও স্বচ্ছতার ওপর গুরুত্ব আরোপ করেছেন।

মমতার মন্তব্যের মাধ্যমে ভারতের রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক মহলে নতুনভাবে আলোচনা তৈরি হয়েছে। ভোটের প্রক্রিয়া, কমিশনের ভূমিকা এবং কর্মকর্তাদের দায়িত্বের স্বচ্ছতা এখন কেন্দ্রীয় আলোচনার বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে।

আকাশজমিন / আরআর 


এ সম্পর্কিত আরো খবর