ফরিদপুরের নগরকান্দায় বিএনপির সমর্থকদের দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এতে অন্তত ১০ জন আহত হয়েছেন। আহতদের মধ্যে পাঁচজন নগরকান্দা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসাধীন রয়েছেন বলে জানা গেছে।
বৃহস্পতিবার (১৯ ফেব্রুয়ারি) সকাল সাড়ে ৯টার দিকে উপজেলা ডাঙ্গী ইউনিয়নের বাসাগাড়ি গ্রামে আধিপত্য বিস্তার এবং পূর্বশত্রুতার জেরে এ সংঘর্ষ ঘটে। সংঘর্ষে জড়ায় ডাঙ্গী ইউনিয়নে আধিপত্য বিস্তার নিয়ে সাবেক আওয়ামী লীগ সমর্থক ও বর্তমানে বিএনপিতে যোগ দিয়ে বিএনপির সমর্থক হওয়া মুরাদ হোসেন এবং নগরকান্দা উপজেলা বিএনপির সাবেক যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক বদিউজ্জামান মোল্লার সমর্থকেরা।
আহত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি পাঁচজন হলেন বাসাগাড়ি গ্রামের বাসিন্দা রফিকুল ইসলাম (৪০), মিজানুর রহমান (৩৫), সোহেল মোল্লা (৩০), জাহিদুল শেখ (২৮) ও বাবুল হোসেন (৪৫)। আহতরা দুই পক্ষেরই সমর্থক বলে স্থানীয় সূত্র জানিয়েছে।
স্থানীয় বাসিন্দাদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, ডাঙ্গী ইউনিয়নে আধিপত্য বিস্তার নিয়ে মুরাদ হোসেন ও বদিউজ্জামান মোল্লার শত্রুতা অনেক পুরোনো। ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের আগে মুরাদ হোসেন নগরকান্দা উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মো. জামাল হোসেন মিয়ার রাজনীতি করতেন। সে সময়ও বদিউজ্জামানের সঙ্গে তার সমর্থকদের বিভিন্ন সময় সংঘর্ষের ঘটনা ঘটত বলে জানিয়েছেন স্থানীয়রা।
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে ফরিদপুর-২ (নগরকান্দা ও সালথা উপজেলা) বিএনপির মনোনয়ন পাওয়া প্রার্থী এবং বর্তমান পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদের আহ্বানে বিএনপিতে যোগ দেন মুরাদ। এরপর এলাকায় শামা ওবায়েদের পক্ষে নির্বাচনী প্রচারণায় কাজ করেন তিনি। অন্যদিকে, বদিউজ্জামান পুরোনো বিএনপি নেতা হওয়ায় তিনিও শামা ওবায়েদের পক্ষেই ভোট চান। তবে নির্বাচনের পর ওই ইউনিয়নে নতুন বিএনপি মুরাদ হোসেন এবং পুরোনো বিএনপি বদিউজ্জামানের সমর্থকদের মধ্যে উত্তেজনা বাড়তে থাকে।
ডাঙ্গী ইউনিয়ন পরিষদের ইউপি চেয়ারম্যান কাজী আবুল কালাম বলেন, বৃহস্পতিবার সকালে মুরাদের এক সমর্থক বদিউজ্জামানের এক সমর্থককে গালি দিলে দুই পক্ষ সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে। এতে বেশ কয়েকজন আহত হন। তিনি জানান, সংঘর্ষের সময় দুই পক্ষই দূর থেকে ইটপাটকেল ছুঁড়ে সংঘর্ষে জড়ায়। এতে দুইজনের মাথা ফেটে যায়, একজনের পা ভেঙে যায় এবং আরও কয়েকজন ছোটখাটো আঘাত পান।
ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে নগরকান্দা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) গোলাম রাসুল সামদানী আজাদ জানান, খবর পেয়ে পুলিশ ও সেনাবাহিনীর সদস্যরা ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন। বর্তমানে এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন রয়েছে। তিনি বলেন, “এ ঘটনায় এখনও কোনো লিখিত অভিযোগ পাইনি। অভিযোগ পেলে তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
এদিকে, এ বিষয়ে ওই দুই পক্ষের কারো সঙ্গে কথা বলা সম্ভব হয়নি। তবে নগরকান্দা উপজেলা বিএনপির সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক শওকত আলী শরীফ বলেন, দলের নাম ভাঙিয়ে কোনো অপকর্ম বা সংঘর্ষের দায় দল নেবে না। তিনি বলেন, “আমরা এসব ব্যাপারে আগেই আমাদের বার্তা পরিষ্কার করেছি। এ ব্যাপারে আমরা আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে অনুরোধ জানাব, তারা যেন আইনগত ব্যবস্থা নেয়।”
আকাশজমিন / আরআর