চট্টগ্রাম থেকে ঢাকা আনার পথে সোমবার রাতেই মারা যান ৪০ বছর বয়সী নুরজাহান আক্তার রানী। মঙ্গলবার সকাল ৭টার দিকে মারা যান তার ১৬ বছর বয়সী ছেলে শাওন। পরে মঙ্গলবার বেলা ১২টার দিকে ৪০ বছর বয়সী সামির আহমেদের মৃত্যু হয় বলে জানান জাতীয় বার্ন অ্যান্ড প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউট-এর সহকারী অধ্যাপক শাওন বিন রহমান।
শরীরে ৪৫ শতাংশ দগ্ধ নিয়ে জাতীয় বার্ন অ্যান্ড প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে চিকিৎসাধীন ছিলেন সামির। তিনি শাওনের চাচা। বর্তমানে দগ্ধ ছয়জন চিকিৎসাধীন রয়েছেন এবং তাদের অবস্থা আশঙ্কাজনক বলে জানিয়েছেন চিকিৎসকরা।
ঘটনাটি ঘটে সোমবার ভোর সাড়ে ৪টার দিকে। হালিশহর এইচ ব্লকের ‘হালিমা মঞ্জিল’ নামের ছয়তলা ভবনের তৃতীয় তলার একটি ফ্ল্যাটে বিকট শব্দে বিস্ফোরণের পরপরই আগুন ধরে যায়। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, বিস্ফোরণের পর শরীরে আগুন নিয়ে বাসিন্দারা একে একে বাইরে বের হয়ে আসেন। সেহেরি শেষ হওয়ার আগ মুহূর্তে এ দুর্ঘটনা ঘটে।
দুর্ঘটনায় একই পরিবারের তিন শিশুসহ ৯ জন দগ্ধ হন। নিহত রানী, শাওন ও সামির ছাড়া দগ্ধ অন্যরা হলেন—রানীর স্বামী সাখাওয়াত (৪৬), তার আরেক সন্তান উম্মে আইমান স্নিগ্ধা (১০), সাখাওয়াতের ছোট ভাই সামিরের স্ত্রী আশুরা আক্তার পাখি (৩০), তাদের দুই সন্তান আয়েশা (৪) ও ফারহান আহমেদ আনাছ (৬) এবং সাখাওয়াতের আরেক ভাই শিপন হোসাইন (৩১)।
চিকিৎসকদের তথ্য অনুযায়ী, আশুরা আক্তার পাখি ও সাখাওয়াতের শরীর শতভাগ দগ্ধ হয়েছে। এছাড়া শিপনের শরীরের ৮০ শতাংশ, আয়েশার ৪৫ শতাংশ, আইমানের ৩৮ শতাংশ এবং আনাছের ৩০ শতাংশ পুড়ে গেছে। তাদের সবার অবস্থাই সংকটাপন্ন।
প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, গ্যাস লাইনের লিকেজ থেকে বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটতে পারে। তবে সুনির্দিষ্ট কারণ জানতে তদন্ত চলছে। স্থানীয়রা জানান, বিস্ফোরণের শব্দে পুরো এলাকা কেঁপে ওঠে এবং মুহূর্তেই আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।
এই মর্মান্তিক ঘটনায় এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে। একই পরিবারের তিনজনের মৃত্যু ও অন্যদের সংকটাপন্ন অবস্থায় চিকিৎসাধীন থাকা নিয়ে স্বজনদের আহাজারিতে হাসপাতাল প্রাঙ্গণ ভারী হয়ে উঠেছে।
আকাশজমিন / আরআর