নারায়ণগঞ্জে র্যাব-১১ ও ভোক্তা অধিকার অধিদপ্তরের যৌথ অভিযানে একটি ফুড কোম্পানিতে অভিযান চালিয়ে ভেজাল জুস ও শিশুখাদ্য তৈরির অভিযোগে কারখানার মালিকপক্ষকে ৫০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে। অভিযানে বিপুল পরিমাণ ভেজাল পণ্য জব্দ করা হয়।
দুপুরে ফতুল্লার দেলপাড়া এলাকায় লাবনী ফুড কোম্পানি লিমিটেডে এ অভিযান পরিচালনা করে র্যাব-১১ ও ভোক্তা অধিকার অধিদপ্তরের ভ্রাম্যমাণ আদালত। গোপন সংবাদের ভিত্তিতে এই অভিযান পরিচালনা করা হয় বলে সংশ্লিষ্টরা জানান।
র্যাব-১১ জানায়, দীর্ঘদিন ধরে ওই কারখানায় ভেজাল জুস ও শিশুখাদ্য উৎপাদনের অভিযোগ পাওয়া যাচ্ছিল। অভিযান চলাকালে কারখানার ভেতরে বিপুল পরিমাণ ভেজাল শিশুখাদ্য ও জুস পাওয়া যায়, যেগুলো বিভিন্ন ধরনের রং ও কেমিকেল ব্যবহার করে প্রস্তুত করা হচ্ছিল। এসব পণ্যের মান নিয়ন্ত্রণ ও স্বাস্থ্যবিধি অনুসরণ করা হচ্ছিল না বলে প্রাথমিক তদন্তে প্রমাণ পাওয়া গেছে।
অভিযান শেষে ভোক্তা অধিকার অধিদপ্তরের কর্মকর্তাদের উপস্থিতিতে কারখানার মালিকপক্ষকে নগদ ৫০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয় এবং অনিয়ম সংশোধনের নির্দেশ দেওয়া হয়। পাশাপাশি জব্দকৃত ভেজাল পণ্য আইন অনুযায়ী ধ্বংস বা প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া শুরু করা হয়েছে।
র্যাব-১১ জানায়, নকল ও ভেজাল পণ্যের বিরুদ্ধে এ ধরনের অভিযান নিয়মিতভাবে পরিচালনা করা হবে। জনস্বাস্থ্য সুরক্ষা ও ভোক্তাদের অধিকার রক্ষায় কঠোর নজরদারি অব্যাহত থাকবে বলে তারা জানায়। যেসব প্রতিষ্ঠান অবৈধভাবে খাদ্যপণ্য উৎপাদন ও বাজারজাত করছে তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ওই কারখানাটি দীর্ঘদিন ধরে এলাকায় কার্যক্রম পরিচালনা করছিল। তবে পণ্যের গুণগত মান নিয়ে আগেও অভিযোগ উঠেছিল। সর্বশেষ গোপন তথ্যের ভিত্তিতে যৌথ বাহিনী অভিযান পরিচালনা করে এবং অনিয়মের প্রমাণ পায়।
ভোক্তা অধিকার অধিদপ্তরের পক্ষ থেকে জানানো হয়, খাদ্যপণ্যের মান নিশ্চিত করতে নিয়মিত বাজার মনিটরিং ও কারখানায় অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে। জনস্বার্থে এ ধরনের অভিযান ভবিষ্যতেও চলমান থাকবে।
অভিযান কার্যক্রমে উপস্থিত ছিলেন হৃদয় রঞ্জন বনিক, সহকারি পরিচালক, ভোক্তা অধিকার অধিদপ্তর এবং ক্যাপ্টেন রওনক এরফান খান, অবস অফিসার, র্যাব-১১। তারা জানান, আইনের আওতায় থেকে অপরাধীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে এবং তদন্ত চলমান রয়েছে।
আকাশজমিন / আরআর