ইরানের তেহরানে হামলার পর ইসরায়েলে দেশজুড়ে জরুরি অবস্থা ঘোষণা করা হয়েছে। শনিবার প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইসরায়েল কাটজ এই ঘোষণা দেন। তিনি জানান, সম্ভাব্য প্রতিশোধমূলক হামলার আশঙ্কায় এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।
সরকারি নির্দেশনায় বলা হয়েছে, নাগরিকরা নিরাপদ স্থানের কাছাকাছি অবস্থান করুন। অপ্রয়োজনীয় যাতায়াত এড়িয়ে চলা এবং নিরাপত্তা বাহিনীর নির্দেশ মেনে চলার জন্য জনসাধারণকে সতর্ক করা হয়েছে। হামলার সময় দেশজুড়ে সতর্কতামূলক সাইরেন বাজানো হয়।
ইসরায়েলের সামরিক বাহিনী জানায়, দেশের দিকে সম্ভাব্য ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপের সম্ভাবনা মাথায় রেখে আগাম সতর্কতা জারি করা হয়েছে। তবে এখন পর্যন্ত ইসরায়েলের ভূখণ্ডে কোনো ক্ষেপণাস্ত্র আঘাত হানার খবর পাওয়া যায়নি।
এর আগে শনিবার সকালে ইসরায়েল ইরানের রাজধানী তেহরানে হামলা চালায়। এ ঘটনার পর দুই দেশের মধ্যে উত্তেজনা তীব্রভাবে বেড়ে গেছে। পরিস্থিতি ঘনিষ্ঠভাবে পর্যবেক্ষণ করছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।
ইসরায়েলের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, জরুরি অবস্থা বাস্তবায়নের মাধ্যমে তারা দেশের নাগরিকদের সুরক্ষা নিশ্চিত করতে চাইছে। সমস্ত নিরাপত্তা বাহিনী প্রস্তুত রয়েছে এবং প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করবে।
ইরানের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম জানিয়েছে, তেহরান শহরের বিভিন্ন এলাকায় বিস্ফোরণের শব্দ শোনা গেছে। হামলার পরে স্থানীয় পুলিশ ও নিরাপত্তা সংস্থাগুলো পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রেখেছে এবং নাগরিকদের নিরাপদে সরানোর ব্যবস্থা করেছে।
মধ্যপ্রাচ্যে ইরান ও ইসরায়েলের মধ্যে উত্তেজনা দীর্ঘদিন ধরে বিদ্যমান। সাম্প্রতিক হামলা এ অঞ্চলে রাজনৈতিক ও সামরিক চাপ আরও বাড়িয়েছে। আন্তর্জাতিক মহল উভয় দেশকে উত্তেজনা কমাতে আহ্বান জানাচ্ছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ছোট ঘটনার কারণে বড় সামরিক প্রতিক্রিয়া দেখা দিতে পারে।
ইসরায়েলের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, নাগরিকরা নিরাপদে থাকুন এবং সরকারি নির্দেশনা মেনে চলুন। জরুরি অবস্থা দেশের সমস্ত এলাকায় প্রযোজ্য। নিরাপত্তা বাহিনী তৎপর থাকবে যাতে হামলার সম্ভাব্য ক্ষতি কমানো যায়।
এই পদক্ষেপকে মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা নিয়ন্ত্রণের একটি সতর্কতামূলক ব্যবস্থা হিসেবে দেখা হচ্ছে। এছাড়া ইসরায়েলের সরকার আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে জানিয়েছে, দেশের নিরাপত্তা ও নাগরিক সুরক্ষার দায়িত্ব তারা অগ্রাধিকার হিসেবে বিবেচনা করছে।